সখরিয়
৮ আবারও স্বর্গীয় বাহিনীর শাসক যিহোবার বার্তা আমার কাছে এল, তিনি আমাকে বললেন: ২ “স্বর্গীয় বাহিনীর শাসক যিহোবা এই কথা বলেন, ‘সিয়োনের প্রতি আমার গভীর প্রেম রয়েছে আর আমি প্রচণ্ড রেগে গিয়ে তার পক্ষসমর্থন করব এবং তাকে সুরক্ষা জোগাব।’”
৩ “যিহোবা এই কথা বলেন, ‘আমি সিয়োনে ফিরে আসব আর জেরুসালেমে বাস করব। জেরুসালেমকে সত্যের* নগরী বলা হবে আর স্বর্গীয় বাহিনীর শাসক যিহোবার পর্বতকে পবিত্র পর্বত বলা হবে।’”
৪ “স্বর্গীয় বাহিনীর শাসক যিহোবা এই কথা বলেন, ‘বয়স্ক লোকেরা আবারও জেরুসালেমের খোলা জায়গাগুলোতে বসবে আর তাদের প্রত্যেকের হাতে নিজের লাঠি থাকবে কারণ তারা অনেক দিন বাঁচবে। ৫ আর নগরের খোলা জায়গাগুলো ছেলে-মেয়েদের দিয়ে ভরে থাকবে, যারা খেলাধুলা করবে।’”
৬ “স্বর্গীয় বাহিনীর শাসক যিহোবা এই কথা বলেন, ‘সেই দিন এই অবশিষ্ট লোকদের কাছে এটা অসম্ভব বলে মনে হলেও, এটা কি আমার কাছে অসম্ভব?’ স্বর্গীয় বাহিনীর শাসক যিহোবা এই কথা ঘোষণা করেছেন।”
৭ “স্বর্গীয় বাহিনীর শাসক যিহোবা এই কথা বলেন, ‘দেখো, আমি আমার লোকদের পূর্ব দিকের এবং পশ্চিম দিকের দেশগুলো* থেকে উদ্ধার করছি। ৮ আর আমি তাদের নিয়ে আসব এবং তারা জেরুসালেমে বাস করবে। তারা আমার লোক হবে এবং আমি তাদের ঈশ্বর হব আর আমি তাদের প্রতি বিশ্বস্ততা* দেখাব এবং তাদের প্রতি ন্যায়বিচার করব।’”
৯ “স্বর্গীয় বাহিনীর শাসক যিহোবা এই কথা বলেন, ‘তোমরা, যারা এখন ভাববাদীদের মুখ থেকে এই কথাগুলো শুনছ, তোমাদের হাত শক্তিশালী হোক।* তোমরা যে-কথাগুলো শুনছ, সেগুলো সেই দিনও বলা হয়েছিল, যে-দিন স্বর্গীয় বাহিনীর শাসক যিহোবার গৃহের ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছিল, যেন মন্দির নির্মাণ করা হয়। ১০ কারণ এর আগে লোকদের মজুরি দেওয়া হত না কিংবা পশুদের জন্য ভাড়া দেওয়া হত না আর শত্রুর কারণে যাওয়া-আসা করা নিরাপদ ছিল না কারণ আমি সমস্ত মানুষকে একে অন্যের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছিলাম।’
১১ “স্বর্গীয় বাহিনীর শাসক যিহোবা ঘোষণা করেন, ‘কিন্তু, এখন আমি এই অবশিষ্ট লোকদের সঙ্গে আর আগের মতো আচরণ করব না। ১২ কারণ শান্তির বীজ বোনা হবে, আঙুর গাছ নিজের ফল দেবে, পৃথিবী নিজের ফসল দেবে এবং আকাশ নিজের শিশির দেবে। আর আমি এই অবশিষ্ট লোকদের এই সমস্ত কিছু উত্তরাধিকার হিসেবে দেব। ১৩ হে যিহূদার পরিবার এবং ইজরায়েলের পরিবার, তোমরা জাতিগুলোর মাঝে অভিশাপের পাত্র হয়েছিলে। কিন্তু, আমি তোমাদের রক্ষা করব আর তোমরা এক আশীর্বাদ হয়ে উঠবে। তোমরা ভয় পেয়ো না! তোমাদের হাত শক্তিশালী হোক।’*
১৪ “কারণ স্বর্গীয় বাহিনীর শাসক যিহোবা এই কথা বলেন, ‘স্বর্গীয় বাহিনীর শাসক যিহোবা বলেন, “ঠিক যেভাবে তোমাদের পূর্বপুরুষেরা আমাকে রাগিয়ে তুলেছিল বলে আমি তোমাদের উপর বিপর্যয় আনার জন্য দৃঢ় সংকল্প নিয়েছিলাম আর আমি সেই বিষয়ে অনুশোচনা করিনি, ১৫ একইভাবে এখন আমি জেরুসালেম এবং যিহূদার পরিবারের মঙ্গল করার জন্য দৃঢ় সংকল্প নিয়েছি। তোমরা ভয় পেয়ো না!”’
