মীখা
৭ ধিক আমাকে! আমি সেই ব্যক্তির মতো,
যে গ্রীষ্ম কালের ফল সংগ্রহ করার পর
এবং আঙুর ফল তোলার পরে পড়ে থাকা আঙুর সংগ্রহ করার পর
এক থোকা আঙুরও খেতে পায় না,
প্রথমে পাকা কোনো ডুমুরই খেতে পায় না, যেটা খেতে আমার খুব ইচ্ছা করে।
২ অনুগত ব্যক্তি পৃথিবী থেকে বিনষ্ট* হয়ে গিয়েছে,
এক জন পুরুষও সৎ নয়।
তারা সবাই রক্তপাত করার জন্য ওত পেতে বসে থাকে।
প্রত্যেকে টানাজাল দিয়ে নিজের ভাইয়ের শিকার করে।
৩ তাদের হাত মন্দ কাজ করায় পটু,
অধ্যক্ষ একের-পর-এক দাবি করে,
বিচারক টাকা চায়,
গণ্যমান্য ব্যক্তি বলে বেড়ায় যে, সে কী পেতে চায়
আর তারা একসঙ্গে মিলে ষড়যন্ত্র করে।
৪ তাদের মধ্যে যে সবচেয়ে ভালো, সে কাঁটার মতো,
তাদের মধ্যে যে সবচেয়ে সৎ, সে কাঁটার বেড়ার চেয়েও খারাপ।
সেই দিনটা আসছে, যে-দিনের বিষয়ে তোমার পাহারাদারেরা বলেছিল এবং যে-দিন তোমার বিচার করা হবে।
তাই, তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়বে।
৫ তোমাদের সঙ্গীকে বিশ্বাস কোরো না
কিংবা কাছের বন্ধুর উপর আস্থা রেখো না।
এমনকী যে তোমাকে জড়িয়ে ধরে শোয়, তার সঙ্গে কথা বলার সময়ও সতর্ক থেকো।
৬ কারণ ছেলে নিজের বাবাকে তুচ্ছ করে,
মেয়ে নিজের মায়ের বিরুদ্ধে যায়
আর বৌমা নিজের শাশুড়ির বিরুদ্ধে যায়।
একজন ব্যক্তির পরিবারের সদস্যেরাই তার শত্রু।
৭ কিন্তু, আমি যিহোবার জন্য অপেক্ষা করতে থাকব।
আমি আমার পরিত্রাণের ঈশ্বরের জন্য ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করব।*
আমার ঈশ্বর আমার কথা শুনবেন।
৮ হে আমার শত্রু, আমার অবস্থা দেখে আনন্দ কোরো না।
যদিও আমি পড়ে গিয়েছি, আমি উঠে দাঁড়াব,
যদিও আমি অন্ধকারে রয়েছি, যিহোবা আমার আলো হবেন।
৯ আমি যিহোবার বিরুদ্ধে পাপ করেছি,
তাই আমি ততক্ষণ পর্যন্ত তাঁর প্রচণ্ড রাগ সহ্য করব,
যতক্ষণ না তিনি আমার হয়ে মামলা লড়েন এবং আমাকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দেন।
তিনি আমাকে বের করে আলোতে আনবেন,
আমি তাঁর ন্যায়বিচার দেখব।
১০ আমার শত্রু, যে আমাকে বলত:
“তোমার ঈশ্বর যিহোবা কোথায়?”
সেও তা দেখবে এবং পুরোপুরিভাবে লজ্জিত হবে।
তাকে রাস্তায় কাদার মতো মাড়ানো হবে
আর আমার চোখ তাকে দেখবে।
১১ সেই দিনটা হবে তোমার পাথরের প্রাচীর নির্মাণ করার দিন,
সেই দিন তোমার সীমানা বাড়ানো হবে।
১২ সেই দিন তারা তোমার কাছে আসবে,
অশূর থেকে এবং মিশরের নগরগুলো থেকে আসবে,
মিশর থেকে শুরু করে নদী* পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা থেকে আসবে,
এক সমুদ্র থেকে আরেক সমুদ্র পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা থেকে আসবে
এবং এক পর্বত থেকে আরেক পর্বত পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা থেকে আসবে।
১৩ আর দেশটাকে সেটার বাসিন্দাদের কারণে,
তারা যা-কিছু করেছে, সেগুলোর কারণে ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
১৪ তোমার লাঠি দিয়ে তোমার লোকদের পালন করো, তোমার উত্তরাধিকারের পালকে পালন করো,
যারা বনের মাঝে একা বাস করত, ফলের বাগানের মাঝে বাস করত।
আগেকার দিনগুলোর মতোই তাদের বাশনে ও গিলিয়দে চরতে দাও।
১৫ “যে-দিন তুমি মিশর দেশ থেকে বের হয়ে এসেছিলে,
সেই দিনের মতোই আমি তাকে আশ্চর্যজনক বিষয়গুলো দেখাব।
১৬ জাতিগুলো সেগুলো দেখবে এবং তাদের সমস্ত শক্তি থাকা সত্ত্বেও লজ্জিত হবে।
তারা নিজেদের মুখের উপর হাত রাখবে,
তাদের কান বন্ধ হয়ে যাবে।
১৭ তারা সাপের মতো ধুলো চাটবে,
তারা ভূমির সরীসৃপের মতো কাঁপতে কাঁপতে নিজেদের দৃঢ় দুর্গগুলো থেকে বের হয়ে আসবে।
তারা আতঙ্কিত হয়ে আমাদের ঈশ্বর যিহোবার কাছে আসবে
আর তারা তোমার কারণে ভয় পাবে।”
১৮ তোমার মতো ঈশ্বর আর কে আছেন,
যিনি নিজের উত্তরাধিকারের অবশিষ্ট লোকদের ভুল ক্ষমা করে দেন এবং তাদের অপরাধ আর স্মরণে রাখেন না?
তিনি চিরকাল রেগে থাকবেন না
কারণ তিনি লোকদের প্রতি অটল প্রেম দেখাতে ভালোবাসেন।
১৯ তিনি আবারও আমাদের প্রতি করুণা দেখাবেন, তিনি আমাদের ভুলগুলো মাড়াবেন।*
তুমি তাদের সমস্ত পাপ গভীর সমুদ্রে ছুড়ে ফেলবে।
২০ তুমি যাকোবের প্রতি বিশ্বস্ততা দেখাবে,
অব্রাহামের প্রতি অটল প্রেম দেখাবে,
ঠিক যেমনটা তুমি প্রাচীন কালে আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে দিব্য করেছিলে।