-
মশীহের উপস্থিতি ও তাঁর শাসনপ্রহরীদুর্গ—১৯৯৩ | এপ্রিল ১
-
-
খ্রীষ্টের প্রত্যাবর্তনের ধরন
৩. খ্রীষ্টের প্রত্যাবর্তন সম্বন্ধে অনেকে কি মনে করে?
৩ অ্যান ইভ্যানজেলিকাল ক্রিস্টোলজি, নামক বই অনুসারে, “দ্বিতীয় আগমন অথবা খ্রীষ্টের প্রত্যাবর্তন (পারৌসিয়া) অবশেষে, প্রকাশ্যে চিরকালের জন্য ঈশ্বরের রাজ্যের স্থাপনা করবে।” খ্রীষ্টের প্রত্যাবর্তন প্রকাশ্যে দৃশ্যমান হবে ও পৃথিবীর প্রত্যেকে স্বচক্ষে দেখতে পাবে এই বিশ্বাস ব্যাপকভাবে প্রচলিত। এই ধারনাটি সমর্থন করতে অনেকে প্রকাশিত বাক্য ১:৭ পদকে তুলে ধরে, যেটি বলে: “দেখ, তিনি মেঘ সহকারে আসিতেছেন, আর প্রত্যেক চক্ষু তাঁহাকে দেখিবে, এবং যাহারা তাঁহাকে বিদ্ধ করিয়াছিল, তাহারাও দেখিবে।” কিন্তু এই পদটি কি আক্ষরিকরূপে নেওয়ার যোগ্য?
৪, ৫. (ক) আমরা কি করে বুঝতে পারি যে প্রকাশিত বাক্য ১:৭ পদ আক্ষরিক অর্থে বোঝায়নি? (খ) কিভাবে যীশুর নিজের কথা, এই ধারণার সমর্থন করে?
৪ স্মরণে রাখবেন যে প্রকাশিত বাক্য পুস্তকটি “চিহ্নের” মাধ্যমে প্রদান করা হয়। (প্রকাশিত বাক্য ১:১, NW) তাহলে এই পদটি নিশ্চয় রূপক; তাছাড়া, “যাহারা তাঁহাকে বিদ্ধ করিয়াছিল” তারা তাঁকে কিরূপে দেখবে? তারা মারা যাওয়ার পর, প্রায় ২০ শতাব্দী অতিবাহিত হয়ে গেছে! এছাড়াও দূতেরা বলেন যে, খ্রীষ্ট যেরূপে গমন করেছিলেন ঠিক “সেইরূপে উনি আগমন করিবেন”। কিন্তু কিরূপে তিনি গমন করেন? লক্ষ লক্ষ লোকেরা তা কী দেখেছিল? না, শুধুমাত্র কিছু বিশ্বাসী ব্যক্তিরা সেই ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছিল? যখন দূতেরা প্রেরিতদের সঙ্গে কথা বলছিলেন, তখন কী তারা প্রকৃতই খ্রীষ্টকে স্বর্গ পর্য্যন্ত যাত্রা করতে দেখেছিলেন? না, এক মেঘের আবরণ যীশুকে দৃষ্টি থেকে অস্পষ্ট করে দেয়। তার কিছুক্ষণ পরে হয়ত, তিনি নিশ্চয় আত্মিক স্বর্গে আত্মিক ব্যক্তিরূপে প্রবেশ করেন, যা ছিল মনুষ্য চক্ষুতে অদৃশ্য। (১ করিন্থীয় ১৫:৫০) তাই প্রেরিতেরা শুধু যীশুর যাত্রার আরম্ভ মাত্র দেখেছিলেন; তারা যাত্রার সমাপ্তি দেখতে পারেননি, যা হল তাঁর পিতা যিহোবার স্বর্গীয় উপস্থিতিতে যীশুর প্রত্যাবর্তন। এটি শুধু তাঁরা তাদের বিশ্বাসের চক্ষুর মাধ্যমে নির্ধারণ করতে পারতেন।—যোহন ২০:১৭.
৫ যীশু সেই একই রূপে প্রত্যাবর্তন করবেন বলে বাইবেল শিক্ষা দেয়। যীশু তাঁর মৃত্যুর কিছু পূর্বে নিজেই বলেন: “অল্পকাল গেলে জগৎ আর আমাকে দেখিতে পাইবে না।” (যোহন ১৪:১৯) তিনি আরও বলেন যে “ঈশ্বরের রাজ্য জাঁকজমকের সহিত আইসে না।” (লূক ১৭:২০) তাহলে কোন্ অর্থে ‘প্রত্যেক চক্ষু তাঁকে দেখতে পাবে’? এর উত্তর পেতে হলে, যীশু ও তাঁর অনুসরণকারীরা তাঁর প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে যে শব্দ ব্যবহার করেন, তার স্পষ্ট অর্থ প্রথমে আমাদের জানা দরকার।
৬. (ক) “প্রত্যাবর্তন,” “আগমন,” “আবির্ভাব,” এবং “আসা,” এই শব্দগুলি কেন গ্রীক শব্দ পা·রৌ·সিʹয়া-র প্রকৃত অনুবাদ নয়? (খ) কি প্রদর্শন করে যে শুধুমাত্র কোন ক্ষণিকের ঘটনার থেকে পা·রৌ·সিʹয়া অথবা উপস্থিতি অনেক বেশী সময়ব্যাপী হয়?
