ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w26 নভেম্বর পৃষ্ঠা ১৪-১৯
  • যিহোবা ও যিশুর সঙ্গে বন্ধুত্ব করুন!

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • যিহোবা ও যিশুর সঙ্গে বন্ধুত্ব করুন!
  • প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য সম্বন্ধে ঘোষণা করে (অধ্যয়ন)—২০২৬
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • যিহোবা চান আমরা যেন তাঁর বন্ধু হই
  • যিহোবার চেয়ে ভালো বন্ধু আর কেউই হতে পারে না!
  • কীভাবে আমরা যিহোবার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে পারি?
  • কীভাবে আমরা যিশুর সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে পারি?
  • আপনি কি যিহোবার বন্ধু হতে পারেন?
    চিরকাল জীবন উপভোগ করুন!—ঈশ্বরের কাছ থেকে শিখুন
  • ভাই-বোনদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করুন!
    প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য সম্বন্ধে ঘোষণা করে (অধ্যয়ন)—২০২৬
  • যিহোবা আপনার প্রতি স্নেহ দেখান
    প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য সম্বন্ধে ঘোষণা করে (অধ্যয়ন)—২০২৪
  • “তোমাদিগকে আমি বন্ধু বলিয়াছি”
    প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য সম্বন্ধে ঘোষণা করে (অধ্যয়ন)—২০২০
আরও দেখুন
প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য সম্বন্ধে ঘোষণা করে (অধ্যয়ন)—২০২৬
w26 নভেম্বর পৃষ্ঠা ১৪-১৯

জানুয়ারি ১৮-২৪, ২০২৭

গান ২৮ যিহোবার বন্ধুত্ব লাভ করা

যিহোবা ও যিশুর সঙ্গে বন্ধুত্ব করুন!

“ঈশ্বরের নিকটবর্তী হও, তাতে তিনিও তোমাদের নিকটবর্তী হবেন।”—যাকোব ৪:৮.

আমরা কী শিখব?

আমরা কীভাবে যিহোবা ও যিশুর সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে পারি এবং তা বজায় রাখতে পারি?

১. আমরা কীভাবে জানতে পারি যে, যিহোবা চান লোকেরা যেন তাঁর সম্বন্ধে জানে এবং তাঁকে ভালোবাসে?

যিহোবা আমাদের এমনভাবে সৃষ্টি করেছেন যেন আমরা তাঁর সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে পারি।a এটা দেখায় যে, তিনি চান লোকেরা যেন তাঁর সম্বন্ধে জানে এবং তাঁকে ভালোবাসে। আসলে, যিহোবা সেইসমস্ত ব্যক্তিকে জানেন এবং তাদের ভালোবাসেন, যারা প্রকৃতই তাঁর বন্ধু হতে চায়। তিনি তাদের প্রার্থনা শোনেন, তাদের সঠিক পথ দেখান এবং তাদের সাহায্য করেন। (গীত. ১৩৯:১-৪) এটা কতই-না চমৎকার এক বিষয় যে, নিখিলবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা আমাদের প্রত্যেকের বন্ধু হতে চান!

২. কেন আমরা নিশ্চিত যে, পাপী মানুষ হিসেবে আমরা যিহোবার বন্ধু হতে পারি?

২ আদম ও হবা যখন পাপ করেছিলেন, তখন যিহোবার সঙ্গে তাদের বন্ধুত্ব ভেঙে গিয়েছিল। শুধু তা-ই নয়, এর ফলে আমরা সবাই যিহোবার কাছ থেকে দূরে সরে গিয়েছিলাম। (রোমীয় ৫:১০) এইরকম পরিস্থিতিতে আমাদের মনে হতে পারে, পাপী মানুষ হিসেবে আমরা কখনোই যিহোবার বন্ধু হতে পারব না। কিন্তু, মনে করে দেখুন, যিশু কী বলেছিলেন: “ঈশ্বরের পক্ষে সব কিছুই সম্ভব।” (মার্ক ১০:২৭) যিহোবা সত্যিই আমাদের বন্ধু হতে চান আর তাই তিনি আমাদের জন্য এক বড়ো ত্যাগস্বীকার করেছেন। তিনি আমাদের জন্য তাঁর পুত্রের জীবন দান করেছেন। (১ যোহন ৪:৯, ১০) যিহোবা ও যিশু আমাদের জন্য যা-কিছু করেছেন, সেগুলোর জন্য আমরা তাঁদের কাছে খুবই কৃতজ্ঞ। এই কারণে, আমরা যিহোবার নিকটবর্তী হতে পেরেছি এবং তাঁর ও যিশুর বন্ধু হতে পেরেছি।—যোহন ১৫:৯, ১০.

