যিহিষ্কেল
৩৮ আবারও যিহোবার বার্তা আমার কাছে এল, তিনি আমাকে বললেন: ২ “হে মানুষের ছেলে, মাগোগ দেশের গোগের দিকে মুখ করো, যে মেশক ও তূবলের প্রধান অধ্যক্ষ আর তার বিরুদ্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করো। ৩ তুমি বলো, ‘নিখিলবিশ্বের প্রভু যিহোবা এই কথা বলেন: “হে গোগ, মেশক ও তূবলের প্রধান অধ্যক্ষ, দেখো, আমি তোমার বিরুদ্ধে রয়েছি। ৪ আমি তোমাকে ঘুরিয়ে দেব, তোমার চোয়ালে আংটা লাগাব আর তোমাকে তোমার পুরো সেনাবাহিনীর, তোমার ঘোড়াদের এবং তোমার ঘোড়সওয়ারদের সঙ্গে বের করে আনব, যাদের মধ্যে প্রত্যেকে সুন্দর সুন্দর পোশাক পরে রয়েছে। আমি তোমার বিশাল জনতাকে বের করে আনব, যাদের কাছে বড়ো ঢাল এবং ছোটো ঢাল* রয়েছে আর যাদের সবার কাছে তলোয়ার রয়েছে। ৫ তাদের সঙ্গে পারস্য, ইথিওপিয়া ও পূটের সেনাবাহিনীও রয়েছে, যাদের মধ্যে প্রত্যেকের কাছে ছোটো ঢাল এবং শিরস্ত্রাণ* রয়েছে। ৬ গোমর এবং সেটার সমস্ত সেনাবাহিনী আর উত্তর দিকের সবচেয়ে দূরের এলাকা থেকে তোগর্মের পরিবার এবং সেটার সমস্ত সেনাবাহিনী তোমার সঙ্গে রয়েছে। অনেক জাতিই তোমার সঙ্গে রয়েছে।
৭ “‘“তুমি ও সেইসঙ্গে তোমার সঙ্গে একত্রিত হওয়া তোমার সমস্ত সেনাবাহিনী তৈরি হও, যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হও। তুমি তাদের সেনাপতি* হবে।
৮ “‘“অনেক দিন পর তোমার প্রতি মনোযোগ দেওয়া* হবে। পরিশেষে, বহু বছর পর তুমি সেই দেশের উপর আক্রমণ করবে, যেটার লোকদের তলোয়ার দিয়ে আঘাত করার পর ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং যাদের অনেক জাতির মধ্য থেকে একত্রিত করে ইজরায়েলের পর্বতগুলোতে আনা হয়েছে, যে-পর্বতগুলো অনেক দিন ধরে জনশূন্য হয়ে পড়ে ছিল। এই দেশের বাসিন্দাদের বিভিন্ন জাতির মধ্য থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল আর তারা সবাই নিরাপদে বাস করে। ৯ তুমি ঝড়ের মতো তাদের বিরুদ্ধে আসবে আর তুমি, তোমার সমস্ত সেনাবাহিনী এবং তোমার সঙ্গে থাকা অনেক জাতি মেঘের মতো সেই দেশ ঢেকে ফেলবে।”’
১০ “নিখিলবিশ্বের প্রভু যিহোবা এই কথা বলেন: ‘সেই দিন তোমার মনে বিভিন্ন চিন্তা আসবে আর তুমি একটা ষড়যন্ত্র করবে। ১১ তুমি বলবে: “আমি গিয়ে সেই দেশটাকে আক্রমণ করব, যেখানকার লোকেরা অসুরক্ষিত* গ্রামগুলোতে বাস করে। আমি সেই লোকদের উপর আক্রমণ করব, যারা নিরাপদে কোনোরকম সমস্যা ছাড়াই বাস করছে, যারা এমন গ্রামগুলোতে বাস করছে, যেগুলোর সুরক্ষার জন্য কোনো প্রাচীর, হুড়কো কিংবা দরজা নেই।” ১২ তোমার উদ্দেশ্য হবে, তুমি প্রচুর জিনিস লুট করবে আর সেই ধ্বংস হয়ে যাওয়া জায়গাগুলোকে আক্রমণ করবে, যেখানে এখন লোকেরা বাস করে আর সেই লোকদের আক্রমণ করবে, যাদের জাতিগুলোর মধ্য থেকে পুনরায় একত্রিত করা হয়েছে, যারা এখন পৃথিবীর মাঝখানে বাস করছে এবং ধনসম্পদ সংগ্রহ করছে।
১৩ “‘শিবা, দদান ও সেইসঙ্গে তর্শীশের বণিকেরা এবং সেখানকার সমস্ত যোদ্ধা* তোমাকে বলবে: “তুমি কি প্রচুর জিনিস লুট করার জন্য দেশটাকে আক্রমণ করছ? তুমি কি সোনা-রুপো নিয়ে নেওয়ার, ধনসম্পদ কেড়ে নেওয়ার এবং প্রচুর জিনিস লুট করার জন্য তোমার সেনাবাহিনীকে একত্রিত করেছ?”’
