-
প্রত্যক্ষ দর্শনের ওপর কথা নেই২০০৮ প্রহরীদুর্গ | জুলাই ১
-
-
কেন পৌল এই বিষয়ে দৃঢ়প্রত্যয়ী ছিলেন যে, ঈশ্বরের অস্তিত্ব রয়েছে এবং তিনি তাঁর সৃষ্ট মানুষের প্রতি আগ্রহী? রোম শহরে তার সহখ্রিস্টানদের উদ্দেশে চিঠি লেখার সময় পৌল একটা কারণ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি ঈশ্বর সম্বন্ধে বলেছিলেন: “তাঁহার অদৃশ্য গুণ, অর্থাৎ তাঁহার অনন্ত পরাক্রম ও ঈশ্বরত্ব, জগতের সৃষ্টিকাল অবধি তাঁহার বিবিধ কার্য্যে বোধগম্য হইয়া দৃষ্ট হইতেছে।”—রোমীয় ১:২০.
পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলোতে ঈশ্বরের তিনটে গুণ সম্বন্ধে তুলে ধরা হয়েছে, যেগুলো তাঁর সৃষ্ট বিভিন্ন বিষয় থেকে স্পষ্ট দেখা যায়। এই উদাহরণগুলো পরীক্ষা করার সময় নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, ‘ঈশ্বরের এই গুণাবলি সম্বন্ধে শেখা আমাকে কীভাবে প্রভাবিত করে?’ (w০৮ ৫/১)
-
-
ঈশ্বরের প্রজ্ঞা প্রকৃতি এর প্রমাণ দেয়২০০৮ প্রহরীদুর্গ | জুলাই ১
-
-
ঈশ্বরের প্রজ্ঞা প্রকৃতি এর প্রমাণ দেয়
“তিনি ভূতলের পশুদের অপেক্ষা আমাদের অধিক শিক্ষা দেন, আকাশের পক্ষীদের অপেক্ষা অধিক বুদ্ধিমান করেন।”—ইয়োব ৩৫:১১.
পাখিদের বিস্ময়কর ক্ষমতা রয়েছে। খোলা আকাশে করা এদের বিভিন্ন কসরত বিমান নকশাবিদদের ঈর্ষান্বিত করে থাকে। কিছু কিছু প্রজাতির পাখি সীমাহীন সমুদ্রের ওপর দিয়ে হাজার হাজার কিলোমিটার উড়ে নির্ভুলভাবে নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে।
পাখিদের আরেকটা অসাধারণ ক্ষমতা, যেটা তাদের নির্মাতার প্রজ্ঞা সম্বন্ধে আরও প্রকাশ করে, তা হচ্ছে এদের ডাক ও গানের মাধ্যমে যোগাযোগ করার ক্ষমতা। কয়েকটা উদাহরণ বিবেচনা করুন।
পাখির যোগাযোগ করা
কিছু প্রজাতির পাখি এমনকি ডিম ফুটে বের হওয়ার আগেই যোগাযোগ করতে শুরু করে। উদাহরণস্বরূপ, একটা তিতির জাতীয় স্ত্রী পাখি প্রতিদিন একটা করে আটটা পর্যন্ত ডিম পাড়ে। যদি সব ডিমই একই গতিতে বৃদ্ধি পায়, তাহলে সেগুলো পর্যায়ক্রমে আট দিনে ফুটবে। আর সেটা হলে, মা পাখির সেই সময়ে এক সপ্তাহ বা এর কম বয়সের কয়েকটা ছানার যত্ন নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, তখনও পর্যন্ত বাচ্চা ফুটে বের না হওয়া একটা ডিমে তা দেওয়ার কঠিন কাজের মুখোমুখি হতে পারে। কিন্তু এর পরিবর্তে, আটটা ছানার সবগুলোই ছয় ঘন্টার মধ্যে এদের খোসা ভেঙে বের হয়ে আসে। কীভাবে সেটা সম্ভব? গবেষকরা মনে করে থাকে যে, একটা প্রধান কারণ হল ডিমের ভিতরেই পাখির ছানাগুলো একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং কোনো না কোনোভাবে প্রায় একই সময়ে ফুটে বের হওয়ার ব্যবস্থা করে নেয়।
পাখিরা যখন বড় হয়, তখন সাধারণত পুরুষ প্রজাতির পাখিরা গান গেয়ে থাকে। বিশেষভাবে মিলনঋতুতে পুরুষ পাখি এর এলাকা চিহ্নিত করার কিংবা সঙ্গীকে আকৃষ্ট করার জন্য গান গেয়ে থাকে। বলতে গেলে, পাখির হাজার হাজার প্রজাতির প্রত্যেকটার নিজস্ব ভাষা রয়েছে আর তা স্ত্রী পাখিকে এর নিজের প্রজাতির সঙ্গীকে শনাক্ত করতে সাহায্য করে থাকে।
