-
জ্যোতি বাহকগণ—কী উদ্দেশ্যে?প্রহরীদুর্গ—১৯৯৩ | এপ্রিল ১
-
-
যাঁকে “পরজাতিগণের জ্যোতি” হিসাবে দেওয়া হয়েছে
৬. যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে যিহোবা কোন্ অপূর্ব প্রত্যাশা আমাদের জন্য সম্ভব করেছেন?
৬ আদম এবং হবাকে পরমদেশ থেকে নির্বাসিত করার আগেই, যিহোবা এক “বীজ” সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, যিনি ধার্মিকতার প্রেমিকদের পরিত্রাতা হবেন। (আদিপুস্তক ৩:১৫) সেই প্রতিজ্ঞাত বীজের মানবজন্মের পর, যিহোবা যিরূশালেমের মন্দিরে বয়োবৃদ্ধ শিমিয়োনের দ্বারা তাঁকে “পরজাতিগণের প্রতি প্রকাশিত হইবার জ্যোতি” হিসাবে শনাক্ত করান। (লূক ২:২৯-৩২) যীশুর সিদ্ধ মানবজীবনের উৎসর্গের প্রতি বিশ্বাসের মাধ্যমে, মানবজাতি জন্মগত পাপজাত দন্ডাজ্ঞা থেকে মুক্তি পেতে পারে। (যোহন ৩:৩৬) যিহোবার ইচ্ছানুযায়ী, এখন তারা স্বর্গীয় রাজ্যের অংশ অথবা তার প্রজা হিসাবে অনন্তকাল সিদ্ধ জীবনের আশা রাখতে পারে। কী অপূর্ব ব্যবস্থা!
৭. কেন যিশাইয় ৪২:১-৪ পদের প্রতিজ্ঞা এবং প্রথম শতাব্দীতে তার পরিপূর্ণতা আমাদের আশায় ভরিয়ে দেয়?
৭ যীশু খ্রীষ্ট নিজে এই সব অপূর্ব প্রত্যাশার পূর্ণতার নিশ্চয়তাস্বরূপ। যীশুর অসুস্থ লোকেদের সুস্থ করা সম্বন্ধে, প্রেরিত মথি যিশাইয় ৪২:১-৪ পদে যা লেখা আছে তা তাঁর প্রতি প্রয়োগ করেছেন। সেই শাস্ত্রপদে, আংশিকভাবে বলা হয়েছে: “ঐ দেখ, আমার দাস, আমি তাঁহাকে ধারণ করি; তিনি আমার মনোনীত, আমার প্রাণ তাঁহাতে প্রীত; আমি তাঁহার উপরে আপন আত্মাকে স্থাপন করিলাম; তিনি জাতিগণের কাছে ন্যায়বিচার উপস্থিত করিবেন।” আর সমস্ত জাতির লোকেদের কি এই রকমই কিছুর প্রয়োজন নেই? সেই ভবিষ্যদ্বাণী আরও বলে: “তিনি চীৎকার করিবেন না, উচ্চশব্দ করিবেন না, পথে আপন রব শুনাইবেন না। তিনি থেৎলা নল ভাঙ্গিবেন না; সধূম শলিতা নির্ব্বাণ করিবেন না।” এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, যে লোকেরা ইতিমধ্যেই পীড়িত ছিল যীশু তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেননি। তিনি তাদের প্রতি করুণা দেখিয়েছিলেন, যিহোবার উদ্দেশ্য সম্বন্ধে তাদের শিখিয়েছিলেন, এবং তাদের সুস্থ করেছিলেন।—মথি ১২:১৫-২১.
৮. কোন্ অর্থে যিহোবা যীশুকে “প্রজাগণের নিয়মস্বরূপ ও জাতিগণের জ্যোতিস্বরূপ” দিয়েছিলেন?