৩. কেন যিহোবার সঙ্গে বন্ধুত্ব করা এক বড়ো সম্মানের বিষয়?

৩ যিহোবার মতো বন্ধু আর কেউই হতে পারে না। তিনি আমাদের সৃষ্টিকর্তা এবং সর্বশক্তিমান ঈশ্বর। তিনি আমাদের চেয়ে অনেক মহান আর তাই তাঁর বন্ধু হওয়া আমাদের জন্য কতই-না বড়ো এক সম্মানের বিষয়! (গীত. ১৫:১) এই প্রবন্ধে আমরা জানব, (১) কেন আমরা নিশ্চিত হতে পারি, যিহোবা চান আমরা যেন তাঁর বন্ধু হই, (২) কেন আমরা বলতে পারি, যিহোবার চেয়ে ভালো বন্ধু আর কেউই হতে পারে না আর (৩) কীভাবে আমরা যিহোবা ও যিশুর সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে পারি।

যিহোবা চান আমরা যেন তাঁর বন্ধু হই

৪. আমরা অনেক ভুল করি, তাই আমাদের কী মনে হতে পারে?

৪ আমরা জানি, যিহোবা আমাদের অনন্তজীবন দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছেন। (রোমীয় ৬:২৩) কিন্তু, কখনো কখনো আমাদের মনে হতে পারে, ‘আমি তো অনেক ভুল করেছি, যিহোবা কি কখনো আমার বন্ধু হতে চাইবেন?’ আসুন দেখি, কেন আমরা নিশ্চিত হতে পারি যে, যিহোবা সত্যিই আমাদের বন্ধু হতে চান।

৫. কেন আমরা নিশ্চিত হতে পারি যে, যিহোবা চান আমরা যেন তাঁর বন্ধু হই? (ছবিও দেখুন।)

৫ যিহোবা আমাদের জন্য এক বড়ো ত্যাগস্বীকার করেছেন। তিনি তাঁর একজাত পুত্রকে আমাদের জন্য বলি দিয়েছেন। (যোহন ৩:১৬) এটা থেকে আমরা নিশ্চিত হতে পারি যে, যিহোবা আমাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চান। আদম ও হবা পাপ করার কিছু সময় পরই, তিনি মুক্তির মূল্যের ব্যবস্থা করেছিলেন। (আদি. ৩:১৫) যদিও যিহোবা জানতেন, আদম ও হবার সন্তানেরা পাপী হিসেবে জন্মাবে, তা সত্ত্বেও তিনি তাদের জন্য এই ব্যবস্থা করেছিলেন কারণ তিনি তাদের ভালোবাসতেন। (যির. ৩১:৩) এখান থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়, যিহোবা চান আমরা যেন তাঁর বন্ধু হই।

কোলাজ: ১. আদম সেই ফলটা খাচ্ছেন, যেটা যিহোবা তাকে খেতে নিষেধ করেছিলেন আর হবা সেটা দেখছেন। ২. যিশুকে যাতনাদণ্ডে বিদ্ধ করা হয়েছে।

যিহোবা তাঁর প্রিয় পুত্রকে মারা যেতে দিয়েছিলেন, যাতে আমরা যিহোবার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে পারি (৫ অনুচ্ছেদ দেখুন)


৬. আমরা যেন যিহোবার নিকটবর্তী হই, সেইজন্য তিনি কী করেন? (যাকোব ৪:৮)

৬ যিহোবা শুধুমাত্র এটা চান না যে, আমরা যেন তাঁর বন্ধু হই, কিন্তু এর পাশাপাশি তিনি আমাদের অনুরোধ করেন, যেন আমরা তাঁর নিকটবর্তী হই। (পড়ুন, যাকোব ৪:৮.) তিনি জানেন, আমরা কেউই নিখুঁত নই, তা সত্ত্বেও তিনি আমাদের প্রত্যেককে প্রেমের সঙ্গে তাঁর দিকে আকর্ষণ করেন। (যোহন ৬:৪৪) যিহোবা বলেন, আমরা যেন প্রতিদিন প্রার্থনায় তাঁর কাছে মনের কথা খুলে বলি। (বিলাপ ২:১৯; ফিলি. ৪:৬, ৭) আর তিনি যে শুধু আমাদের প্রার্থনা শোনেন তা-ই নয়, কিন্তু সেইসঙ্গে তিনি আমাদের প্রার্থনার উত্তরও দেন। (মথি ৭:৭, ৮) এই সমস্ত বিষয় আমাদের নিশ্চিত করে যে, যিহোবা চান আমরা যেন তাঁর বন্ধু হই। এখন আসুন দেখি, কেন আমরা বলতে পারি, যিহোবার চেয়ে ভালো বন্ধু আর কেউই হতে পারে না।