পাখিরা মূলত ভোরবেলা ও সূর্যাস্তের সময়ে গান গায় আর তা যুক্তিসংগত কারণেই। সেই সময়ে গানে বাধা দেওয়ার মতো বাতাস ও শব্দ কম থাকে। গবেষকরা আবিষ্কার করেছে যে, মধ্যাহ্নের তুলনায় ভোরবেলা এবং সন্ধ্যাবেলায় পাখির গান ২০ গুণ ভাল শোনা যায়।
যদিও পুরুষ পাখিই বেশি গান গেয়ে থাকে কিন্তু পুরুষ ও স্ত্রী পাখি উভয়েই বিভিন্ন ধরনের ডাক দেয় বা আওয়াজ করে, যেগুলোর ভিন্ন ভিন্ন অর্থ রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ছোটো ইউরোপীয় গায়ক পাখি নয়টা ভিন্ন ধরনের ডাক দিয়ে থাকে। এগুলো আকাশের ওপর থেকে আসা বিপদের—যেমন আকাশে ঘুরে বেড়ানো কোনো শিকারি পাখির—সংকেত দেওয়ার জন্য এক ধরনের ডাক দেয় অথচ মাটি থেকে আসা বিপদের সংকেত দেওয়ার জন্য ভিন্ন ধরনের ডাক দেয়।
এক উৎকৃষ্ট উপহার
পাখিদের সহজাত প্রজ্ঞা নিশ্চিতভাবেই হৃদয়গ্রাহী। কিন্তু যখন যোগাযোগের দক্ষতার বিষয়টা আসে, তখন মানুষ আরও উৎকৃষ্ট। ঈশ্বর মানুষকে “আকাশের পক্ষীদের অপেক্ষা অধিক বুদ্ধিমান” বা প্রজ্ঞাবান হিসেবে সৃষ্টি করেছেন, ইয়োব ৩৫:১১ পদ বলে। মানুষের স্বরতন্ত্রীর মাধ্যমে উৎপন্ন শব্দ অথবা অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে দুর্বোধ্য, জটিল চিন্তাভাবনা ও ধারণাগুলো প্রকাশ করার ক্ষমতা হল অদ্বিতীয়।
অন্য যেকোনো প্রাণীর বৈসাদৃশ্যে মানবশিশু জটিল ভাষাগুলো শেখার ক্ষমতা নিয়ে জন্মায় বলে মনে হয়। অনলাইন জার্নাল অ্যামেরিকান সায়েন্টিস্ট বলে: “সদ্য হাঁটতে শেখা বাচ্চারা এমনকি তাদের বাবামা সরাসরি তাদের সঙ্গে কথা না বললেও ভাষা শিখে ফেলে; বধির বাচ্চাদের এমনকি ঘরে সাংকেতিক ভাষা শেখানো না হলেও তারা নিজস্ব সাংকেতিক ভাষা উদ্ভাবন করে ফেলে।”
-
-
ঈশ্বরের প্রজ্ঞা প্রকৃতি এর প্রমাণ দেয়২০০৮ প্রহরীদুর্গ | জুলাই ১
-
-
আপনি কীভাবে প্রভাবিত হন?
আপনি যখন কোনো পাখির অপূর্ব গান কিংবা একটা বাচ্চাকে তার প্রথম কথাগুলো বলতে শেখার চেষ্টা করতে শোনেন, তখন আপনি কীভাবে প্রভাবিত হন? ঈশ্বর যা সৃষ্টি করেছেন, সেগুলোর মধ্যে কি আপনি তাঁর প্রজ্ঞা উপলব্ধি করেন?
তাকে যেভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে, সেই বিষয়ে ধ্যান করার পর গীতরচক দায়ূদ ঈশ্বরকে এই বলতে পরিচালিত হয়েছিলেন: “আমি তোমার স্তব করিব, কেননা আমি ভয়াবহরূপে ও আশ্চর্য্যরূপে নির্ম্মিত; তোমার কর্ম্ম সকল আশ্চর্য্য, তাহা আমার প্রাণ বিলক্ষণ জানে।” (গীতসংহিতা ১৩৯:১৪) আপনি যখন সৃষ্টির মধ্যে ঈশ্বরের প্রজ্ঞার প্রমাণ উপলব্ধি সহকারে পরীক্ষা করেন, তখন আপনাকে যথাযথ নির্দেশনা দেওয়ার জন্য তাঁর ক্ষমতার প্রতি আপনার বিশ্বাস নিশ্চিতভাবেই বৃদ্ধি পাবে। (w০৮ ৫/১)
-
-
ঈশ্বরের শক্তি নক্ষত্ররাজির মধ্যে প্রকাশ পায়২০০৮ প্রহরীদুর্গ | জুলাই ১
-
-
ঈশ্বরের শক্তি নক্ষত্ররাজির মধ্যে প্রকাশ পায়
“ঊর্দ্ধ্বদিকে চক্ষু তুলিয়া দেখ, ঐ সকলের সৃষ্টি কে করিয়াছে? তিনি বাহিনীর ন্যায় সংখ্যানুসারে তাহাদিগকে বাহির করিয়া আনেন, সকলের নাম ধরিয়া তাহাদিগকে আহ্বান করেন; তাঁহার সামর্থ্যের আধিক্য ও শক্তির প্রাবল্য প্রযুক্ত তাহাদের একটাও অনুপস্থিত থাকে না।”—যিশাইয় ৪০:২৬.