১৪ “তাই, হে মানুষের ছেলে, তুমি ভবিষ্যদ্বাণী করো আর গোগকে বলো, ‘নিখিলবিশ্বের প্রভু যিহোবা এই কথা বলেন: “সেই দিন আমার প্রজা ইজরায়েল যখন নিরাপদে বাস করবে, তখন তুমি তা লক্ষ করবে। ১৫ তুমি তোমার জায়গা থেকে, উত্তর দিকের সবচেয়ে দূরের এলাকা থেকে আসবে। তোমার সঙ্গে অনেক জাতির লোক থাকবে। তোমরা সবাই ঘোড়ায় চড়ে আসবে। তোমরা এক বিরাট দল, এক বিশাল সেনাবাহিনী হিসেবে আসবে। ১৬ যেভাবে মেঘ দেশকে ঢেকে ফেলে, সেভাবেই তুমি আমার প্রজা ইজরায়েলকে আক্রমণ করবে। হে গোগ, শেষকালে আমি তোমাকে আমার দেশের বিরুদ্ধে আনব, যাতে আমি যখন জাতিগুলোর চোখের সামনে তোমার মাধ্যমে নিজেকে পবিত্রীকৃত করব, তখন জাতিগুলো যেন আমার বিষয়ে জানতে পারে।”’
১৭ “নিখিলবিশ্বের প্রভু যিহোবা এই কথা বলেন: ‘তুমি কি সেই ব্যক্তি নও, যার বিষয়ে আমি প্রাচীন কালে আমার দাসদের মাধ্যমে, ইজরায়েলের ভাববাদীদের মাধ্যমে বলেছিলাম? তারা অনেক বছর ধরে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল যে, তোমাকে ইজরায়েলীয়দের বিরুদ্ধে আনা হবে।’
১৮ “নিখিলবিশ্বের প্রভু যিহোবা ঘোষণা করেন: ‘যে-দিন গোগ ইজরায়েল দেশকে আক্রমণ করবে, সেই দিন আমার ক্রোধের আগুন জ্বলে উঠবে। ১৯ আমার ক্রোধের আগুন জ্বলে উঠবে আর আমি প্রচণ্ড রেগে গিয়ে কথা বলব এবং সেই দিন ইজরায়েল দেশে একটা বড়ো ভূমিকম্প হবে। ২০ আমার কারণে সমুদ্রের মাছ, আকাশের পাখি, মাঠের বন্যপশু, বুকে ভর দিয়ে চলে এমন সমস্ত সরীসৃপ এবং পৃথিবীর সমস্ত মানুষ কেঁপে উঠবে। আর পর্বতগুলোকে ছুড়ে ফেলা হবে, খাড়া পাহাড়গুলো পড়ে যাবে এবং সমস্ত প্রাচীর ভেঙে পড়বে।’
২১ “নিখিলবিশ্বের প্রভু যিহোবা ঘোষণা করেন: ‘আমি আমার সমস্ত পর্বতে গোগের বিরুদ্ধে একটা তলোয়ার ডেকে পাঠাব। প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের ভাইকে তলোয়ার দিয়ে আক্রমণ করবে। ২২ আমি মহামারি এনে এবং রক্তপাত করে তাকে শাস্তি দেব।* আমি তার উপর, তার সেনাবাহিনীর উপর এবং তার সঙ্গে থাকা অনেক জাতির লোকের উপর মুষলধারে বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি, আগুন ও গন্ধক নিয়ে আসব। ২৩ আমি অনেক জাতির লোকের চোখের সামনে নিশ্চিতভাবেই নিজেকে মহিমান্বিত করব, নিজেকে পবিত্রীকৃত করব এবং নিজের বিষয়ে জানাব আর তখন তারা বুঝবে যে, আমি যিহোবা।’