যিহোবার চেয়ে ভালো বন্ধু আর কেউই হতে পারে না!

৭. যিহোবা তাঁর বন্ধুদের প্রতি কোন ধরনের প্রেম দেখান আর এর অর্থ কী? (যাত্রাপুস্তক ৩৪:৬)

৭ যিহোবা অটল প্রেম দেখান। যিহোবা সবার প্রতি প্রেম দেখান, কিন্তু তাঁর বন্ধুদের প্রতি তাঁর বিশেষ প্রেম রয়েছে। তিনি তাদের প্রতি অটল প্রেম দেখান। (গীত. ৪:৩) এর অর্থ কী? কারো মধ্যে যদি অটল প্রেম থাকে, তা হলে সে অন্যের প্রতি ক্রমাগত ভালোবাসা দেখাবে এবং বিশ্বস্তভাবে তার পাশে থাকবে। বাইবেলে বলা হয়েছে যে, যিহোবা অটল প্রেমে পরিপূর্ণ এবং তাঁর প্রেম মহৎ। (পড়ুন, যাত্রাপুস্তক ৩৪:৬.) তাই, যিহোবা যখন আমাদের বন্ধু হন, তখন তিনি আমাদের পাশে থাকেন এবং সবসময় আমাদের সমর্থন করেন। আমাদের দুর্বলতা বা ভুলত্রুটির জন্য তিনি আমাদের একা ছেড়ে দেন না। এর পরিবর্তে, অটল প্রেমের কারণে তিনি আমাদের ক্ষমা করেন এবং আমাদের সাহায্য করেন।—গীত. ১০৩:১১, ১২.

৮. যিহোবা কীভাবে দেখিয়েছিলেন যে, তিনি তাঁর বন্ধু অব্রাহাম ও দায়ূদকে কখনো ভুলে যাননি? (ছবিও দেখুন।)

৮ যিহোবা তাঁর বন্ধুদের কখনো ভুলে যান না। অব্রাহামের কথা একবার চিন্তা করে দেখুন। অব্রাহাম মারা যাওয়ার বহু বছর পরও, যিহোবা তার সম্বন্ধে বলেছিলেন, সে “আমার বন্ধু”। (যিশা. ৪১:৮, NW.) আর দায়ূদের বিষয়ে কী বলা যায়? যিহোবা দায়ূদের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, তিনি তার সিংহাসন চিরকালের জন্য দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করবেন। (১ বংশা. ১৭:১১-১৭) যিহোবা তাঁর এই প্রতিজ্ঞা কখনো ভুলে যাননি। শত শত বছর পরও, যিহোবা আরও একবার এই বিষয়ে উল্লেখ করেছিলেন। তিনি যিশুর বিষয়ে বলেছিলেন, তিনি “তাঁকে তাঁর পূর্বপুরুষ দায়ূদের সিংহাসন দেবেন।” (লূক ১:৩২, ৩৩) এরপর, ১৯১৪ সালে যিহোবা তাঁর করা এই প্রতিজ্ঞা পরিপূর্ণ করেছিলেন। তিনি যিশুকে দায়ূদের সিংহাসন দেন এবং তাঁকে স্বর্গে রাজা হিসেবে নিযুক্ত করেন।

যিহোবা তাঁর বন্ধুদের কখনো ভুলে যান না (৮-৯ অনুচ্ছেদ দেখুন)c


৯. আপনি হান্নার উদাহরণ থেকে কী শিখতে পারেন? (ছবিও দেখুন।)