৮ এই ভবিষ্যদ্বাণীদাতা তাঁর সেবক, যীশুকে উদ্দেশ্য করে বলেন: “আমি যিহোবা ধর্ম্মশীলতায় তোমাকে আহ্বান করিয়াছি, আর আমি তোমার হস্ত ধরিব, তোমাকে রক্ষা করিব; এবং তোমাকে প্রজাগণের নিয়মস্বরূপ ও জাতিগণের জ্যোতিস্বরূপ করিয়া নিযুক্ত করিব; তুমি অন্ধদিগকে চক্ষু দিবে, তুমি কারাকূপ হইতে অন্ধকারবাসিগণকে বাহির করিয়া আনিবে।” (যিশাইয় ৪২:৬, ৭, NW.) হ্যাঁ, যিহোবা এক চুক্তি হিসাবে, এক পবিত্র অঙ্গীকারপূর্ণ নিশ্চয়তা হিসাবে যীশু খ্রীষ্টকে দিয়েছেন। এই নিশ্চয়তা কত উৎসাহজনক! পৃথিবীতে থাকাকালীন যীশু মানবজাতির জন্য প্রকৃত উদ্বেগ দেখিয়েছিলেন; তিনি এমনকি মানবজাতির জন্য তাঁর জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর হাতেই যিহোবা সমস্ত জাতিগণের শাসনভার অর্পণ করেছেন। কোন আশ্চর্যের বিষয় নয় যে যিহোবা তাঁকে জাতিগণের জ্যোতি হিসাবে সম্বোধন করেছেন। যীশু নিজে বলেছিলেন: “আমি জগতের জ্যোতি।”—যোহন ৮:১২.
৯. তখনকার শাসনব্যবস্থা সংশোধন করতে কেন যীশু তাঁর জীবন উৎসর্গ করেননি?
৯ কী উদ্দেশ্যে যীশু জগতের জ্যোতি হিসাবে কাজ করেছিলেন? অবশ্যই কোন জাগতিক অথবা বস্তুবাদিতা-সংক্রান্ত উদ্দেশ্য নিয়ে নয়। তখনকার রাজনৈতিক ব্যবস্থা সংশোধন করতে তিনি অস্বীকার করেছিলেন এবং জগতের অধিপতি, শয়তান অথবা মানুষের কাছ থেকে তিনি রাজপদ গ্রহণ করেননি। (লূক ৪:৫-৮; যোহন ৬:১৫; ১৪:৩০) যারা পীড়িত ছিল যীশু তাদের প্রতি প্রচুর সমবেদনা দেখিয়েছিলেন এবং এমনভাবে তাদের কষ্ট উপশম করেছিলেন যেভাবে অন্য কেউ পারে না। কিন্তু তিনি জানতেন যে যতক্ষণ মানবসমাজের কাঠামো জন্মগত পাপের জন্য এবং অদৃশ্য মন্দ আত্মাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হওয়ার জন্য ঐশ্বরিক দন্ডাজ্ঞার অধীনে রয়েছে, ততক্ষণ স্থায়ী উপশম পাওয়া সবে নয়। ঈশ্বরতুল্য অন্তর্দৃষ্টির সাহায্যে, যীশু তাঁর সমস্ত জীবন, ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করাকে কেন্দ্র করে গড়ে তুলেছিলেন।—ইব্রীয় ১০:৭.
১০. কিভাবে এবং কোন্ উদ্দেশ্যে যীশু জগতের জ্যোতি হিসাবে কাজ করেছিলেন?
