-
‘যিহোবার বিধি’ নিষ্ফল হতে পারে না২০০৪ প্রহরীদুর্গ | জুলাই ১৫
-
-
জাতিগুলো কলহ করে
৪. কীভাবে আপনি গীতসংহিতা ২:১, ২ পদের মূল বিষয়গুলোর সারসংক্ষেপ করবেন?
৪ জাতিগুলো এবং তাদের শাসকদের কার্যকলাপ সম্বন্ধে উল্লেখ করে গীতরচক এই গীত গাওয়ার মাধ্যমে তার রচনা শুরু করেন: “জাতিগণ কেন কলহ করে? লোকবৃন্দ কেন অনর্থক বিষয় ধ্যান করে? পৃথিবীর রাজগণ দণ্ডায়মান হয়, নায়কগণ একসঙ্গে মন্ত্রণা করে, সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে এবং তাঁহার অভিষিক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে।”—গীতসংহিতা ২:১, ২.a
৫, ৬. জাতীয় দলগুলো কোন “অনর্থক বিষয়” নিয়ে “ধ্যান করে”?
৫ বর্তমান দিনের জাতীয় দলগুলো কোন “অনর্থক বিষয়” নিয়ে “ধ্যান করে”? ঈশ্বরের অভিষিক্ত ব্যক্তিকে—মশীহ অথবা খ্রিস্টকে—গ্রহণ করার পরিবর্তে জাতিগুলো তাদের নিজেদের কর্তৃত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য “ধ্যান করে।” দ্বিতীয় গীতের এই কথাগুলো সা.কা. প্রথম শতাব্দীতেও পরিপূর্ণ হয়েছিল, যখন যিহুদি এবং রোমীয় কর্তৃপক্ষ ঈশ্বরের মনোনীত রাজা যিশু খ্রিস্টকে হত্যা করার জন্য একত্রে কাজ করেছিল। কিন্তু, এর বিরাট পরিপূর্ণতা শুরু হয়েছিল ১৯১৪ সালে, যখন যিশুকে স্বর্গীয় রাজা হিসেবে স্থাপন করা হয়েছিল। তখন থেকে পৃথিবীর একটা রাজনৈতিক সংগঠনও ঈশ্বরের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত রাজাকে স্বীকার করেনি।
৬ এর অর্থ কী ছিল, যখন গীতরচক জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘লোকবৃন্দ কেন অনর্থক বিষয় লইয়া ধ্যান করে’? এটা হল তাদের সেই উদ্দেশ্য, যা অনর্থক; এটা অসার এবং নিষ্ফল হবেই হবে। তারা এই পৃথিবীতে শান্তি ও একতা আনতে পারবে না। কিন্তু, তারা তাদের কাজকে ঐশিক শাসনপদের বিরোধিতা করার পর্যায়ে নিয়ে যায়। বস্তুত, তারা একত্রে এক যুদ্ধরত অবস্থান নিয়েছে এবং পরাৎপর ও তাঁর অভিষিক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিজেদের একত্রিত করেছে। কতই না মূর্খতাপূর্ণ কাজ!
যিহোবার বিজয়ী রাজা
৭. প্রার্থনায় যিশুর প্রাথমিক অনুসারীরা কীভাবে গীতসংহিতা ২:১, ২ পদের কথাগুলো প্রয়োগ করেছিল?
৭ যিশুর অনুসারীরা গীতসংহিতা ২:১, ২ পদের কথাগুলো তাঁর প্রতি প্রয়োগ করে। তাদের বিশ্বাসের জন্য তাড়িত হয়ে তারা প্রার্থনা করেছিল: “হে স্বামিন [যিহোবা], তুমি আকাশ, পৃথিবী, সমুদ্র এবং এই সকলের মধ্যে যাহা কিছু আছে, সমস্তের নির্ম্মাণকর্ত্তা; তুমি তোমার দাস আমাদের পিতা দায়ূদের মুখ দিয়া, পবিত্র আত্মা দ্বারা, এই কথা বলিয়াছিলে, যথা, ‘জাতিগণ কেন কলহ করিল? লোকবৃন্দ কেন অনর্থক বিষয় ধ্যান করিল? পৃথিবীর রাজগণ দণ্ডায়মান হইল, শাসনকর্ত্তৃগণ একত্র হইল—প্রভুর [“যিহোবার,” NW] বিরুদ্ধে এবং তাঁহার অভিষিক্তের বিরুদ্ধে।’ কেননা সত্যই তোমার পবিত্র দাস যীশু, যাঁহাকে তুমি অভিষিক্ত করিয়াছ, তাঁহার বিরুদ্ধে হেরোদ [আন্তিপা] ও পন্তীয় পীলাত জাতিগণের ও ইস্রায়েল-লোকদের সঙ্গে এই নগরে একত্র হইয়াছিল।” (প্রেরিত ৪:২৪-২৭; লূক ২৩:১-১২)b হ্যাঁ, প্রথম শতাব্দীতে ঈশ্বরের অভিষিক্ত দাস যিশুর বিরুদ্ধে এক ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। কিন্তু, কয়েক শতাব্দী পরে এই গীতের আরেকটা পরিপূর্ণতা ঘটবে।
৮. কীভাবে গীতসংহিতা ২:৩ পদ বর্তমান দিনের জাতিগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
৮ প্রাচীন ইস্রায়েলে যখন মনুষ্য রাজা ছিল, যেমন দায়ূদ, তখন পৌত্তলিক জাতিগুলো এবং শাসকরা, ঈশ্বর এবং সিংহাসনে অধিষ্ঠিত তাঁর অভিষিক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে একত্রিত হতো। কিন্তু, আমাদের দিন সম্বন্ধে কী বলা যায়? বর্তমান দিনের জাতিগুলো যিহোবা এবং মশীহের চাহিদাগুলো পূরণ করতে চায় না। তাই, তারা আসলে এই কথা বলছে: “আইস, আমরা উহাদের বন্ধন ছিড়িয়া ফেলি, আপনাদের হইতে উহাদের রজ্জু খুলিয়া ফেলি।” (গীতসংহিতা ২:৩) শাসক এবং জাতিগুলো, ঈশ্বর ও তাঁর অভিষিক্ত ব্যক্তির দ্বারা আরোপিত যেকোনো বাধানিষেধের বিরোধিতা করবে। অবশ্যই, এই ধরনের বন্ধন থেকে ছিন্ন এবং রজ্জু থেকে মুক্ত হওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টাই অসার হবে।
-
-
‘যিহোবার বিধি’ নিষ্ফল হতে পারে না২০০৪ প্রহরীদুর্গ | জুলাই ১৫
-
-
a প্রাথমিক অর্থে, রাজা দায়ূদ ছিলেন ‘অভিষিক্ত ব্যক্তি’ এবং “পৃথিবীর রাজগণ” ছিল পলেষ্টীয় শাসকরা, যারা তার বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী একত্রিত করেছিল।
b এ ছাড়া, খ্রিস্টীয় গ্রিক শাস্ত্রের অন্যান্য পদও দেখায় যে, যিশু হলেন ঈশ্বরের সেই অভিষিক্ত ব্যক্তি, যাঁর সম্বন্ধে দ্বিতীয় গীতে উল্লেখ করা হয়েছে। এটা গীতসংহিতা ২:৭ পদের সঙ্গে প্রেরিত ১৩:৩২, ৩৩ এবং ইব্রীয় ১:৫; ৫:৫ পদের তুলনা করলে স্পষ্ট হয়। এ ছাড়া, গীতসংহিতা ২:৯ এবং প্রকাশিত বাক্য ২:২৭ পদও দেখুন।
-