৯ আপনার হয়তো মনে হতে পারে, ‘অব্রাহাম ও দায়ূদ যিহোবার কাছে খুবই বিশেষ ব্যক্তি ছিলেন। কিন্তু, আমি তো যিহোবার সাধারণ একজন সেবক।’ আপনি যদি এমনটা চিন্তা করেন, তা হলে আসুন দেখি, যিহোবা হান্নার সঙ্গে কেমন আচরণ করেছিলেন। হান্নার স্বামীর আরেকজন স্ত্রী ছিল, যার নাম পনিন্না। পনিন্না সবসময় হান্নাকে টিটকারি দিতেন কারণ হান্নার কোনো সন্তান ছিল না, তিনি বন্ধ্যা ছিলেন। (১ শমূ. ১:৪-৭) হান্না হয়তো মনে করেছিলেন যে, যিহোবা তাকে ভুলে গিয়েছেন। কিন্তু, তারপরও তিনি যিহোবার কাছে নিজের মনের কথা খুলে বলেছিলেন। (১ শমূ. ১:১১, ১৫) যিহোবা হান্নার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছিলেন এবং প্রমাণ করেছিলেন যে, তিনি তার ভালো বন্ধু। তিনি শুধু হান্নার প্রার্থনাই শোনেননি, কিন্তু সেইসঙ্গে তিনি তাকে সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষমতা দিয়ে আশীর্বাদও করেছিলেন।b হান্না গর্ভবতী হয়েছিলেন এবং একটি ছেলের জন্ম দিয়েছিলেন। আর তিনি তার নাম রেখেছিলেন শমূয়েল। (১ শমূ. ১:২০) পরে, যিহোবার আশীর্বাদে হান্নার আরও তিনটি ছেলে এবং দু-টি মেয়ে হয়। (১ শমূ. ২:২১) সত্যিই, যিহোবা তাঁর প্রত্যেক বন্ধুর প্রতি অটল প্রেম দেখান, তা তারা নিজেদের যত ছোটো বা সাধারণ বলে মনে করুক না কেন।—যির. ৩১:৩.

১০. যিহোবার পরামর্শ মানুষের পরামর্শের চেয়ে কেন শ্রেষ্ঠ? (গীতসংহিতা ১১৯:৯৮-১০০)

১০ যিহোবা সবচেয়ে ভালো পরামর্শ দেন। যিহোবা আমাদের শিক্ষা দেন, সংশোধন করেন এবং আমাদের বোঝার ক্ষমতাও দেন। তিনি হলেন সবচেয়ে মহান পরামর্শদাতা। (পড়ুন, গীতসংহিতা ১১৯:৯৮-১০০.) তিনি সব কিছু জানেন এবং সবসময় আমাদের ভালো চান। (যিশা. ৪৮:১৭, ১৮) বর্তমানে, জগতের লোকেরা সফল হওয়ার জন্য বড়ো বড়ো পরামর্শদাতাদের পিছনে অনেক অর্থ ব্যয় করে। কিন্তু, আমাদের ঈশ্বর যিহোবা এই পরামর্শদাতাদের চেয়ে অনেক শ্রেষ্ঠ। তিনি সবচেয়ে মহান এবং তাঁর পরামর্শ সবচেয়ে উত্তম। এ ছাড়া, আমরা যখনই ইচ্ছা, তখনই তাঁর কাছ থেকে পরামর্শ নিতে পারি, তা-ও আবার বিনা মূল্যে। যিহোবা আমাদের সাহায্য করার জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকেন। তিনি কখনো ঘুমিয়ে পড়েন না কিংবা ক্লান্ত হন না। (গীত. ১২১:১-৪) আর তাঁর পরামর্শ মেনে চললে আমরা সবসময় উপকার লাভ করি।—গীত. ১:২, ৩.

১১. কেন আমরা বলতে পারি, যিহোবা হলেন একজন উদার বন্ধু?

১১ যিহোবা হলেন একজন উদার বন্ধু। যিহোবার প্রতিটা কাজে তাঁর উদারতা স্পষ্টভাবে দেখা যায়। যেমন, তিনি শুধু আমাদের জীবনই দেননি, কিন্তু সেইসঙ্গে সেটা উপভোগ করার জন্য সমস্ত কিছু দিয়েছেন। (গীত. ১৪৫:১৬; প্রেরিত ১৪:১৭) তিনি আমাদের প্রজ্ঞা দেন, যেটার মাধ্যমে আমরা সমস্যাগুলোর সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারি। (যাকোব ১:৫) তিনি আমাদের হৃদয় থেকে ক্ষমা করেন। শুধু তা-ই নয়, আমরা পাপী হওয়া সত্ত্বেও তিনি আমাদের মূল্যবান বলে মনে করেন। তিনি আমাদের প্রতি প্রেম ও সম্মান দেখিয়ে আচরণ করেন। যিহোবার উদারতার সবচেয়ে বড়ো প্রমাণ হল, তিনি তাঁর প্রিয় পুত্রকে আমাদের জন্য বলি হিসেবে দান করেছেন, যাতে আমরা অনন্তজীবন লাভ করতে পারি। সত্যিই, যিহোবা কতই-না উদার একজন বন্ধু! এখন প্রশ্ন হল, আমরা কীভাবে তাঁর বন্ধু হতে পারি এবং চিরকাল তা বজায় রাখতে পারি?

