যিহিষ্কেল
৩৩ আর যিহোবার এই বার্তা আমার কাছে এল: ২ “হে মানুষের ছেলে, তোমার লোকদের ছেলেদের সঙ্গে কথা বলো আর তাদের বলো,
“‘ধরো, আমি দেশের উপর একটা তলোয়ার নিয়ে এলাম আর সেই দেশের সমস্ত লোক একজন ব্যক্তিকে বেছে নিয়ে তাকে তাদের পাহারাদার করে তুলল ৩ আর সে দেশের উপর যে-তলোয়ার আসছে, সেটাকে দেখে শিঙা বাজাল এবং লোকদের সতর্ক করল। ৪ এবার কেউ যদি সেই শিঙার আওয়াজ শোনে কিন্তু সেই সতর্কবাণীতে কান না দেয় আর তলোয়ার এসে তার জীবন কেড়ে নেয়, তা হলে সে নিজেই নিজের মৃত্যুর জন্য দায়ী হবে। ৫ সে শিঙার আওয়াজ শুনেও সতর্কবাণীতে কান দেয়নি। সে নিজেই নিজের মৃত্যুর জন্য দায়ী হবে। সে যদি সতর্কবাণীতে কান দিত, তা হলে তার জীবন রক্ষা পেত।
৬ “‘কিন্তু, সেই পাহারাদার যদি তলোয়ারটা আসতে দেখেও শিঙা না বাজায় আর লোকেরা কোনো সতর্কবাণী না পায় আর তলোয়ারটা এসে তাদের মধ্য থেকে একজনের জীবন কেড়ে নেয়, তা হলে সেই ব্যক্তি নিজের ভুলের জন্য মারা যাবে। কিন্তু, আমি সেই পাহারাদারকে সেই ব্যক্তির রক্তের জন্য দায়ী করব।’*
৭ “হে মানুষের ছেলে, আমি তোমাকে ইজরায়েলের পরিবারের জন্য পাহারাদার হিসেবে নিযুক্ত করেছি। যখন তুমি আমার মুখ থেকে কোনো কথা শুনবে, তখন তুমি আমার হয়ে তাদের সাবধান করবে। ৮ যখন আমি কোনো মন্দ ব্যক্তিকে বলি, ‘হে মন্দ ব্যক্তি, তুমি অবশ্যই মরবে!’ অথচ তুমি তার মন্দ পথ পালটানোর বিষয়ে তাকে সাবধান না কর, তখন সেই মন্দ ব্যক্তি নিজের ভুলের জন্য মারা যাবে, কিন্তু আমি তোমাকে তার রক্তের জন্য দায়ী করব।* ৯ কিন্তু, তুমি যদি কোনো মন্দ ব্যক্তিকে সাবধান কর, যেন সে নিজের পথ থেকে ফিরে আসে অথচ সে নিজের পথ পালটাতে প্রত্যাখ্যান করে, তা হলে সে নিজের ভুলের জন্য মারা যাবে, কিন্তু তুমি নিশ্চিতভাবেই নিজের জীবন বাঁচাবে।
১০ “আর হে মানুষের ছেলে, তুমি ইজরায়েলের পরিবারকে বলো, ‘তোমরা বলেছ: “আমরা যে-বিদ্রোহ করেছি এবং যে-পাপ করেছি, সেগুলো আমাদের উপর ভারী বোঝার মতো হয়ে আছে আর সেগুলোর কারণে আমরা ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যাচ্ছি। তাই, কীভাবে আমরা বেঁচে থাকব?”’ ১১ তাদের বলো, ‘নিখিলবিশ্বের প্রভু যিহোবা ঘোষণা করেন: “আমি নিজের জীবনের দিব্য করে বলছি, মন্দ ব্যক্তি মারা গেলে আমি একটুও আনন্দ পাই না বরং কোনো মন্দ ব্যক্তি যদি নিজের পথ পরিবর্তন করে এবং বেঁচে থাকে, তা হলে আমি আনন্দ পাই। তোমরা ফিরে এসো, তোমাদের মন্দ পথ থেকে ফিরে এসো। কারণ হে ইজরায়েলের পরিবার, তোমরা কেন মারা যাবে?”’