৬ প্রকৃত বিষয়টি হল খ্রীষ্ট শুধুমাত্র “প্রত্যাবর্তন” ছাড়া আরও অধিক কিছু করেন। “আসা,” “আগমন,” অথবা “আবির্ভাব”-এর মতো শব্দের সাধারণত অর্থ হল অল্পক্ষণের মধ্যে একটি ঘটনা। কিন্তু যীশু এবং তাঁর শিষ্যরা যে গ্রীক শব্দ ব্যবহার করেন তার অর্থ এর থেকেও বেশী। শব্দটি পা·রৌ·সিʹয়া যার আক্ষরিক অর্থ হল “সঙ্গে থাকা” অথবা এক “উপস্থিতি”। বেশীরভাগ পণ্ডিত এই বিষয় একমত হন যে এই শব্দটি শুধুমাত্র পৌঁছান বোঝায় না, কিন্তু তারপরের যে উপস্থিতি তাও বোঝায়—যেমন কোন রাজকীয় ব্যক্তির কার্যোপলক্ষে রাজ্য পরিদর্শন। এই উপস্থিতিটি কোন ক্ষণিকের ঘটনা নয়; এটি একটি বিশেষ যুগ, এক চিহ্নিত সময়কাল। মথি ২৪:৩৭-৩৯ পদে যীশু বলেন যে “মনুষ্যপুত্ত্রের আগমনও [পা·রৌ·সিʹয়া]” “নোহের সময়ের” মতো হবে যা জলপ্লাবনের মাধ্যমে সর্ব্বোচ্চ সীমায় পৌঁছায়। নোহ জাহাজ নির্ম্মান করছিলেন ও দুর্নীতিগ্রস্ত তখনকার জগতব্যবস্থাকে প্লাবন এসে ধ্বংস করার পূর্বে, তিনি বহু দশক ধরে দুষ্টদের সাবধান বাণী দিচ্ছিলেন। তাহলে, অনুরূপে, মহা ধ্বংসের সর্ব্বোচ্চ সীমায় পৌঁছানোর পূর্বে খ্রীষ্টের উপস্থিতিও কিছু দশকের সময়কাল অতিবাহিত করবে।
৭. (ক) কি প্রমাণ করে যে পা·রৌ·সিʹয়া মানব চক্ষে দেখা যায় না? (খ) “প্রত্যেক চক্ষু” খ্রীষ্টের প্রত্যাবর্তন দেখবে বলে শাস্ত্র যা বর্ণনা করে তা কখন ও কিভাবে পরিপূর্ণতাপ্রাপ্ত হবে?
৭ পা·রৌ·সিʹয়া সাধারণ চক্ষুতে যে কেউ দেখতে পারবে না, সেই সম্বন্ধে কোন সন্দেহই নেই। যদি তাই হত, তাহলে কেন যীশু তাঁর অনুসরণকারীদের এই উপস্থিতিকে নির্ধারণ করতে সাহায্য করার চিহ্ন প্রদান করতে, যেমন আমরা দেখব, অত সময় ব্যয় করতেন?a যাইহোক, যীশু যখন শয়তানের জগতব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে আসবেন, তখন তাঁর উপস্থিতির সত্যতাটি সকলের কাছে অতিমাত্রায় প্রমাণিত হবে। আর তখনই “প্রত্যেক চক্ষু তাঁহাকে দেখিবে।” এমনকি খ্রীষ্টের শত্রুগণও আতঙ্কিত হবে এই জেনে যে খ্রীষ্টের শাসন হল এক বাস্তব বিষয়।—মথি ২৪:৩০ দেখুন; ২ থিষলনীকীয় ২:৮; প্রকাশিত বাক্য ১:৫, ৬.
-
-
মশীহের উপস্থিতি ও তাঁর শাসনপ্রহরীদুর্গ—১৯৯৩ | এপ্রিল ১
-
-
a বিগত ১৮৬৪ সালে থিওলজিয়ান আর. গভেট্ এইভাবে বলেন: “এটি আমার কাছে খুবই নির্ধারণযোগ্য বলে মনে হয়। উপস্থিতি সম্বন্ধে চিহ্ন দেওয়ার অর্থ হল যে এটি গুপ্ত বিষয়। আমরা যা দেখছি তা জানতে আমাদের কোন সঙ্কেতের প্রয়োজন হয় না।”
-