কীভাবে আমরা যিহোবার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে পারি?

১২. যিহোবার সঙ্গে বন্ধুত্ব করার জন্য আমাদের কী করতে হবে? (ইব্রীয় ১১:৬)

১২ যিহোবা আশা করেন, আমরা যেন তাঁর সঙ্গে বন্ধুত্ব করার এবং তা বজায় রাখার জন্য প্রচেষ্টা করি। (পড়ুন, ইব্রীয় ১১:৬.) যিহোবার বন্ধু হওয়ার জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ আমরা যেন তাঁর উপর বিশ্বাস করি এবং নিশ্চিত থাকি যে, তিনি আমাদের বিশ্বাসের জন্য পুরস্কার দেবেন। কিন্তু, যিহোবার সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখার জন্য আমাদের আরও তিনটে বিষয়ের উপর মনোযোগ দিতে হবে।

১৩. ঈশ্বরকে ভয় করার অর্থ কী?

১৩ আমাদের যিহোবার প্রতি ভয় থাকা প্রয়োজন। গীতসংহিতা ২৫:১৪ পদে লেখা আছে, “যারা যিহোবাকে ভয় করে, কেবল তারাই তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব উপভোগ করে।” ঈশ্বরকে ভয় করার অর্থ কী? এর অর্থ হল, আমরা তাঁকে এতটা ভালোবাসি যে, আমরা কখনো তাঁকে দুঃখ দিতে চাই না। তাই, কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আমরা তাঁর বাক্য থেকে গবেষণা করি। (হিতো. ৩:৫, ৬) আমরা যখন আমাদের নির্ভরযোগ্য বন্ধুর পরামর্শ মেনে চলব, তখন আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারব আর এতে আমাদেরই উপকার হবে। এই কারণে হিতোপদেশ ৯:১০ পদে লেখা আছে, ঈশ্বরের প্রতি ভয় “প্রজ্ঞার আরম্ভ।”

১৪. আমরা কীভাবে দেখাতে পারি যে, আমরা যিহোবার প্রতি বিশ্বস্ত?

১৪ আমাদের যিহোবার প্রতি বিশ্বস্ত থাকা প্রয়োজন। যিহোবা চান যেন তাঁর বন্ধুরা তাঁর প্রতি বিশ্বস্ত থাকে কারণ তিনিও তাদের প্রতি বিশ্বস্ত থাকেন। (২ শমূ. ২২:২৬; হিতো. ৩:৩২) আমরা কীভাবে দেখাতে পারি যে, আমরা যিহোবার প্রতি বিশ্বস্ত? আমরা যিহোবাকে আমাদের জীবনে প্রথম স্থান দেব। এ ছাড়া, আমরা যিশুকে অনুকরণ করে যিহোবার অসাধারণ গুণ সম্বন্ধে অন্যদের জানাব। (মথি ২৮:১৯, ২০) শত্রুরা আমাদের যতই বিরোধিতা করুক না কেন, আমরা যিহোবার প্রতি বিশ্বস্ততা বজায় রাখব। শুধু তা-ই নয়, আমরা এমন কোনো কিছু করব না, যার ফলে আমাদের প্রেমময় পিতা ও বন্ধু যিহোবার সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্ব ভেঙে যাবে।

১৫. কীভাবে আমরা অন্যদের প্রতি অটল প্রেম দেখাতে পারি?

