যিহিষ্কেল
৪০ আমাদের বন্দিত্বের ২৫তম বছরে অর্থাৎ নগর* ধ্বংস হওয়ার ১৪তম বছরের শুরুতে প্রথম মাসের দশম দিনে যিহোবার হাত আমার উপর এল আর তিনি আমাকে সেই নগরে নিয়ে গেলেন। ২ ঈশ্বরের কাছ থেকে আমি দর্শন পেলাম, যেখানে তিনি আমাকে ইজরায়েল দেশে নিয়ে গেলেন আর আমাকে একটা খুব উঁচু পর্বতের উপর দাঁড় করালেন। সেই পর্বতের উপর দক্ষিণ দিকে নগরের মতো কিছু-একটা ছিল।
৩ তিনি যখন আমাকে সেখানে নিয়ে গেলেন, তখন আমি সেখানে একজন পুরুষকে দেখলাম, যিনি দেখতে চকচকে তামার মতো ছিলেন। তার হাতে একটা তিসির দড়ি এবং মাপার জন্য একটা নলখাগড়া* ছিল আর তিনি প্রবেশপথে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ৪ সেই পুরুষ আমাকে বললেন: “হে মানুষের ছেলে, ভালো করে দেখো এবং ভালো করে শোনো আর আমি তোমাকে যা-কিছু দেখাচ্ছি, সেই সমস্ত কিছুর প্রতি মনোযোগ দাও কারণ তোমাকে এইজন্যই এখানে আনা হয়েছে। তুমি যা-কিছু দেখবে, সেই সমস্ত কিছু ইজরায়েলের পরিবারকে বলবে।”
৫ আমি সেই মন্দিরের* বাইরে চারিদিকে একটা প্রাচীর দেখলাম। সেই পুরুষের হাতে যে-নলখাগড়াটা ছিল, সেটা ছ-হাত লম্বা ছিল (প্রতিটা হাতের সঙ্গে চার আঙুল জোড়া হয়েছিল।)* তিনি প্রাচীরটা মাপতে শুরু করলেন আর সেটা এক নলখাগড়া পুরু এবং এক নলখাগড়া উঁচু ছিল।
৬ তারপর, তিনি সেই দরজার* কাছে এলেন, যেটা পূর্ব দিকে মুখ করে ছিল আর তিনি সেটার সিঁড়ি দিয়ে উঠলেন। তিনি দরজার চৌকাঠটা মাপলেন। সেটা এক নলখাগড়া চওড়া ছিল আর অন্য চৌকাঠটাও এক নলখাগড়া চওড়া ছিল। ৭ পাহারাদারদের ঘরগুলো এক নলখাগড়া লম্বা এবং এক নলখাগড়া চওড়া ছিল আর পাহারাদারদের ঘরগুলোর মধ্যে পাঁচ হাতের দূরত্ব ছিল। দরজার যে-চৌকাঠটা বারান্দার পাশে ছিল এবং ভিতরের দিকে ছিল, সেটা এক নলখাগড়া চওড়া ছিল।
৮ তিনি সেই বারান্দাটা মাপলেন, যেটা ভিতরের দিকে ছিল আর সেটা ছিল এক নলখাগড়া। ৯ তারপর, তিনি দরজার বারান্দাটা মাপলেন, যেটা ছিল আট হাত। তিনি বারান্দার দু-দিকের স্তম্ভগুলো মাপলেন, যেগুলো দু-হাত করে ছিল। দরজার এই বারান্দাটা ভিতরের দিকে ছিল।
১০ পূর্ব দিকের দরজার মধ্যে দু-দিকেই তিনটে করে পাহারাদারদের ঘর ছিল। তিনটে ঘরই একই মাপের ছিল এবং দু-দিকের স্তম্ভগুলোও একই মাপের ছিল।
১১ তারপর তিনি মাপলেন যে, দরজার প্রবেশপথটা কতটা চওড়া আর সেটা ১০ হাত চওড়া ছিল আর দরজাটা ১৩ হাত লম্বা ছিল।
১২ দু-দিকেই পাহারাদারদের ঘরগুলোর সামনে নীচু প্রাচীর দিয়ে ঘেরা যে-জায়গাটা ছিল, সেটা ছিল এক হাত। আর দু-দিকেই পাহারাদারদের ঘরগুলো ছ-হাত করে ছিল।
১৩ তারপর, তিনি পাহারাদারদের একটা ঘরের ছাদ* থেকে অন্য দিকের পাহারাদারদের ঘরের ছাদ পর্যন্ত দরজাটা মাপলেন আর সেটা ২৫ হাত চওড়া ছিল। পাহারাদারদের ঘরগুলোর দরজা একে অন্যের মুখোমুখি ছিল। ১৪ তারপর, তিনি দু-দিকের স্তম্ভগুলো মাপলেন, যেগুলো ৬০ হাত লম্বা ছিল। একইভাবে প্রাঙ্গণের চারিদিকে দরজাগুলোর দু-দিকের স্তম্ভগুলোও ৬০ হাত লম্বা ছিল। ১৫ দরজার প্রবেশপথের সামনে থেকে ভিতরের দিকের বারান্দার সামনের দিক পর্যন্ত ছিল ৫০ হাত।
১৬ দরজার ভিতরে উভয় দিকে পাহারাদারদের ঘরগুলোর জন্য এবং দু-দিকেই থাকা সেগুলোর স্তম্ভগুলোর জন্য এমন জানালা ছিল, যেগুলো ভিতরের দিকে চওড়া এবং বাইরের দিকে সরু। বারান্দাগুলোর ভিতরেও সমস্ত দিকে জানালা ছিল আর দু-দিকের স্তম্ভগুলোতে খেজুর গাছের নকশা ছিল।
১৭ তারপর, তিনি আমাকে বাইরের প্রাঙ্গণে নিয়ে এলেন। আমি সেই প্রাঙ্গণের চারিদিকে খাওয়ার ঘরগুলো* এবং মেঝেটা দেখলাম। মেঝের উপর ৩০টা খাওয়ার ঘর ছিল। ১৮ দরজার দু-দিকেই থাকা মেঝেটার প্রস্থ দরজার দৈর্ঘ্যের সমান ছিল। এটা ছিল নীচের মেঝে।
১৯ তারপর, তিনি নীচের দরজার সামনে থেকে ভিতরের প্রাঙ্গণের দরজার দূরত্ব* মাপলেন। সেটার দূরত্ব ছিল ১০০ হাত। পূর্ব দিকে এবং উত্তর দিকে সেটার একই দূরত্ব ছিল।
২০ বাইরের প্রাঙ্গণে একটা দরজা ছিল, যেটা উত্তর দিকে মুখ করে ছিল আর তিনি সেটার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ মাপলেন। ২১ সেই দরজার মধ্যে দু-দিকেই তিনটে করে পাহারাদারদের ঘর ছিল। সেটার দু-দিকের স্তম্ভগুলো এবং বারান্দার মাপ প্রথম দরজার স্তম্ভ ও বারান্দার মাপের সমান ছিল। সেটা ৫০ হাত লম্বা এবং ২৫ হাত চওড়া ছিল। ২২ সেটার জানালাগুলোর, বারান্দার এবং খেজুর গাছের নকশাগুলোর মাপ পূর্ব দিকের দরজার জানালা, বারান্দা এবং খেজুর গাছের নকশার মাপের সমান ছিল। সেই দরজায় পৌঁছোনোর জন্য লোকদের সিঁড়িতে সাতটা ধাপ উঠতে হত আর বারান্দাটা সেগুলোর সামনেই পড়ত।
২৩ উত্তর দিকের দরজার উলটো দিকে এবং পূর্ব দিকের দরজার উলটো দিকে ভিতরের প্রাঙ্গণে একটা করে দরজা ছিল। তিনি একটা দরজা থেকে আরেকটা দরজার দূরত্ব মাপলেন আর সেটা ছিল ১০০ হাত।
২৪ তারপর, তিনি আমাকে দক্ষিণ দিকে নিয়ে এলেন আর আমি দক্ষিণ দিকে একটা দরজা দেখতে পেলাম। তিনি সেটার দু-দিকের স্তম্ভগুলো এবং সেটার বারান্দা মাপলেন আর সেগুলোর মাপ অন্য দরজাগুলোর স্তম্ভ ও বারান্দার মাপের সমান ছিল। ২৫ সেই দরজার দু-দিকেই এবং সেটার বারান্দায় অন্য দরজাগুলোর মতোই একইরকম জানালা ছিল। সেটা ৫০ হাত লম্বা এবং ২৫ হাত চওড়া ছিল। ২৬ সেই দরজায় পৌঁছোনোর জন্য সিঁড়িতে সাতটা ধাপ উঠতে হত আর বারান্দাটা সেগুলোর সামনেই পড়ত। বারান্দার দু-দিকে একটা করে স্তম্ভ ছিল আর সেগুলোতে খেজুর গাছের নকশা ছিল।
২৭ ভিতরের প্রাঙ্গণে একটা দরজা ছিল, যেটা দক্ষিণ দিকে মুখ করে ছিল। তিনি একটা দরজা থেকে আরেকটা দরজার দূরত্ব মাপলেন আর সেটা ছিল ১০০ হাত। ২৮ তারপর, তিনি আমাকে দক্ষিণ দিকের দরজা দিয়ে ভিতরের প্রাঙ্গণে নিয়ে এলেন। তিনি দক্ষিণ দিকের দরজাটা মাপলেন আর সেটা অন্য দরজাগুলোর মাপের সমান ছিল। ২৯ সেটার পাহারাদারদের ঘরগুলোর, দু-দিকের স্তম্ভগুলোর এবং বারান্দার মাপ অন্য দরজাগুলোর পাহারাদারদের ঘর, স্তম্ভ ও বারান্দার মাপের সমান ছিল। সেই দরজার দু-দিকেই এবং সেটার বারান্দায় জানালা ছিল। সেটা ৫০ হাত লম্বা এবং ২৫ হাত চওড়া ছিল। ৩০ ভিতরের প্রাঙ্গণের চারিদিকে দরজাগুলোতে বারান্দা ছিল আর সেই বারান্দাগুলো ২৫ হাত লম্বা এবং ৫ হাত চওড়া ছিল। ৩১ সেটার বারান্দাটা বাইরের প্রাঙ্গণের দিকে মুখ করে ছিল আর সেটার দু-দিকের স্তম্ভে খেজুর গাছের নকশা ছিল আর সেখানে পৌঁছোনোর জন্য সিঁড়িতে আটটা ধাপ উঠতে হত।
৩২ তিনি যখন আমাকে পূর্ব দিক থেকে ভিতরের প্রাঙ্গণে নিয়ে এলেন, তখন তিনি দরজাটা মাপলেন আর সেটার মাপ অন্য দরজাগুলোর মাপের সমান ছিল। ৩৩ সেটার পাহারাদারদের ঘরগুলোর, দু-দিকের স্তম্ভগুলোর এবং বারান্দার মাপ অন্য দরজাগুলোর পাহারাদারদের ঘর, স্তম্ভ ও বারান্দার মাপের সমান ছিল। সেই দরজার দু-দিকেই এবং সেটার বারান্দায় জানালা ছিল। সেটা ৫০ হাত লম্বা এবং ২৫ হাত চওড়া ছিল। ৩৪ সেটার বারান্দাটা বাইরের প্রাঙ্গণের দিকে মুখ করে ছিল আর সেটার দু-দিকের স্তম্ভে খেজুর গাছের নকশা ছিল আর সেখানে পৌঁছোনোর জন্য সিঁড়িতে আটটা ধাপ উঠতে হত।
৩৫ তারপর, তিনি আমাকে উত্তর দিকের দরজায়* নিয়ে এলেন আর তিনি সেটাকে মাপলেন। সেটার মাপ অন্য দরজাগুলোর মাপের সমান ছিল। ৩৬ সেটার পাহারাদারদের ঘরগুলোর, দু-দিকের স্তম্ভগুলোর এবং বারান্দার মাপ অন্য দরজাগুলোর পাহারাদারদের ঘর, স্তম্ভ ও বারান্দার মাপের সমান ছিল। সেই দরজার দু-দিকেই জানালা ছিল। সেটা ৫০ হাত লম্বা এবং ২৫ হাত চওড়া ছিল। ৩৭ সেটার দু-দিকের স্তম্ভ বাইরের প্রাঙ্গণের দিকে মুখ করে ছিল আর সেটার দু-দিকের স্তম্ভে খেজুর গাছের নকশা ছিল আর সেখানে পৌঁছোনোর জন্য সিঁড়িতে আটটা ধাপ উঠতে হত।
৩৮ দরজাগুলোর দু-দিকের স্তম্ভের কাছে প্রবেশপথ-সহ একটা খাওয়ার ঘর ছিল। এই ঘরে হোমবলির পশুর মাংস ধোয়া হত।
৩৯ দরজার বারান্দার দু-দিকেই দুটো করে টেবিল ছিল, যেগুলোর উপর হোমবলির, পাপার্থক বলির এবং দোষার্থক বলির পশু মারা হত। ৪০ উত্তর দিকের দরজায় উঠে যাওয়ার প্রবেশপথের বাইরে দু-দিকেই দুটো করে টেবিল ছিল। দরজার বারান্দার অপর দিকে দু-দিকেই দুটো করে টেবিল ছিল। ৪১ দরজার দু-দিকেই চারটে করে, মোট আটটা টেবিল ছিল, যেগুলোর উপর বলিদানের পশুগুলোকে মারা হত। ৪২ হোমবলির জন্য ব্যবহৃত চারটে টেবিল কাটা পাথর দিয়ে তৈরি ছিল। সেগুলো দেড় হাত লম্বা, দেড় হাত চওড়া এবং এক হাত উঁচু ছিল। সেগুলোর উপর হোমবলির এবং অন্যান্য বলির পশুকে মারার অস্ত্র রাখা হত। ৪৩ ভিতরের দেওয়ালগুলোর চারিদিকে চার আঙুল চওড়া তাক লাগানো ছিল আর টেবিলগুলোতে উপহার হিসেবে দেওয়া বলির মাংস রাখা হত।
৪৪ ভিতরের দরজার বাইরে গায়কদের খাওয়ার ঘরগুলো ছিল, সেগুলো ভিতরের প্রাঙ্গণে উত্তর দিকের দরজার কাছে ছিল আর সেগুলো দক্ষিণ দিকে মুখ করে ছিল। পূর্ব দিকের দরজার কাছেও একটা খাওয়ার ঘর ছিল, যেটা উত্তর দিকে মুখ করে ছিল।
৪৫ তিনি আমাকে বললেন: “দক্ষিণ দিকে মুখ করে থাকা এই খাওয়ার ঘরটা সেই যাজকদের জন্য, যাদের মন্দিরে সেবা করার দায়িত্ব রয়েছে। ৪৬ আর উত্তর দিকে মুখ করে থাকা খাওয়ার ঘরটা সেই যাজকদের জন্য, যাদের বেদিতে সেবা করার দায়িত্ব রয়েছে। তারা হল সাদোকের ছেলে আর লেবীয়দের মধ্য থেকে তাদেরই যিহোবার কাছে এসে তাঁর সেবা করার দায়িত্ব রয়েছে।”
৪৭ তারপর, তিনি ভিতরের প্রাঙ্গণটা মাপলেন। সেটা ১০০ হাত লম্বা এবং ১০০ হাত চওড়া অর্থাৎ বর্গাকার ছিল আর বেদিটা মন্দিরের সামনে ছিল।
৪৮ তারপর, তিনি আমাকে মন্দিরের বারান্দায় আনলেন এবং তিনি বারান্দার দু-দিকের স্তম্ভগুলো মাপলেন, যেগুলো সেটার প্রবেশপথের ডান দিকে এবং বাঁ-দিকে ছিল। দুটো স্তম্ভই পাঁচ হাত পুরু এবং তিন হাত চওড়া ছিল।
৪৯ সেই বারান্দাটা ২০ হাত লম্বা এবং ১১* হাত চওড়া ছিল। সেখানে পৌঁছোনোর জন্য লোকদের সিঁড়ি দিয়ে উঠতে হত। দু-দিকের স্তম্ভগুলোর পাশে একটা করে স্তম্ভ ছিল।