আমোষ
৫ “হে ইজরায়েলের পরিবার, এই বার্তা শোনো, যেটা আমি তোমাদের একটা শোকের গানের মতো করে শোনাচ্ছি:
২ ‘কুমারী ইজরায়েল পড়ে গিয়েছে,
সে আর উঠতে পারবে না।
তাকে নিজের জমিতে পরিত্যাগ করা হয়েছে,
তাকে ওঠানোর মতো কেউ নেই।’
৩ “কারণ নিখিলবিশ্বের প্রভু যিহোবা এই কথা বলেন:
‘যে-নগর এক হাজার জন সৈন্য নিয়ে বের হবে, সেটার মাত্র এক-শো জন সৈন্য অবশিষ্ট থাকবে
আর যে-নগর এক-শো জন সৈন্য নিয়ে বের হবে, সেটার মাত্র দশ জন সৈন্য অবশিষ্ট থাকবে,
ইজরায়েলের পরিবারের প্রতি এমনটাই ঘটবে।’
৪ “কারণ যিহোবা ইজরায়েলের পরিবারকে এই কথা বলেন:
‘আমার খোঁজ করো আর বেঁচে থাকো।
৫ বৈথেলের খোঁজ কোরো না,
গিল্গলে যেয়ো না কিংবা সীমানা পার করে বের্-শেবায় যেয়ো না
কারণ গিল্গল অবশ্যই বন্দিত্বে যাবে
আর বৈথেল ধ্বংস* হয়ে যাবে।
৬ যিহোবার খোঁজ করো আর বেঁচে থাকো,
যাতে তিনি যোষেফের পরিবারকে আগুনের মতো ধ্বংস করে না দেন
আর বৈথেলকে এমনভাবে পুড়িয়ে না দেন যে, কেউ সেই আগুন নেভাতে পারবে না।
৭ তোমরা ন্যায়বিচারকে সোমরাজে* পরিণত কর
আর যা-কিছু সঠিক, সেগুলোকে তোমরা মাটিতে ছুড়ে ফেল।
৮ যিনি কিমা* ও কেসিল* নামের তারামণ্ডল তৈরি করেছেন,
যিনি ঘুটঘুটে অন্ধকারকে সকাল করে দেন,
যিনি দিনকে রাতের মতোই অন্ধকার করে দেন,
যিনি সমুদ্রের জলকে ডাকেন, যাতে সেটাকে পৃথিবীতে ঢেলে দিতে পারেন
—তাঁর নাম যিহোবা।
৯ তিনি হঠাৎ শক্তিশালী ব্যক্তিদের ধ্বংস করে দেবেন
আর দৃঢ় দুর্গগুলোকে বিনষ্ট করে দেবেন।
১০ তারা সেই ব্যক্তিদের ঘৃণা করে, যারা নগরের দরজায় ধমক দেয়,
তারা সেই ব্যক্তিদের সহ্য করতে পারে না, যারা সত্য কথা বলে।
১১ যেহেতু তোমরা গরিবদের কাছ থেকে খাজনা দাবি কর
এবং জোর করে তাদের কাছ থেকে শস্য কেড়ে নাও,
তাই তোমরা কাটা পাথর দিয়ে যে-বাড়িগুলো তৈরি করেছ, সেগুলোতে বাস করতে থাকবে না
কিংবা তোমরা যে-ভালো ভালো আঙুর গাছগুলো লাগিয়েছ, সেগুলোর দ্রাক্ষারস* পান করবে না।
১২ কারণ আমি জানি, তোমরা কত বার বিদ্রোহ* করেছ
এবং তোমরা কত বড়ো বড়ো পাপ করেছ
—যারা সঠিক কাজ করে, তোমরা তাদের হেনস্থা কর,
তোমরা ঘুষ নাও
এবং তোমরা নগরের দরজায় গরিবদেরকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত কর।
১৩ তাই, যাদের বোঝার ক্ষমতা রয়েছে, সেই ব্যক্তিরা সেইসময় চুপ করে থাকবে
কারণ সেটা বিপর্যয়ের সময় হবে।
১৪ যা ভালো, সেটার খোঁজ করো, যা মন্দ, সেটার খোঁজ কোরো না,
যাতে তোমরা বেঁচে থাকতে পার।
এতে স্বর্গীয় বাহিনীর শাসক যিহোবা তোমাদের সঙ্গে থাকবেন,
যেমনটা তোমরা বল যে, তিনি তোমাদের সঙ্গে রয়েছেন।
১৫ যা মন্দ, সেটাকে ঘৃণা করো এবং যা ভালো, সেটাকে ভালোবাসো,
নগরের দরজায় ন্যায়বিচার হোক।
এতে স্বর্গীয় বাহিনীর ঈশ্বর যিহোবা হয়তো
যোষেফের অবশিষ্ট লোকদের প্রতি অনুগ্রহ দেখাবেন।’
১৬ “তাই যিহোবা, স্বর্গীয় বাহিনীর ঈশ্বর যিহোবা, এই কথা বলেন:
‘নগরের সমস্ত খোলা জায়গায় তারা জোরে জোরে কাঁদবে
আর সমস্ত রাস্তায় তারা বলবে, “হায় হায়!”