১০ সুতরাং, কিভাবে এবং কী উদ্দেশ্য নিয়ে যীশু জগতের জ্যোতি হিসাবে কাজ করেছিলেন? তিনি ঈশ্বরের রাজ্যের সুসমাচার প্রচার করার প্রতি নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। (লূক ৪:৪৩; যোহন ১৮:৩৭) যিহোবার উদ্দেশ্য সম্বন্ধে সত্যের প্রতি সাক্ষ্য দিয়ে, যীশু তাঁর স্বর্গীয় পিতার নামও গৌরবান্বিত করেছিলেন। (যোহন ১৭:৪, ৬) উপরন্তু, জগতের জ্যোতি হিসাবে, যীশু ধর্মীয় মিথ্যা শিক্ষাগুলির উন্মোচন করেছিলেন এবং সেইভাবে যারা ধর্মের বন্ধনে ছিল তাদের মুক্তি দিয়েছিলেন। শয়তানকে তিনি তাদের অদৃশ্য পরিচালক হিসাবে প্রকাশ করেছিলেন যারা তাকে নিজেদের ব্যবহার করতে দেয়। আরও যীশু স্পষ্টরূপে অন্ধকারের ক্রিয়া সকল শনাক্ত করেছিলেন। (মথি ১৫:৩-৯; যোহন ৩:১৯-২১; ৮:৪৪) লক্ষণীয়ভাবে, তাঁর সিদ্ধ জীবন মুক্তির মূল্য হিসাবে দান করে তিনি নিজেকে জগতের জ্যোতি হিসাবে প্রমাণ করেছিলেন, যার দ্বারা তিনি যারা এই ব্যবস্থায় বিশ্বাস করে তাদের পাপের ক্ষমা, ঈশ্বরের সঙ্গে প্রীতিজনক সম্পর্ক, এবং যিহোবার আন্তর্জাতিক পরিবারের সদস্য হিসাবে অনন্ত জীবনের প্রত্যাশা লাভ করার পথ খুলে দিয়েছিলেন। (মথি ২০:২৮; যোহন ৩:১৬) আর সবশেষে, সারা জীবন নিখুঁত ঐশিক ভক্তি বজায় রেখে, যীশু যিহোবার সার্বভৌমত্বকে তুলে ধরেছিলেন এবং শয়তানকে মিথ্যাবাদী প্রমাণ করেছিলেন, আর এইভাবে ধার্মিকতার প্রেমিকদের অনন্ত উপকার পাওয়া সবে করেছিলেন। কিন্তু যীশুই কি একমাত্র জ্যোতি বাহক হওয়ার ছিলেন?
-
-
জ্যোতি বাহকগণ—কী উদ্দেশ্যে?প্রহরীদুর্গ—১৯৯৩ | এপ্রিল ১
-
-
১২. (ক) আত্মিক জ্যোতি কতদূর ছড়িয়ে পড়ার কথা ছিল? (খ) যিশাইয় ৪২:৬ পদ সম্বন্ধে যিহোবার আত্মা পৌলকে কী বুঝতে সাহায্য করেছিল, এবং এই ভবিষ্যদ্বাণী দ্বারা আমাদের জীবন কিভাবে প্রভাবিত হওয়া উচিৎ?
১২ কিন্তু, সুসমাচার প্রচার এই ক্ষেত্রটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। যীশু তাঁর অনুগামীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন “সমুদয় জাতিকে শিষ্য” করতে। (মথি ২৮:১৯) তার্ষের শৌলের পরিবর্তনের সময়ে, প্রভু নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করে দিয়েছিলেন যে শৌল (যিনি প্রেরিত পৌল হয়েছিলেন) শুধুমাত্র যিহূদীদের কাছে নয় কিন্তু পরজাতীয়দের কাছেও প্রচার করবেন। (প্রেরিত ৯:১৫) পবিত্র আত্মার সাহায্যে, কী করতে হবে তা পৌল উপলব্ধি করেছিলেন। সুতরাং, তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে যিশাইয় ৪২:৬ পদের ভবিষ্যদ্বাণী, যা প্রত্যক্ষভাবে যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে পূর্ণ হয়েছে, তা যারা খ্রীষ্টে বিশ্বাস করেন তাদের সকলের প্রতিও প্রযোজ্য একটি আদেশ। সেই জন্য, প্রেরিত ১৩:৪৭ (NW) পদে, যিশাইয় থেকে উদ্ধৃতি করার সময়ে, পৌল বলেছিলেন: ‘কেননা যিহোবা আমাদিগকে এইরূপ আজ্ঞা দিয়াছেন, “আমি তোমাদিগকে জাতিগণের জ্যোতিস্বরূপ করিয়াছি, যেন তোমরা পৃথিবীর সীমা পর্য্যন্ত পরিত্রাণস্বরূপ হও”’ আপনার সম্বন্ধে কী? একজন জ্যোতিবাহক হওয়ার দায়িত্ব কি আপনি গুরুত্বপূর্ণরূপে নিয়েছেন? যীশু এবং পৌলের মত, আপনি কি আপনার জীবন, ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করাকে কেন্দ্র করে গড়ে তুলছেন?
-