১২ “আর হে মানুষের ছেলে, তুমি লোকদের ছেলেদের বলো, ‘যে-ব্যক্তি সঠিক কাজ করে, সে যদি বিদ্রোহ করে, তা হলে তার আগের সঠিক কাজগুলো তাকে রক্ষা করতে পারবে না। কিংবা মন্দ ব্যক্তি যদি তার মন্দ কাজ থেকে ফিরে আসে, তা হলে তার আগের মন্দ কাজগুলোর কারণে সে বিনষ্ট হবে না। কিংবা যে সঠিক কাজ করে, সে যদি পাপ করে, তা হলে সে তার আগের সঠিক কাজগুলোর কারণে বেঁচে থাকতে পারবে না। ১৩ যখন আমি সঠিক কাজ করে এমন এক ব্যক্তিকে বলি: “তুমি অবশ্যই বেঁচে থাকবে” আর সে এই ভেবে মন্দ কাজ* করে যে, সে আগে যে-সঠিক কাজগুলো করেছিল, সেগুলোর কারণে সে রক্ষা পাবে, তখন তার আগের সঠিক কাজগুলোর মধ্য থেকে একটাও স্মরণ করা হবে না বরং সে যে-ভুল করেছে, সেটার কারণে সে মারা যাবে।
১৪ “‘আর যখন আমি কোনো মন্দ ব্যক্তিকে বলি: “তুমি অবশ্যই মরবে” আর সে পাপ করা ছেড়ে দেয় আর ন্যায্য আচরণ এবং যা সঠিক, তা-ই করে, ১৫ বন্ধক হিসেবে রাখা জিনিস ফিরিয়ে দেয়, ডাকাতি করে নেওয়া জিনিস ফিরিয়ে দেয় এবং মন্দ কাজ না করার দ্বারা বেঁচে থাকার জন্য সঠিক পথে চলে, তখন সে অবশ্যই বেঁচে থাকবে, সে মারা যাবে না। ১৬ সে যে-পাপগুলো করেছে, সেগুলোর কোনোটাই তার বিরুদ্ধে ধরা* হবে না। যেহেতু সে ন্যায্য আচরণ এবং যা সঠিক, তা-ই করেছে, তাই সে অবশ্যই বেঁচে থাকবে।’
১৭ “কিন্তু, তোমার লোকেরা বলেছে, ‘যিহোবার পথ অন্যায্য,’ যখন কিনা তাদের নিজেদের পথই অন্যায্য।
১৮ “কিন্তু, যে সঠিক কাজ করে, সে যখন নিজের সঠিক কাজ ছেড়ে দিয়ে মন্দ কাজ করবে, তখন সে অবশ্যই সেই কারণে মারা যাবে। ১৯ কিন্তু, কোনো মন্দ ব্যক্তি যদি তার মন্দ কাজ থেকে ফিরে আসে আর ন্যায্য আচরণ এবং যা সঠিক, তা-ই করে, তা হলে সে সেই কারণে বেঁচে থাকবে।
২০ “কিন্তু তোমরা বলেছ, ‘যিহোবার পথ অন্যায্য।’ হে ইজরায়েলের পরিবার, আমি তোমাদের প্রত্যেককে তোমাদের নিজেদের কাজ অনুযায়ী বিচার করব।”
২১ আমাদের বন্দিত্বের ১২তম বছরের দশম মাসের পঞ্চম দিনে একজন ব্যক্তি জেরুসালেম থেকে পালিয়ে আমার কাছে এল আর বলল: “নগরটা দখল করে নেওয়া হয়েছে!”
২২ যে-দিন সকালে সেই পালিয়ে আসা ব্যক্তি আমার কাছে এসেছিল, তার আগের সন্ধ্যায় যিহোবার হাত আমার উপর এসেছিল আর তিনি আমার মুখ খুলে দিয়েছিলেন। তাই, আমার মুখ খুলে গেল এবং আমি আর বোবা হয়ে থাকলাম না।
২৩ পরে, যিহোবার এই বার্তা আমার কাছে এল: ২৪ “হে মানুষের ছেলে, যারা এই ধ্বংস হয়ে যাওয়া জায়গাগুলোতে বাস করছে, তারা ইজরায়েল দেশের বিষয়ে বলছে, ‘অব্রাহাম তো কেবল এক জন ব্যক্তি ছিলেন, তারপরও তিনি দেশটা দখল করেছিলেন। কিন্তু, আমরা অনেক জন রয়েছি, দেশটা নিশ্চয়ই আমাদের দখল করার জন্য দিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
২৫ “তাই, তুমি তাদের বলো, ‘নিখিলবিশ্বের প্রভু যিহোবা এই কথা বলেন: “তোমরা রক্ত-সহ মাংস খাও, তোমাদের জঘন্য মূর্তিগুলোর* দিকে চোখ তুলে তাকাও এবং রক্তপাত করতে থাক। তা হলে, তোমরা কীভাবে এই দেশ দখল করতে পার? ২৬ তোমরা তোমাদের তলোয়ারের উপর নির্ভর করেছ, তোমরা জঘন্য কাজকর্ম করেছ এবং তোমরা প্রত্যেকে তোমাদের প্রতিবেশীর স্ত্রীকে ভ্রষ্ট করেছ। তা হলে, তোমরা কীভাবে এই দেশ দখল করতে পার?”’
২৭ “তুমি তাদের এই কথা বলো, ‘নিখিলবিশ্বের প্রভু যিহোবা এই কথা বলেন: “আমি নিজের জীবনের দিব্য করে বলছি, যারা ধ্বংস হয়ে যাওয়া জায়গাগুলোতে বাস করছে, তারা তলোয়ারের আঘাতে মারা পড়বে। যারা খোলা মাঠে বাস করছে, আমি তাদের বন্যপশুদের খাবার করে তুলব। আর যারা দৃঢ় দুর্গগুলোতে এবং গুহাগুলোতে বাস করছে, তারা রোগে মারা যাবে। ২৮ আমি দেশটাকে ধ্বংস করে দিয়ে একেবারে পরিত্যক্ত জমি করে তুলব। আর সেটার প্রচণ্ড অহংকারকে শেষ করে দেওয়া হবে। ইজরায়েলের পর্বতগুলোকে ধ্বংস করে দেওয়া হবে, কেউ সেগুলোর মধ্য দিয়ে যাওয়া-আসা করবে না। ২৯ তাদের সমস্ত জঘন্য কাজকর্মের কারণে আমি যখন দেশটাকে একেবারে পরিত্যক্ত জমি করে তুলব, তখন তারা বুঝবে যে, আমি যিহোবা।”’
৩০ “হে মানুষের ছেলে, তোমার লোকেরা দেওয়ালের পাশে এবং বাড়ির দরজায় একে অন্যের সঙ্গে তোমার বিষয়ে কথা বলছে। তারা একে অন্যকে, প্রত্যেকে নিজের ভাইকে বলছে, ‘চলো, আমরা যিহোবার কাছ থেকে আসা বার্তা শুনি।’ ৩১ আমার লোকেরা যেমনটা করে থাকে, সেভাবেই তাদের এক বড়ো দল এসে তোমার সামনে বসবে এবং তোমার কথা শুনবে। কিন্তু, তারা সেগুলো পালন করবে না কারণ তারা মুখে তোমার তোষামোদ করে,* কিন্তু তাদের লোভী হৃদয় অসৎ উপায়ে লাভ করতে চায়। ৩২ দেখো! তুমি তাদের কাছে এমন একজন ব্যক্তির মতো, যে দক্ষতার সঙ্গে তারওয়ালা বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে মধুর গলায় প্রেমের গান গায়। তারা তোমার কথা শুনবে ঠিকই, কিন্তু কেউ সেই অনুযায়ী কাজ করবে না। ৩৩ আর যখন তোমার কথা ফলে যাবে—আর সেটা অবশ্যই ফলবে—তখন তারা বুঝবে যে, তাদের মাঝে একজন ভাববাদী ছিল।”