সফনিয়
৩ ধিক সেই বিদ্রোহী, দূষিত ও অত্যাচারী নগরীকে!
২ সে কারো কথার বাধ্য হয়নি, সে শাসন গ্রহণ করেনি।
সে যিহোবার উপর আস্থা রাখেনি, সে তার ঈশ্বরের নিকটবর্তী হয়নি।
৩ তার মধ্যে থাকা অধ্যক্ষেরা গর্জনকারী সিংহের মতো।
তার যাজকেরা রাতে বের হওয়া নেকড়ের মতো,
তারা সকালে চিবোনোর জন্য একটা হাড়ও ছাড়ে না।
৪ তার ভাববাদীরা রূঢ় ও বিশ্বাসঘাতক।
তার যাজকেরা পবিত্র বিষয়গুলোকে কলুষিত করে,
তারা আইন লঙ্ঘন করে।
৫ যিহোবা ন্যায্য, তিনি তার মাঝে বাস করেন, তিনি কোনো ভুল করেন না।
ঠিক যেমন প্রতিদিন সূর্য ওঠে,
তেমনই তিনি প্রতি সকালে তাঁর বিচার সংক্রান্ত রায়গুলো জানান।
কিন্তু, মন্দ লোকদের কোনো লজ্জাশরম নেই।
৬ “আমি জাতিগুলোকে ধ্বংস করে দিলাম, তাদের দুর্গগুলো* বিনষ্ট হল।
আমি তাদের রাস্তাগুলো ধ্বংস করে দিলাম, যাতে কেউ সেগুলো দিয়ে যাতায়াত করতে না পারে।
তাদের নগরগুলো ধ্বংস হয়ে পড়ে থাকল, সেখানে কোনো মানুষ, কোনো বাসিন্দা থাকল না।
৭ আমি বললাম, ‘তুমি নিশ্চিতভাবেই আমাকে ভয় করবে এবং শাসন* গ্রহণ করবে,’
যাতে তার বাসস্থান ধ্বংস হয়ে না যায়
—আমি অবশ্যই এই সমস্ত কিছুর জন্য তার কাছ থেকে হিসাব চাইব।*
কিন্তু, তাদের মনে মন্দ কাজ করার প্রবল ইচ্ছা ছিল।
৮ যিহোবা ঘোষণা করেন: ‘তাই, সেই দিন পর্যন্ত আমার অপেক্ষায় থাক,*
যে-দিন আমি লুট-করা জিনিস নিতে উঠব*
কারণ আমার বিচার সংক্রান্ত রায় এই, যেন জাতিগুলোকে জড়ো করা হয়, রাজ্যগুলোকে একত্রিত করা হয়,
যাতে তাদের উপর আমার প্রচণ্ড রাগ, আমার ক্রোধের আগুন পুরোপুরিভাবে ঢেলে দেওয়া হয়
কারণ আমার ক্রোধের আগুন পুরো পৃথিবীকে পুড়িয়ে ছারখার করে দেবে।
৯ কারণ তখন আমি লোকদের এক বিশুদ্ধ ভাষা দেব,
যাতে তারা সবাই যিহোবার নামে ডাকে
এবং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তাঁর সেবা করে।’*
১০ যারা আমার কাছে বিনতি করে, আমার সেই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা লোকেরা
ইথিওপিয়ার নদীগুলোর এলাকা থেকে আমার জন্য উপহার নিয়ে আসবে।
১১ তুমি আমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে যে-সমস্ত কাজ করেছ,
সেগুলোর জন্য সেই দিন তোমাকে লজ্জিত করা হবে না
কারণ আমি তোমার মধ্য থেকে সেই অহংকারী লোকদের দূর করে দেব, যারা বড়াই করে
এবং তুমি আর কখনো আমার পবিত্র পর্বতে অহংকার করবে না।
১২ আমি তোমার মাঝে নম্র ও অভাবী লোকদের থাকতে দেব
আর তারা যিহোবার নামে আশ্রয় নেবে।
১৩ ইজরায়েলের অবশিষ্ট লোকেরা কোনো মন্দ কাজ করবে না,
তারা মিথ্যা কথা বলবে না কিংবা নিজেদের মুখে কোনো প্রতারণাপূর্ণ কথা বলবে না।
তারা খাওয়া-দাওয়া করবে* এবং শোবে আর কেউ তাদের ভয় দেখাবে না।”
১৪ হে সিয়োনের মেয়ে, আনন্দে চিৎকার করো!
হে ইজরায়েল, জয় লাভ করার আনন্দে চিৎকার করো!
হে জেরুসালেমের মেয়ে, তোমার সমস্ত হৃদয় দিয়ে আনন্দ করো এবং উল্লাস করো!
১৫ যিহোবা তোমার শাস্তি দূর করেছেন।
তিনি তোমার শত্রুকে দূর করে দিয়েছেন।
ইজরায়েলের রাজা যিহোবা তোমার মাঝে রয়েছেন।
তুমি আর বিপর্যয়কে ভয় করবে না।
১৬ সেই দিন জেরুসালেমকে বলা হবে:
“হে সিয়োন, ভয় পেয়ো না।
তোমার হাত দুর্বল হতে দিয়ো না।
১৭ তোমার ঈশ্বর যিহোবা তোমার মাঝে রয়েছেন।
তিনি শক্তিশালী, তাই তিনি রক্ষা করবেন।
তিনি তোমার কারণে খুব আনন্দ করবেন।
যেহেতু তিনি তোমাকে ভালোবাসেন, তাই তিনি শান্ত* হবেন।
তিনি তোমার কারণে আনন্দে উল্লাস করবেন।
১৮ আমি সেই লোকদের একত্রিত করব, যারা তোমার উৎসবগুলোতে আসতে পারেনি বলে দুঃখ করছে,
তারা বন্দিত্বের কারণে তোমার কাছে আসতে পারেনি আর তাদের শত্রুরা তাদের নিয়ে উপহাস করেছিল।
১৯ দেখো! সেই সময় আমি সেইসমস্ত লোকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেব, যারা তোমার উপর অত্যাচার করে
আর আমি সেই ব্যক্তিকে রক্ষা করব, যে খোঁড়াচ্ছে,
আমি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়া লোকদের একত্রিত করব।
যে-সমস্ত দেশে তাদের লজ্জিত করা হয়েছিল,
সেইসমস্ত দেশে আমি তাদের জন্য প্রশংসা ও খ্যাতি* নিয়ে আসব।
২০ সেই সময় আমি তোমাকে ফিরিয়ে আনব,
সেই সময় আমি তোমাকে একত্রিত করব।
কারণ আমি যখন বন্দিত্বে থাকা তোমার লোকদের তোমার চোখের সামনে একত্রিত করে ফিরিয়ে আনব,
তখন পৃথিবীর সমস্ত লোকের মাঝে আমি তোমার জন্য খ্যাতি* ও প্রশংসা নিয়ে আসব।” যিহোবা এই কথা বলেছেন।