আমাদের সূর্য কেবলমাত্র একটা সাধারণ আকারের নক্ষত্র। তা সত্ত্বেও, এটার ভর পৃথিবীর ভরের চেয়ে ৩,৩০,০০০ গুণ বেশি। পৃথিবীর কাছাকাছি নক্ষত্রগুলোর অধিকাংশই আকারে সূর্যের চেয়ে ছোটো। কিন্তু, অন্যান্য নক্ষত্র যেমন, ভি৩৮২ সিগনি নামের নক্ষত্রের ভর আমাদের সূর্যের ভরের চেয়ে কমপক্ষে ২৭ গুণ বেশি।
আমাদের সূর্য কতটুকু শক্তি নির্গত করে? আপনি যদি কোনো আগুন থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে দাঁড়িয়েও এর উত্তাপ অনুভব করতে পারেন, তাহলে সেই আগুন কতটা ভয়ংকর হবে, তা কল্পনা করুন। পৃথিবী থেকে সূর্য গড়ে ১৫ কোটি কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। তবুও, কোনো প্রখর রোদের দিনে এর তাপে চামড়ায় ফোসকা পড়ে যেতে পারে! এটা উল্লেখযোগ্য যে, সূর্যের শক্তির কেবল প্রায় একশো কোটি ভাগের এক ভাগ পৃথিবীতে এসে পৌঁছায়। তারপরও, সূর্যের শক্তির এই ক্ষুদ্র অংশই আমাদের গ্রহে জীবনকে টিকিয়ে রাখার জন্য যথেষ্ট।
বস্তুতপক্ষে, বিজ্ঞানীরা হিসেব করে দেখেছে যে, কেবলমাত্র আমাদের সূর্য থেকে সর্বমোট যে-পরিমাণ শক্তি নির্গত হয়, তা পৃথিবীর মতো প্রায় ৩১ লক্ষ কোটি গ্রহকে টিকিয়ে রাখার জন্য যথেষ্ট। অথবা আরেকটা উপায়ে এই অপরিমেয় শক্তিকে পরিমাপ করার জন্য: যদি সূর্যের সমস্ত শক্তিকে কেবলমাত্র এক সেকেন্ডের জন্য একত্রে সংগ্রহ করা যেত, তাহলে সেটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে “আগামী ৯০,০০,০০০ বছরের জন্য বর্তমানে এটা যে-হারে শক্তি ব্যবহার করে, সেই পরিমাণ শক্তি” জুগিয়ে দিত, স্পেইস ওয়েদার প্রেডিকশন সেন্টার (এসডব্লুপিসি) ওয়েব সাইট বলে।
সূর্যের শক্তি এর কেন্দ্র—নিয়ন্ত্রিতভাবে পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনের জন্য যন্ত্রবিশেষ—থেকে নির্গত হয়, যা পরমাণুগুলোকে একত্রে ভেঙে টুকরো টুকরো করে প্রচুর শক্তি উৎপাদন করে। সূর্য এতই বিশাল এবং এর কেন্দ্র এতই গভীর যে, এর কেন্দ্রে উৎপাদিত শক্তি বর্হিভাগে এসে পৌঁছাতে লক্ষ লক্ষ বছর সময় লাগে। “আজকে যদি সূর্য শক্তি উৎপাদন করা বন্ধ করে দেয়,” এসডব্লুপিসি ওয়েব সাইট বলে, “তাহলে পৃথিবীতে এর উল্লেখযোগ্য প্রভাব বোঝার জন্য ৫,০০,০০,০০০ বছর সময় লাগবে!”
এখন এই বিষয়টা বিবেচনা করুন: আপনি যখন পরিষ্কার রাতে আকাশের দিকে তাকান, তখন আপনি হাজার হাজার নক্ষত্র দেখতে পান, যেগুলোর প্রত্যেকটাই আমাদের সূর্যের মতো প্রচুর পরিমাণে শক্তি নির্গত করে। আর বিজ্ঞানীরা হিসেব করে দেখেছে যে, নিখিলবিশ্বে শত শত কোটি নক্ষত্র রয়েছে!
এইসমস্ত নক্ষত্র কোথা থেকে এসেছে? অধিকাংশ গবেষকই এখন বিশ্বাস করে, কিছু কারণের জন্য নিখিলবিশ্ব প্রায় ১,৪০০ কোটি বছর আগে হঠাৎ করেই অস্তিত্বে এসেছে আর সেই কারণগুলো তারা এখনও বুঝে উঠতে পারে না। বাইবেল স্পষ্টভাবে বলে: “আদিতে ঈশ্বর আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীর সৃষ্টি করিলেন।” (আদিপুস্তক ১:১) কোনো সন্দেহ নেই যে, শক্তি উৎপাদনকারী এই বিশাল যন্ত্রগুলো, যেগুলোকে আমরা নক্ষত্র বলে থাকি, সেগুলো যিনি সৃষ্টি করেছেন তাঁকে “শক্তির প্রাবল্য প্রযুক্ত” বলে বর্ণনা করা যেতে পারে।—যিশাইয় ৪০:২৬.
-