মালাখি
৩ স্বর্গীয় বাহিনীর শাসক যিহোবা বলেন: “দেখো! আমি আমার বার্তাবাহককে পাঠাচ্ছি, সে আমার আগে আগে গিয়ে পথ প্রস্তুত* করবে। আর হঠাৎই সেই সত্য প্রভু, তোমরা যাঁর অনুসন্ধান করছ, তিনি নিজের মন্দিরে আসবেন। আর চুক্তির বার্তাবাহক আসবেন, যাঁর জন্য তোমরা উৎসুকভাবে অপেক্ষা করে রয়েছ। দেখো! তিনি অবশ্যই আসবেন।”
২ “কিন্তু, তিনি যে-দিন আসবেন, কে সেই দিনটা সহ্য করতে পারবে? তিনি যখন প্রকাশিত হবেন, তখন কে দাঁড়াতে পারবে? কারণ তিনি পরিশোধনকারীর আগুনের মতো এবং ধোপার সাবানের* মতো হবেন। ৩ যে-ব্যক্তি রুপো পরিশোধন ও পরিষ্কার করে, তার মতোই তিনি বসবেন এবং তিনি লেবির ছেলেদের পরিষ্কার করবেন। তিনি তাদেরকে সোনা ও রুপোর মতোই বিশুদ্ধ* করবেন। আর তারা নিশ্চিতভাবেই যিহোবার কাছে এমন লোক হয়ে উঠবে, যারা সততার সঙ্গে উপহার হিসেবে দেওয়া বলি উৎসর্গ করে। ৪ তখন যিহূদা ও জেরুসালেমের উপহার হিসেবে দেওয়া বলি যিহোবাকে সত্যিই সন্তুষ্ট করবে, ঠিক যেমনটা অনেক আগে করত।
৫ “আমি বিচার করার জন্য তোমাদের কাছে আসব এবং সেই ব্যক্তিদের দ্রুত শাস্তি দেব, যারা মায়াবিদ্যা চর্চা করে, ব্যভিচার করে, মিথ্যা শপথ করে, মজুরদের, বিধবাদের এবং অনাথ ছেলে-মেয়েদের* ঠকায় আর বিদেশিদের সাহায্য করতে প্রত্যাখ্যান করে।* তারা আমাকে ভয় করেনি।” স্বর্গীয় বাহিনীর শাসক যিহোবা এই কথা বলেছেন।
৬ “কারণ আমি যিহোবা, আমি পরিবর্তিত হই না।* আর তোমরা যাকোবের ছেলে, তাই তোমরা এখনও পর্যন্ত শেষ হয়ে যাওনি। ৭ তোমাদের পূর্বপুরুষদের দিন থেকে তোমরা আমার আইনকানুন থেকে দূরে সরে গিয়েছ এবং সেগুলো পালন করনি। তোমরা আমার কাছে ফিরে এসো, তা হলে আমিও তোমাদের কাছে ফিরে আসব।” স্বর্গীয় বাহিনীর শাসক যিহোবা এই কথা বলেছেন।
কিন্তু, তোমরা বল: “কীভাবে আমরা ফিরে আসব?”
৮ “সামান্য মানুষ কি ঈশ্বরকে লুট করবে? কিন্তু, তোমরা আমাকে লুট করছ।”
তোমরা বল: “কীভাবে আমরা তোমাকে লুট করেছি?”
“দশমাংশ ও দানের ক্ষেত্রে তোমরা তা করেছ। ৯ সত্যিই, তোমরা অভিশপ্ত* কারণ তোমরা আমাকে লুট করছ, হ্যাঁ, পুরো জাতি আমাকে লুট করছে। ১০ সম্পূর্ণ দশমাংশ ভাণ্ডারে নিয়ে এসো, যাতে আমার গৃহে খাবার থাকে। দয়া করে এই ক্ষেত্রে আমাকে পরীক্ষা করো আর দেখো, আমি তোমাদের জন্য আকাশের দরজাগুলো খুলে দিই কি না আর তোমাদের প্রচুর পরিমাণে আশীর্বাদ করি কি না, যাতে তোমাদের কোনো কিছুর অভাব না হয়।” স্বর্গীয় বাহিনীর শাসক যিহোবা এই কথা বলেছেন।
১১ স্বর্গীয় বাহিনীর শাসক যিহোবা বলেন: “আমি তোমাদের জন্য ধ্বংসকারীকে* ধমক দেব আর সেটা তোমাদের জমির ফসল ধ্বংস করবে না। আর এমনটা হবে না যে, তোমাদের খেতের আঙুর গাছগুলোতে ফল নেই।”
১২ স্বর্গীয় বাহিনীর শাসক যিহোবা বলেন: “সমস্ত জাতি তোমাদের সুখী বলবে কারণ তোমাদের দেশ আনন্দের দেশ হয়ে উঠবে।”
১৩ যিহোবা বলেন: “তোমরা আমার বিরুদ্ধে কঠোর কথা বলেছ।”
আর তোমরা বল: “আমরা তোমার বিরুদ্ধে কী বলেছি?”
১৪ “তোমরা বল, ‘ঈশ্বরের সেবা করে কোনো লাভ নেই। আমরা তাঁর প্রতি আমাদের কর্তব্য পালন করে কী পেয়েছি? আমরা স্বর্গীয় বাহিনীর শাসক যিহোবার সামনে অনুতাপ করে কী পেয়েছি? ১৫ এখন তো আমাদের মনে হয়, যারা দুঃসাহসী, তারাই সুখী আর যারা মন্দ কাজ করে, তারাই সফল। তারা ঈশ্বরকে পরীক্ষা করার দুঃসাহস দেখায়, তারপরও তারা পার পেয়ে যায়।’”
১৬ সেই সময় যারা যিহোবাকে ভয় করে, তারা একে অন্যের সঙ্গে, প্রত্যেকে নিজের সঙ্গীর সঙ্গে কথা বলল আর যিহোবা মনোযোগ দিয়ে তাদের কথা শুনতে থাকলেন। আর যারা যিহোবাকে ভয় করে এবং তাঁর নাম নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে,* তাদের স্মরণে রাখার জন্য তাঁর সামনে একটা বই লেখা হল।
১৭ স্বর্গীয় বাহিনীর শাসক যিহোবা বলেন: “সেই দিন তারা আমার বিশেষ সম্পদ* হয়ে উঠবে এবং তারা আমার হবে। আমি তাদের প্রতি সমবেদনা দেখাব, ঠিক যেভাবে একজন ব্যক্তি তার বাধ্য ছেলের প্রতি সমবেদনা দেখায়। ১৮ তোমরা আবারও যে সঠিক কাজ করে এবং যে মন্দ কাজ করে আর যে ঈশ্বরের সেবা করে এবং যে তাঁর সেবা করে না, তাদের মধ্যে পার্থক্য দেখতে পাবে।”