তারা শোক করার জন্য কৃষকদের ডেকে আনবে
আর জোরে জোরে কাঁদার জন্য শোক করার লোকদের ভাড়া করে আনবে।’
১৭ যিহোবা বলেন, ‘প্রতিটা আঙুর খেতে লোকেরা জোরে জোরে কাঁদবে
কারণ আমি তোমার মধ্য দিয়ে যাব।’
১৮ ‘ধিক সেই ব্যক্তিদের, যারা যিহোবার দিনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকে!
তোমরা কী মনে কর? যিহোবার দিনে তোমাদের প্রতি কী ঘটবে?
সেটা আলোর নয় বরং অন্ধকারের দিন হবে।
১৯ সেই দিনটা এমন হবে, যেন একজন ব্যক্তি সিংহের কাছ থেকে পালিয়ে ভল্লুকের সামনে গিয়ে পড়ল
এবং সে যখন নিজের ঘরে ঢুকে দেওয়ালে হাত দিয়ে ভর দিল, তখন একটা সাপ তাকে কামড়াল।
২০ যিহোবার দিন আলোর নয় বরং অন্ধকারের দিন হবে।
সেটা উজ্জ্বল আলোর নয় বরং ঘুটঘুটে অন্ধকারের দিন হবে।
২১ আমি তোমাদের উৎসবগুলোকে ঘৃণা করি, সেগুলোকে জঘন্য বলে মনে করি,
আমি তোমাদের বিশেষ সভাগুলোর সুগন্ধে খুশি হই না।
২২ তোমরা হোমবলি এবং উপহার হিসেবে দেওয়া বলি উৎসর্গ করলেও
আমি সেগুলোতে খুশি হব না
আর আমি তোমাদের মোটাসোটা পশুর মঙ্গলার্থক বলিগুলোতে সন্তুষ্ট হব না।
২৩ তোমার গানের আওয়াজ বন্ধ করো,
আমি তোমার তারওয়ালা বাদ্যযন্ত্রের সংগীত শুনতে চাই না।
২৪ ন্যায়বিচার নদীর মতো বইতে থাকুক,
সেটা চিরকাল ধরে বইতে থাকা স্রোতের মতো হোক।
২৫ হে ইজরায়েলের পরিবার, তোমরা কি প্রান্তরে সেই ৪০ বছর ধরে
আমাকে বলি এবং উপহার হিসেবে দেওয়া বলি দিয়েছিলে?
২৬ এবার তোমাদের নিজেদের রাজা সিক্কূৎ ও কীয়ূনকে* বয়ে নিয়ে যেতে হবে,
তোমরা নিজেদের জন্য যে-মূর্তিগুলো তৈরি করেছিলে, সেই মূর্তিগুলোকে, তোমাদের দেবতার তারাকে, বয়ে নিয়ে যেতে হবে।
২৭ আমি তোমাদের দামেস্কের চেয়েও দূরে বন্দিত্বে পাঠিয়ে দেব।’ যাঁর নাম স্বর্গীয় বাহিনীর ঈশ্বর যিহোবা, তিনি এই কথা বলেছেন।”