যিহিষ্কেল
১১ তারপর, একটা শক্তি* আমাকে উপরে ওঠাল আর সেটা আমাকে যিহোবার গৃহের পূর্ব দিকের দরজায় নিয়ে গেল, যেটা পূর্ব দিকে মুখ করে ছিল। সেখানে দরজার প্রবেশপথে আমি ২৫ জন পুরুষকে দেখলাম, যারা লোকদের অধ্যক্ষ ছিল। তাদের মাঝে অসূরের ছেলে যাসনিয় এবং বনায়ের ছেলে পলটিয়ও ছিল। ২ তখন ঈশ্বর আমাকে বললেন: “হে মানুষের ছেলে, এরা হল সেই পুরুষেরা, যারা এই নগরে* মন্দ কাজ করার ষড়যন্ত্র করছে এবং খারাপ পরামর্শ দিচ্ছে। ৩ তারা বলছে, ‘এখন তো বাড়ি তৈরি করার সময়। এই নগরী* একটা হাঁড়ির মতো আর আমরা সেটার ভিতরে থাকা মাংসের মতো।’
৪ “তাই, হে মানুষের ছেলে, তাদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করো, হ্যাঁ, ভবিষ্যদ্বাণী করো।”
৫ যিহোবার পবিত্র শক্তি আমার উপর এল আর ঈশ্বর আমাকে বললেন: “তুমি এই কথা বলো, ‘যিহোবা এই কথা বলেন: “হে ইজরায়েলের পরিবার, তোমরা যা বলেছ, তা সঠিক। আমি তোমাদের চিন্তাভাবনা জানি। ৬ তোমাদের কারণে এই নগরে অনেকে মারা গিয়েছে আর তোমরা এই নগরের রাস্তাগুলো মৃতদেহ দিয়ে ভরিয়ে দিয়েছ।”’” ৭ “তাই, নিখিলবিশ্বের প্রভু যিহোবা এই কথা বলেন: ‘হ্যাঁ, এই নগরী একটা হাঁড়ির মতো আর এর ভিতরে থাকা মাংস হল সেই মৃতদেহগুলো, যেগুলো তোমরা নগরে ছড়িয়েছ। কিন্তু, তোমাদের এই হাঁড়ি থেকে বের করে দেওয়া হবে।’”
৮ “নিখিলবিশ্বের প্রভু যিহোবা ঘোষণা করেন, ‘তোমরা তলোয়ারকে ভয় পাও আর আমি তোমাদের বিরুদ্ধে তলোয়ারই নিয়ে আসব। ৯ আমি তোমাদের নগরীর মধ্য থেকে বের করে আনব আর বিদেশিদের হাতে তুলে দেব এবং তোমাদের শাস্তি দেব। ১০ তোমরা তলোয়ারের আঘাতে মারা পড়বে। আমি ইজরায়েলের সীমানায় তোমাদের শাস্তি দেব আর তখন তোমরা বুঝবে যে, আমি যিহোবা। ১১ এই নগরী একটা হাঁড়ির মতো তোমাদের সুরক্ষিত রাখবে না আর তোমরা সেই হাঁড়ির ভিতরে থাকা মাংসের মতো সুরক্ষিত থাকবে না। আমি ইজরায়েলের সীমানায় তোমাদের শাস্তি দেব। ১২ আর তখন তোমরা বুঝবে যে, আমি যিহোবা। কারণ তোমরা আমার আইনকানুন অনুযায়ী চলনি আর আমার বিচার সংক্রান্ত রায়গুলো পালন করনি। এর পরিবর্তে, তোমরা তোমাদের আশেপাশের জাতিগুলোর বিচার সংক্রান্ত রায় অনুযায়ী কাজ করেছ।’”
১৩ যেই-না আমি ভবিষ্যদ্বাণী করলাম, অমনি বনায়ের ছেলে পলটিয় মারা গেল আর আমি উবুড় হয়ে পড়ে চিৎকার করে বললাম: “হায়, হে নিখিলবিশ্বের প্রভু যিহোবা! তুমি কি ইজরায়েলের অবশিষ্ট লোকদেরও মেরে ফেলবে?”