১৬ “‘তোমরা এই বিষয়গুলো করবে: তোমরা একে অন্যকে সত্য কথা বলবে আর তোমরা যখন তোমাদের নগরের দরজাগুলোতে বিচার করবে, তখন তোমরা সত্য কথা বলবে এবং লোকদের মধ্যে শান্তি বজায় রাখতে সাহায্য করবে। ১৭ তোমরা মনে মনে একে অন্যের সর্বনাশ করার জন্য ষড়যন্ত্র করবে না এবং মিথ্যা শপথ করবে না কারণ আমি এই সমস্ত কিছু ঘৃণা করি।’ যিহোবা এই কথা ঘোষণা করেছেন।”
১৮ আবারও স্বর্গীয় বাহিনীর শাসক যিহোবার বার্তা আমার কাছে এল, তিনি আমাকে বললেন: ১৯ “স্বর্গীয় বাহিনীর শাসক যিহোবা এই কথা বলেন, ‘চতুর্থ মাসে, পঞ্চম মাসে, সপ্তম মাসে এবং দশম মাসে তোমরা যে-সমস্ত দিনে উপবাস করতে, সেই দিনগুলো যিহূদার পরিবারের জন্য আনন্দ ও উল্লাসের দিন হবে, সেগুলো আনন্দের উৎসব হয়ে উঠবে। তাই, সত্য ও শান্তিকে ভালোবাসো।’
২০ “স্বর্গীয় বাহিনীর শাসক যিহোবা এই কথা বলেন, ‘এরপর, এমন এক সময় আসবে, যখন বিভিন্ন জাতির লোক এবং অনেক নগরের বাসিন্দা আসবে। ২১ আর এক নগরের বাসিন্দা আরেক নগরের বাসিন্দার কাছে গিয়ে বলবে: “এসো, আমরা স্বর্গীয় বাহিনীর শাসক যিহোবার অনুসন্ধান করতে যাই এবং যিহোবার অনুগ্রহ পাওয়ার জন্য মন থেকে বিনতি করতে যাই। আমিও যাচ্ছি।” ২২ আর অনেক জাতির লোক এবং অনেক শক্তিশালী দেশের লোক স্বর্গীয় বাহিনীর শাসক যিহোবার অনুসন্ধান করার জন্য জেরুসালেমে আসবে আর তারা যিহোবার অনুগ্রহ পাওয়ার জন্য বিনতি করবে।’
২৩ “স্বর্গীয় বাহিনীর শাসক যিহোবা এই কথা বলেন, ‘সেই সময়ে সমস্ত জাতির এবং সমস্ত ভাষার দশ জন লোক এক জন যিহুদির* পোশাক* ধরবে, হ্যাঁ, তারা শক্ত করে তার পোশাক ধরবে এবং বলবে: “আমরা তোমাদের সঙ্গে যেতে চাই কারণ আমরা শুনেছি, ঈশ্বর তোমাদের সঙ্গে রয়েছেন।”’”