যিহিষ্কেল
১২ আবারও যিহোবার বার্তা আমার কাছে এল, তিনি আমাকে বললেন: ২ “হে মানুষের ছেলে, তুমি বিদ্রোহী পরিবারের লোকদের মাঝে বাস করছ। তাদের চোখ রয়েছে, কিন্তু তারা দেখতে পায় না। তাদের কান রয়েছে, কিন্তু তারা শুনতে পায় না। কারণ তারা বিদ্রোহী পরিবারের লোক। ৩ হে মানুষের ছেলে, তুমি বন্দিত্বে যাওয়ার জন্য তোমার জিনিসপত্র গোছাও। তারপর, দিনের বেলায় তাদের চোখের সামনে তুমি বন্দিত্বে যাবে। তুমি তাদের চোখের সামনে তোমার বাড়ি থেকে বের হয়ে অন্য একটা জায়গায় বন্দিত্বে যাবে। হয়তো তারা তোমাকে লক্ষ করবে, যদিও তারা বিদ্রোহী পরিবারের লোক। ৪ তুমি দিনের বেলায় তাদের চোখের সামনে বন্দিত্বে যাওয়ার জন্য তোমার গুছিয়ে রাখা জিনিসপত্র বের করবে, তারপর সন্ধ্যা বেলায় তাদের চোখের সামনে তুমি এমন এক ব্যক্তির মতো চলে যাবে, যাকে বন্দিত্বে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
৫ “তুমি তাদের চোখের সামনে দেওয়ালে একটা গর্ত করবে আর সেই গর্ত দিয়ে তোমার জিনিসপত্র নিয়ে বের হবে। ৬ যখন অন্ধকার হয়ে আসবে, তখন তুমি তাদের চোখের সামনে তোমার জিনিসপত্র কাঁধে করে বয়ে নিয়ে যাবে। তুমি তোমার মুখ ঢেকে রাখবে, যাতে তুমি মাটি দেখতে না পাও। কারণ আমি তোমাকে ইজরায়েলের পরিবারের জন্য একটা চিহ্নের মতো করে তুলছি।”
৭ আমাকে যেমনটা করার আজ্ঞা দেওয়া হল, আমি ঠিক তেমনটাই করলাম। দিনের বেলায় আমি ঠিক সেভাবেই আমার জিনিসপত্র বের করে আনলাম, যেভাবে কোনো ব্যক্তি বন্দিত্বে যাওয়ার জন্য নিজের জিনিসপত্র বের করে আর সন্ধ্যা বেলায় আমি আমার হাত দিয়ে দেওয়ালে একটা গর্ত করলাম। যখন অন্ধকার হয়ে এল, তখন আমি তাদের চোখের সামনে আমার জিনিসপত্র কাঁধে করে বয়ে নিয়ে গেলাম।
৮ সকাল বেলায় আবারও যিহোবার বার্তা আমার কাছে এল, তিনি আমাকে বললেন: ৯ “হে মানুষের ছেলে, ইজরায়েলের পরিবার, সেই বিদ্রোহী পরিবারের লোকেরা তোমাকে জিজ্ঞেস করেছে, ‘তুমি কী করছ?’ ১০ তুমি তাদের বলো, ‘নিখিলবিশ্বের প্রভু যিহোবা এই কথা বলেন: “এই বার্তা জেরুসালেমে বসবাসরত অধ্যক্ষের বিষয়ে এবং নগরে বসবাসরত ইজরায়েলের পরিবারের সমস্ত লোকের বিষয়ে।”’
১১ “তাদের বলো, ‘আমি তোমাদের জন্য একটা চিহ্নের মতো। ঠিক যেমনটা আমি করেছি, তাদের প্রতিও তেমনটাই করা হবে। তারা নির্বাসনে যাবে, তারা বন্দিত্বে যাবে। ১২ তাদের মাঝে যে অধ্যক্ষ, সে অন্ধকারে কাঁধে করে নিজের জিনিসপত্র বয়ে নিয়ে যাবে। সে দেওয়ালে একটা গর্ত করবে আর সেই গর্ত দিয়ে নিজের জিনিসপত্র নিয়ে বের হবে। সে নিজের মুখ ঢেকে নেবে, যাতে সে মাটি দেখতে না পায়।’ ১৩ আমি তার উপর আমার জাল ফেলব আর সে সেটাতে ধরা পড়বে। তারপর, আমি তাকে ব্যাবিলনে কল্দীয়দের দেশে নিয়ে আসব, কিন্তু সে সেটা দেখতে পাবে না আর সে সেখানেই মারা যাবে। ১৪ আর আমি তার চারপাশে থাকা সবাইকে, তার সাহায্যকারীদের এবং তার সৈন্যদের চারিদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দেব আর আমি একটা তলোয়ার বের করে তাদের পিছু ধাওয়া করব। ১৫ আমি যখন তাদের বিভিন্ন জাতির মাঝে এবং বিভিন্ন দেশের মাঝে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দেব, তখন তারা বুঝবে যে, আমি যিহোবা। ১৬ কিন্তু, আমি তাদের মধ্য থেকে কিছু লোককে তলোয়ার, দুর্ভিক্ষ ও মহামারির হাত থেকে রেহাই দেব, যাতে তারা যে-সমস্ত জাতির মাঝে যাবে, সেখানে তারা নিজেদের সমস্ত জঘন্য কাজকর্মের বিষয়ে বলতে পারে। আর তারা বুঝবে যে, আমি যিহোবা।”
১৭ আবারও যিহোবার বার্তা আমার কাছে এল, তিনি আমাকে বললেন: ১৮ “হে মানুষের ছেলে, তুমি ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে তোমার রুটি খাবে আর খুব দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগের মধ্যে তোমার জল খাবে। ১৯ তুমি দেশের লোকদের বলো, ‘ইজরায়েল দেশে জেরুসালেমের যে-লোকেরা রয়েছে, তাদের বিষয়ে নিখিলবিশ্বের প্রভু যিহোবা এই কথা বলেন: “তারা খুব দুশ্চিন্তায় তাদের রুটি খাবে আর খুব আতঙ্কে তাদের জল খাবে কারণ তাদের দেশের সমস্ত বাসিন্দা যে-দৌরাত্ম্যপূর্ণ কাজগুলো করে, সেগুলোর কারণে দেশটা পুরোপুরিভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে। ২০ যে-নগরগুলোতে লোকেরা থাকে, সেগুলো ধ্বংস হয়ে যাবে আর দেশটা পরিত্যক্ত জমি হয়ে উঠবে। তখন তোমরা বুঝবে যে, আমি যিহোবা।”’”
২১ আবারও যিহোবার বার্তা আমার কাছে এল, তিনি আমাকে বললেন: ২২ “হে মানুষের ছেলে, ইজরায়েলের মধ্যে এ কেমন প্রবাদ প্রচলিত হয়েছে, ‘দিনের পর দিন পার হয়ে যাচ্ছে। কই, একটাও দর্শন তো পূর্ণ হচ্ছে না’? ২৩ তাই, তুমি তাদের বলো, ‘নিখিলবিশ্বের প্রভু যিহোবা এই কথা বলেন: “আমি এই প্রবাদ মুছে দেব এবং তারা আর কখনো ইজরায়েলে এই প্রবাদ ব্যবহার করবে না।”’ তুমি তাদের এও বলো, ‘সেই দিন কাছে চলে এসেছে আর প্রতিটা দর্শন পূর্ণ হবে।’ ২৪ কারণ ইজরায়েলের পরিবারের মধ্যে আর কখনো মিথ্যা দর্শন কিংবা প্রতারণামূলক* ভবিষ্যদ্বাণী থাকবে না। ২৫ ‘“কারণ আমি যিহোবা, আমি কথা বলব আর আমি যা-ই বলব, কোনোরকম দেরি না হয়েই তা ঘটবে। হে বিদ্রোহী পরিবার, তুমি বেঁচে থাকতে থাকতে আমি কথা বলব আর তা পূর্ণও করব।” নিখিলবিশ্বের প্রভু যিহোবা এই কথা ঘোষণা করেছেন।’”
২৬ আবারও যিহোবার বার্তা আমার কাছে এল, তিনি আমাকে বললেন: ২৭ “হে মানুষের ছেলে, ইজরায়েলের লোকেরা* এই কথা বলছে, ‘এই ব্যক্তি যে-দর্শন পায়, সেটা অনেক সময় পর পূর্ণ হবে এবং সে যে-ভবিষ্যদ্বাণী করছে, সেটা অনেক দিন পর পূর্ণ হবে।’ ২৮ তাই, তুমি তাদের বলো, ‘নিখিলবিশ্বের প্রভু যিহোবা এই কথা বলেন: “‘আমার কোনো কথাই পূর্ণ হতে দেরি হবে না। আমি যা-ই বলব, তা ঘটবে।’ নিখিলবিশ্বের প্রভু যিহোবা এই কথা ঘোষণা করেছেন।”’”