১৪ আবারও যিহোবার বার্তা আমার কাছে এল, তিনি আমাকে বললেন: ১৫ “হে মানুষের ছেলে, তোমার যে-ভাইদের জমি কিনে মুক্ত করার অধিকার রয়েছে, তাদের ও সেইসঙ্গে ইজরায়েলের পুরো পরিবারকে জেরুসালেমের বাসিন্দারা বলেছে, ‘তোমরা যিহোবার কাছ থেকে দূরে থাকো। দেশের জমি আমাদের, এটা আমাদের দেওয়া হয়েছে।’ ১৬ তাই তুমি বলো, ‘নিখিলবিশ্বের প্রভু যিহোবা এই কথা বলেন: “যদিও আমি তাদের এখান থেকে বের করে অনেক দূরে জাতিগুলোর মাঝে পাঠিয়ে দিয়েছি এবং তাদের বিভিন্ন দেশের মাঝে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দিয়েছি, তারপরও তারা যে-সমস্ত দেশে গিয়েছে, সেখানে আমি কিছু সময়ের জন্য তাদের পবিত্র স্থান হব।”’
১৭ “তাই তুমি বলো, ‘নিখিলবিশ্বের প্রভু যিহোবা এই কথা বলেন: “তোমাদের যে-সমস্ত জাতি ও দেশের মাঝে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছে, আমি সেগুলো থেকে তোমাদের একত্রিতও করব আর আমি তোমাদের ইজরায়েল দেশটা দেব। ১৮ তারা সেখানে ফিরে যাবে এবং সেখানকার সমস্ত জঘন্য বিষয় এবং জঘন্য কাজকর্ম দূর করে দেবে। ১৯ আমি তাদের একাগ্র হৃদয় দেব, আমি তাদের মধ্যে এক নতুন মনোভাব দেব। আমি তাদের দেহ থেকে পাথরের হৃদয় সরিয়ে তাদের এক কোমল হৃদয়* দেব, ২০ যাতে তারা আমার নিয়ম অনুযায়ী চলে এবং আমার বিচার সংক্রান্ত রায়গুলো পালন করে এবং সেগুলোর বাধ্য হয়। তখন তারা আমার লোক হবে এবং আমি তাদের ঈশ্বর হব।”’
২১ “‘“কিন্তু, যারা মনে মনে ঠিক করেছে যে, তারা নিজেদের জঘন্য বিষয় এবং জঘন্য কাজগুলো করতেই থাকবে, আমি তাদের আচার-আচরণের প্রতিফল তাদেরই দেব।” নিখিলবিশ্বের প্রভু যিহোবা এই কথা ঘোষণা করেছেন।’”
২২ এরপর, করূবেরা তাদের ডানা উপরের দিকে তুললেন। চাকাগুলো তাদের কাছেই ছিল আর ইজরায়েলের ঈশ্বরের মহিমা তাদের উপরে ছিল। ২৩ তারপর, যিহোবার মহিমা নগরী থেকে উপরের দিকে উঠল আর নগরীর পূর্ব দিকে যে-পর্বত রয়েছে, সেটার উপর গিয়ে থামল। ২৪ এরপর, একটা শক্তি* আমাকে উপরে তুলল আর ঈশ্বরের পবিত্র শক্তির দ্বারা পাওয়া দর্শনের মাধ্যমে আমাকে কল্দিয়ায় বন্দিত্বে থাকা লোকদের কাছে নিয়ে গেল। তারপর, আমি যে-দর্শনটা দেখছিলাম, সেটা শেষ হয়ে গেল। ২৫ এরপর, আমি বন্দিত্বে থাকা লোকদের কাছে সেইসমস্ত কথা বলতে শুরু করলাম, যেগুলো যিহোবা আমাকে দেখিয়েছিলেন।