১৫ আমাদের অন্যদের প্রতি অটল প্রেম দেখানো প্রয়োজন। যিহোবা তাঁর বন্ধুদের প্রতি অটল প্রেম দেখান আর তিনি চান আমরা যেন এমনটাই করি। তাই, যিহোবাকে ভালোবাসে এমন বন্ধুদের প্রতি আমরা অটল প্রেম দেখাই। অন্যেরা আমাদের জন্য যে-ভালো কাজগুলো করেছে, আমরা সেগুলো কখনোই ভুলে যাই না। আমরা কখনো আমাদের বন্ধুদের ছেড়ে দিই না। আমরা বিভিন্নভাবে তাদের প্রতি প্রেম ও উদারতা দেখাই। যিহোবা চান যেন আমরা ‘অটল প্রেমকে ভালোবাসি।’ (মীখা ৬:৮, পাদটীকা NW.) কীভাবে আমরা অন্যদের প্রতি অটল প্রেম দেখাতে পারি, এই বিষয়ে আমরা পরের প্রবন্ধে আরও জানব। কিন্তু, আসুন এখন আমরা দেখি যে, কীভাবে আমরা যিশুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে পারি।

কীভাবে আমরা যিশুর সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে পারি?

১৬-১৭. (ক) কীভাবে আমরা জানতে পারি, যিশু আমাদের বন্ধু হতে চান? (খ) যিশুর সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্ব এবং যিহোবার সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বের মধ্যে কোন পার্থক্য রয়েছে?

১৬ যিশু আমাদের বন্ধু হতে চান। কেন আমরা তা বলতে পারি? আমাদের জন্ম হওয়ার আগেই তিনি আমাদের জন্য নিজের জীবন দিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, “কেউ যদি বন্ধুদের জন্য নিজের জীবন দান করে, তবে এর চেয়ে মহৎ প্রেম আর নেই।” (যোহন ১৫:১৩) যিশু কতই-না চমৎকার উপায়ে দেখিয়েছিলেন যে, তিনি আমাদের বন্ধু হতে চান!

১৭ যিশু আমাদের প্রত্যেকের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চান। (মথি ১১:২৮-৩০; যোহন ১৫:১৫) কিন্তু, যিশুর সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্ব এবং যিহোবার সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। যেমন, আমরা যিশুর কাছে প্রার্থনা করি না এবং তাঁর উপাসনা করি না। (মথি ৪:১০; ৬:৯) তবে, যিশু আমাদের জন্য যা-কিছু করেছেন, সেগুলোর জন্য আমরা তাঁর প্রতি হৃদয় থেকে কৃতজ্ঞ আর তাই আমরা তাঁর ভালো বন্ধু হতে চাই।

১৮. যিশু আমাদের জন্য কী কী করেন?

১৮ যিশু একজন বন্ধু হিসেবে আমাদের জন্য অনেক কিছু করেন। ভাববাদী যিশাইয় অনেক আগেই বলেছিলেন, যিশু একজন “অসাধারণ পরামর্শদাতা,” “অনন্তকালীন পিতা” এবং “শান্তির রাজা” হবেন। (যিশা. ৯:৬, NW.) যিশু আমাদের “অসাধারণ পরামর্শদাতা।” তিনি আমাদের এমন পরামর্শ দেন, যেগুলো আমাদের জন্য খুবই কার্যকারী এবং আমাদের জীবন রক্ষা করতে পারে। যিহোবা তাঁকে “অনন্তকালীন পিতা” করেছেন অর্থাৎ তাঁর কাছে মানুষকে অনন্তজীবন দেওয়ার অধিকার রয়েছে। (যোহন ১১:২৫, ২৬) যিশু হলেন “শান্তির রাজা।” এই কারণে আমাদের মধ্যে শান্তি রয়েছে আর আমরা আমাদের পিতা যিহোবার সঙ্গে এক ভালো সম্পর্ক উপভোগ করতে পারি। এ ছাড়া, তিনি আমাদের দুর্বলতা বুঝতে পারেন এবং আমাদের প্রতি সমবেদনা দেখান কারণ তিনি “সমস্ত ক্ষেত্রে আমাদের মতো পরীক্ষিত হয়েছেন।” (ইব্রীয় ৪:১৫) সত্যিই, যিশু আমাদের কত ভালো বন্ধু!

