হগয়
২ সপ্তম মাসের ২১তম দিনে ভাববাদী হগয়ের মাধ্যমে যিহোবার এই বার্তা এল, ২ “দয়া করে শল্টীয়েলের ছেলে যিহূদার রাজ্যপাল সরুব্বাবিলকে, যিহোষাদকের ছেলে মহাযাজক যিহোশূয়কে এবং অবশিষ্ট লোকদের জিজ্ঞেস করো: ৩ ‘তোমাদের মধ্যে এমন কে রয়েছে, যে এই গৃহের* আগের মহিমা দেখেছিল? এখন এটাকে দেখতে কেমন লাগছে? এমনটা কি মনে হচ্ছে না যে, আগের তুলনায় এটা কিছুই নয়?’
৪ “যিহোবা ঘোষণা করেন: ‘কিন্তু হে সরুব্বাবিল, তুমি দৃঢ় হও আর যিহোষাদকের ছেলে মহাযাজক যিহোশূয়, তুমিও দৃঢ় হও।’
“যিহোবা ঘোষণা করেন: ‘আর দেশের সমস্ত লোক, তোমরা দৃঢ় হও এবং কাজ করো।’
“‘কারণ আমি তোমাদের সঙ্গে সঙ্গে রয়েছি।’ স্বর্গীয় বাহিনীর শাসক যিহোবা এই কথা ঘোষণা করেছেন। ৫ ‘তোমরা যখন মিশর থেকে বের হয়ে এসেছিলে, তখন আমি তোমাদের কাছে যে-প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, সেটা স্মরণ করো আর নিশ্চিত হও যে, আমার শক্তি তোমাদের উপর রয়েছে।* তোমরা ভয় পেয়ো না।’”
৬ “কারণ স্বর্গীয় বাহিনীর শাসক যিহোবা এই কথা বলেন, ‘কিছুসময় পরেই আমি আরেক বার আকাশ, পৃথিবী, সমুদ্র ও শুকনো ভূমিকে নাড়াব।’
৭ “স্বর্গীয় বাহিনীর শাসক যিহোবা বলেন: ‘আমি সমস্ত জাতিকে নাড়াব আর সমস্ত জাতির মূল্যবান* বিষয়গুলো এই গৃহে আসবে। আমি এই গৃহটাকে মহিমায় ভরিয়ে দেব।’
৮ “স্বর্গীয় বাহিনীর শাসক যিহোবা ঘোষণা করেন: ‘রুপো আমার, সোনাও আমার।’
৯ “স্বর্গীয় বাহিনীর শাসক যিহোবা বলেন: ‘ভবিষ্যতে এই গৃহের মহিমা আগের চেয়ে আরও বেশি হবে।’
“স্বর্গীয় বাহিনীর শাসক যিহোবা ঘোষণা করেন: ‘আর আমি এই জায়গায় শান্তি দেব।’”
১০ দারিয়াবসের রাজত্বের দ্বিতীয় বছরের নবম মাসের ২৪তম দিনে ভাববাদী হগয়ের কাছে যিহোবার এই বার্তা এল: ১১ “স্বর্গীয় বাহিনীর শাসক যিহোবা এই কথা বলেন, ‘দয়া করে যাজকদের আইনের বিষয়ে জিজ্ঞেস করো: ১২ “যদি কোনো ব্যক্তি তার পোশাকের ভাঁজে পবিত্র মাংস নিয়ে যায় এবং তার পোশাক কোনো রুটি, ঝোল, দ্রাক্ষারস,* তেল বা যেকোনো ধরনের খাবার ছোঁয়, তা হলে সেই খাবার কি পবিত্র হয়ে যাবে?”’”
যাজকেরা উত্তর দিলেন: “না!”
১৩ তারপর, হগয় জিজ্ঞেস করলেন: “কোনো ব্যক্তি যদি কোনো মৃতদেহ* ছুঁয়ে অশুচি হয়ে যায় আর তারপর এগুলোর মধ্যে কোনো খাবার ছোঁয়, তা হলে সেই খাবার কি অশুচি হয়ে যাবে?”
যাজকেরা উত্তর দিলেন: “হ্যাঁ, সেটা অশুচি হয়ে যাবে।”
১৪ তখন হগয় বললেন: “যিহোবা ঘোষণা করেন, ‘আমার চোখে এই লোকেরা, এই জাতি এবং তাদের হাতের সমস্ত কাজ এইরকমই, তারা যা-কিছু উৎসর্গ করে, সেগুলো অশুচি।’
১৫ “‘কিন্তু, আজ থেকে দয়া করে তোমরা এই বিষয়টার উপর মনোযোগ দাও: যিহোবার মন্দিরে একটা পাথরের উপর আরেকটা পাথর রাখার আগে ১৬ তোমাদের অবস্থা কেমন ছিল? যখন কেউ ২০ ঝুড়ি শস্য পাওয়ার জন্য শস্যের ঢিবির কাছে আসত, তখন সে কেবল ১০ ঝুড়ি শস্য পেত আর যখন কেউ ৫০ জালা দ্রাক্ষারস* পাওয়ার জন্য আঙুর পেষাই করার গর্তের কাছে আসত, তখন সে কেবল ২০ জালা দ্রাক্ষারস* পেত। ১৭ আমি তোমাদের গাছপালাকে, তোমাদের হাতের সমস্ত কাজকে প্রচণ্ড গরম বাতাস, রোগ ও শিলাবৃষ্টির দ্বারা আঘাত করলাম, কিন্তু তোমাদের মধ্যে এক জনও আমার কাছে ফিরে এল না।’ যিহোবা এই কথা ঘোষণা করেছেন।
১৮ “‘কিন্তু, এই নবম মাসের ২৪তম দিন থেকে, এখন যখন যিহোবার মন্দিরের ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছে, দয়া করে এখন থেকে তোমরা এটার প্রতি মনোযোগ দাও: ১৯ এখনও কি গোলাঘরে* বীজ রয়েছে? আঙুর গাছ, ডুমুর গাছ, বেদানা গাছ এবং জলপাই গাছ এখনও ফল দেয়নি, তা-ই নয় কি? কিন্তু, আজ থেকে আমি তোমাদের আশীর্বাদ করব।’”
২০ সেই মাসের ২৪তম দিনে দ্বিতীয় বার যিহোবার বার্তা হগয়ের কাছে এল: ২১ “যিহূদার রাজ্যপাল সরুব্বাবিলকে বলো, ‘আমি আকাশ ও পৃথিবীকে নাড়াতে চলেছি। ২২ আমি রাজ্যগুলোর সিংহাসন উলটে দেব এবং সমস্ত জাতির রাজ্যগুলোর শক্তি শেষ করে দেব। আমি রথ এবং সেটার আরোহীদের আর ঘোড়া এবং ঘোড়সওয়ারদের ফেলে দেব, প্রত্যেকে নিজের ভাইয়ের তলোয়ারের আঘাতে মারা পড়বে।’”
২৩ “স্বর্গীয় বাহিনীর শাসক যিহোবা ঘোষণা করেন: ‘হে শল্টীয়েলের ছেলে আমার দাস সরুব্বাবিল, সেই দিন আমি তোমাকে ডাকব।’ যিহোবা ঘোষণা করেন: ‘আমি তোমাকে সীলমোহর দেওয়ার আংটির মতো করে তুলব কারণ আমি তোমাকেই বেছে নিয়েছি।’ স্বর্গীয় বাহিনীর শাসক যিহোবা এই কথা ঘোষণা করেছেন।”