নহূম
৩ ধিক সেই রক্তপাতী নগরকে!
সে প্রতারণায় এবং চুরি-ডাকাতিতে একেবারে ভরে গিয়েছে।
সে সবসময় লোকদের হত্যা করছে!
২ চাবুক ও চাকার শব্দ শোনা যাচ্ছে,
ঘোড়াগুলো দৌড়োচ্ছে এবং রথগুলো ছুটছে।
৩ ঘোড়সওয়ার এগিয়ে আসছে, তলোয়ার ঝলমল করছে, বর্শা চকচক করছে,
প্রচুর লোক মরে পড়ে রয়েছে, মৃতদেহের ঢিবি হয়ে গিয়েছে,
মৃতদেহের কোনো শেষ নেই।
তারা মৃতদেহগুলোতে হোঁচট খেতে থাকে।
৪ এই সমস্ত কিছু সেই বেশ্যার প্রচুর বেশ্যাকর্মের কারণে হয়েছে,
যে খুবই সুন্দরী ও আকর্ষণীয় এবং যে মায়াবিদ্যা চর্চায় পটু,
যে নিজের বেশ্যাকর্মের দ্বারা জাতিগুলোকে এবং নিজের মায়াবিদ্যার দ্বারা পরিবারগুলোকে ফাঁদে ফেলে।
৫ স্বর্গীয় বাহিনীর শাসক যিহোবা ঘোষণা করেন:
“দেখো! আমি তোমার* বিরুদ্ধে রয়েছি,
আমি তোমার ঘাগরা তোমার মুখের উপর তুলে দেব।
আমি জাতিগুলোকে তোমার উলঙ্গতা
এবং রাজ্যগুলোকে তোমার অপমান দেখাব।
৬ আমি তোমার উপর ময়লা ফেলব
আর আমি তোমাকে এক জঘন্য বিষয় করে তুলব।
আমি তোমাকে উপহাসের পাত্র করে তুলব।
৭ যারা তোমাকে দেখবে, তারা প্রত্যেকে তোমার কাছ থেকে পালিয়ে যাবে আর বলবে,
‘নীনবী ধ্বংস হয়ে গিয়েছে!
কে তার প্রতি সহানুভূতি দেখাবে?’
কোথায় আমি তোমাকে সান্ত্বনা দেওয়ার লোক পাব?
৮ তুমি কি নো-আমনের* চেয়ে আরও ভালো,
যেটা নীল নদের খালগুলোর পাশে অবস্থিত ছিল?
জল তার চারিদিকে ছিল,
সমুদ্র ছিল তার সম্পদ ও প্রাচীর।
৯ ইথিওপিয়া ও মিশর ছিল তার অসীম শক্তির উৎস।
লিবিয়ার লোকেরা ও পূট ছিল তোমার সাহায্যকারী।
১০ কিন্তু, সেও বন্দি হল
এবং বন্দিত্বে গেল।
তার ছেলে-মেয়েদেরও প্রতিটা রাস্তার মোড়ে আছড়ে মেরে ফেলা হল।
তারা তার সম্মাননীয় ব্যক্তিদের জন্য ঘুঁটি* চালল
এবং তার সমস্ত মহান ব্যক্তিকে শিকল দিয়ে বাঁধা হল।
১১ তুমিও মাতাল হয়ে যাবে,
তুমি লুকিয়ে পড়বে।
তুমি শত্রুর কাছ থেকে পালানোর জন্য আশ্রয় খুঁজবে।
১২ তোমার সমস্ত দৃঢ় দুর্গ সেই ডুমুর গাছগুলোর মতো, যেগুলোর ডুমুর প্রথম দিকে পেকে গিয়েছে।
যদি সেগুলোকে ঝাঁকানো হয়, তা হলে সেগুলোর ডুমুর সোজা ক্ষুধার্ত ব্যক্তিদের মুখে গিয়ে পড়বে।
১৩ দেখো! তোমার সৈন্যদলগুলো তোমার মাঝে থাকা মহিলাদের মতো।
তোমার দেশের দরজাগুলো তোমার শত্রুদের জন্য পুরোপুরি খোলা থাকবে।
আগুন তোমার দরজার হুড়কোগুলোকে পুড়িয়ে ছারখার করে দেবে।
১৪ জল তোলো এবং অবরোধের জন্য প্রস্তুত হও!
তোমার দৃঢ় দুর্গগুলোকে মজবুত করো।
কাদায় নামো এবং মাটি মাড়াও,
ইট বানানোর ছাঁচ হাতে তুলে নাও।
১৫ কিন্তু তারপরও, আগুন তোমাকে পুড়িয়ে ছারখার করে দেবে।
তলোয়ার তোমাকে কেটে ফেলবে।
সেটা তোমাকে বাচ্চা পঙ্গপালের মতো খেয়ে ফেলবে।
তাই, নিজেকে বাচ্চা পঙ্গপালের মতো অসংখ্য করে তোলো!
হ্যাঁ, নিজেকে পঙ্গপালের মতো অসংখ্য করে তোলো!
১৬ তুমি তোমার বণিকদের সংখ্যা আকাশের তারাগুলোর চেয়েও বেশি করে তুলেছ।
বাচ্চা পঙ্গপাল নিজের খোলস ছেড়ে বের হয় এবং উড়ে যায়।
১৭ তোমার পাহারাদারেরা পঙ্গপালের মতো
আর তোমার আধিকারিকেরা* পঙ্গপালের ঝাঁকের মতো।
সেগুলো ঠাণ্ডার দিনে পাথরের খোঁয়াড়গুলোতে আশ্রয় নেয়,
কিন্তু যখন সূর্য ওঠে, তখন সেগুলো উড়ে যায়
আর কেউই জানে না, সেগুলো কোথায় যায়।
১৮ হে অশূরের রাজা, তোমার পালকেরা ঘুমে ঢুলছে,
তোমার উচ্চপদস্থ লোকেরা নিজেদের বাড়িতে রয়েছে।
তোমার লোকেরা পর্বতগুলোতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে
আর তাদের একত্রিত করার মতো কেউ নেই।
১৯ তুমি তোমার বিপর্যয় থেকে কোনো রেহাই পাবে না।
তোমার ক্ষত সেরে উঠবে না।
যারা তোমার খবর শুনবে, তারা সবাই হাততালি দেবে।
কারণ এমন কে রয়েছে, যার প্রতি তুমি অনবরত নিষ্ঠুর আচরণ করনি?”