১৯. যিশুর বন্ধু হওয়ার জন্য আমরা কী করতে পারি? (যোহন ১৫:১৪) (ছবিও দেখুন।)

১৯ যিশুর বন্ধু হওয়ার জন্য আমরা কী করতে পারি? (১ পিতর ১:৮) আমরা সুসমাচারের বইগুলো ভালোভাবে অধ্যয়ন করতে পারি এবং যিশু কী বলেছিলেন আর কী করেছিলেন, সেই বিষয়ে মনোযোগ দিতে পারি। এমনটা করলে আমরা কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাঁর পরামর্শ মেনে চলতে এবং তাঁর মতো চিন্তা করতে পারব। এ ছাড়া, যিশুর বন্ধু হওয়ার জন্য আমাদের তাঁর কর্তৃত্বকে সম্মান করতে এবং তাঁর নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। (পড়ুন, যোহন ১৫:১৪.) এর মানে হল, আমরা মণ্ডলীর সমস্ত ব্যবস্থাকে পুরোপুরিভাবে সমর্থন করব। এর পাশাপাশি, যিশু আমাদের যত্ন নেওয়ার জন্য যাদের নিযুক্ত করেছেন, আমরা তাদের পূর্ণ সমর্থন করব। (ইফি. ৪:৮; ইব্রীয় ১৩:১৭) শুধু তা-ই নয়, মণ্ডলীতে আমাদের যেকোনো কাজ বা দায়িত্ব দেওয়া হোক না কেন, আমরা তা ভালোভাবে সম্পন্ন করব। যদি আমরা এমনটা করি, তা হলে আমরা নিশ্চিত থাকতে পারি যে, যিশুর বন্ধু হওয়ার জন্য আমরা যে-প্রচেষ্টাই করি না কেন, তিনি সেগুলোর প্রতি মনোযোগ দেন এবং সেগুলো উপলব্ধি করেন।

একজন ভাই কিংডম হলে বয়স্ক এক ভাইকে সাহায্য করছেন, যিনি উইলচেয়ারে বসে রয়েছেন। আশেপাশে কিছু ভাই-বোন কিংডম হল পরিষ্কার করছে, কেউ আবার সাহিত্যাদি গুছিয়ে রাখছে এবং কেউ কেউ নোটিশ বোর্ডে কিছু লাগাচ্ছে।

খ্রিস্টীয় মণ্ডলীতে নিজেদের দায়িত্বগুলো পালন করার মাধ্যমে আমরা যিশুর ভালো বন্ধু হতে পারি (১৯ অনুচ্ছেদ দেখুন)


২০. যিহোবা এবং তাঁর পুত্র যিশু আপনার বন্ধু, এটা ভেবে আপনি কেমন অনুভব করেন?

২০ এটা আমাদের জন্য কতই-না সম্মানের এক বিষয় যে, আমরা সর্বশক্তিমান ঈশ্বর যিহোবা এবং তাঁর পুত্র যিশু খ্রিস্টের বন্ধু! আমাদের সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু যিহোবা আমাদের প্রার্থনাগুলো শোনেন এবং সেগুলোর উত্তর দেন। তিনি এবং তাঁর পুত্র আমাদের সমস্ত দিক দিয়ে সাহায্য করেন, যাতে আমরা তাঁদের নিকটবর্তী হই। তাঁদের বন্ধুত্ব আমাদের কাছে খুবই মূল্যবান! (মথি ৫:৩) আমরা এই বিষয়ে দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ যে, আমরা সবসময় তাঁদের সমর্থন করব এবং তাঁদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখব।

আপনি কীভাবে উত্তর দেবেন?

  • আপনি কীভাবে জানতে পারেন, যিহোবা চান আপনি যেন তাঁর বন্ধু হন?

  • কীভাবে আমরা যিহোবার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে পারি?

  • কীভাবে আমরা যিশুর সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে পারি?

গান ৩১ যিহোবার সঙ্গে চলা

a যিহোবা স্বর্গদূত ও মানুষকে এইজন্য সৃষ্টি করেননি যে, তাঁর বন্ধুর প্রয়োজন। আসলে, তিনি তাঁদের ভালোবাসেন, তাই তিনি নিজে তাদের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।—১ যোহন ৪:৮.

b বর্তমানে আমরা এটা আশা করি না যে, যিহোবা কোনো অলৌকিক উপায়ে আমাদের প্রার্থনার উত্তর দেবেন, যেমন তিনি আমাদের কোনো অসুস্থতা দূর করে দেবেন।

c ছবি সম্বন্ধে বর্ণনা: অব্রাহাম, হান্না, রাজা দায়ূদ এবং বর্তমান দিনের যিহোবার কিছু সেবক, যাদের চিরকাল এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার আশা রয়েছে।

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার