বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর
সদাপ্রভু আমাদের সহবর্ত্তী; তাহাদিগকে ভয় করিও না।—গণনা. ১৪:৯.
যিহোবাকে ভয় করার মানে হল তাঁকে ভালোবাসা এবং তাঁকে দুঃখ দেওয়ার মতো কোনো কাজ না করা। আমাদের জানতে হবে, যিহোবার দৃষ্টিতে কোনটা সঠিক ও কোনটা ভুল, কোনটা সত্য ও কোনটা মিথ্যা। এরপর আমাদের সেটাই করতে হবে, যেটা তাঁকে খুশি করবে। (হিতো. ২:৩-৬; ইব্রীয় ৫:১৪) আমরা যদি যিহোবার চেয়ে মানুষকে বেশি ভয় পাই, তা হলে আমরা সত্যের পথ থেকে সরে যেতে পারি। ইজরায়েলের সেই ১২ জন গুপ্তচরের কথা চিন্তা করুন, যাদের প্রতিজ্ঞাত দেশ দেখার জন্য পাঠানো হয়েছিল। তাদের মধ্যে ১০ জন গুপ্তচর কনানীয়দের দেখে এতটাই ভয় পেয়ে গিয়েছিল যে, যিহোবার প্রতি তাদের ভালোবাসা কমে গিয়েছিল। তারা অন্যান্য ইজরায়েলীয়দের এই কথা বলেছিল, “আমরা সেই লোকদের বিরুদ্ধে যাইতে সমর্থ নহি, কেননা আমাদের অপেক্ষা তাহারা বলবান্।” (গণনা. ১৩:২৭-৩১) যদিও কনানীয়েরা অনেক শক্তিশালী ছিল, কিন্তু এর মানে এই নয় যে, ইজরায়েলীয়েরা তাদের হারাতে পারত না। সেই ১০ জন গুপ্তচর ভুলে গিয়েছিল, যিহোবা ইজরায়েলীয়দের সঙ্গে রয়েছেন। প্রহরীদুর্গ ২৪.০৭ ৯ অনু. ৫-৬
বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর
সমস্ত পৃথিবীর বিচারকর্ত্তা কি ন্যায়বিচার করিবেন না?—আদি. ১৮:২৫.
আমরা নিশ্চিত থাকতে পারি, যিহোবা সবসময় ন্যায়বিচার করেন। অব্রাহামও এই বিষয়টা ভালোভাবে জানতেন। তিনি জানতেন, ‘সমস্ত পৃথিবীর বিচারকর্ত্তা ন্যায়বিচার করবেন’ এবং তিনি খুবই করুণাময়। তিনি সমস্ত কিছুই জানেন আর যা সঠিক, তা-ই করেন। যিহোবা তাঁর পুত্রকেও ন্যায়বিচার করতে শিখিয়েছেন এবং বিচার করার সমস্ত দায়িত্ব তাঁকে দিয়েছেন। (যোহন ৫:২২) তাঁরা দু-জনেই মানুষের হৃদয় পড়তে পারেন এবং জানেন, প্রত্যেক ব্যক্তি ভিতর থেকে কেমন। (মথি ৯:৪) তাই, যিহোবা ও যিশু সবসময় ‘ন্যায়বিচার করবেন।’ আমরা নিশ্চিত থাকতে পারি, যিহোবা সমস্ত কিছুই জানেন এবং এটা মনে রাখতে পারি, আমরা কখনোই অন্যদের বিচার করার যোগ্য নই। একমাত্র যিহোবাই এটার যোগ্য। (যিশা. ৫৫:৮, ৯) তাই, আমরা আস্থা রাখতে পারি, যিহোবা অবশ্যই ন্যায়বিচার করবেন আর আমাদের রাজা যিশুও তাঁর পিতার মতো ন্যায়বিচার করবেন এবং করুণা দেখাবেন। প্রহরীদুর্গ ২৪.০৫ ৭ অনু. ১৮-১৯
শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর
যিহোবা ভণ্ড ব্যক্তিকে ঘৃণা করেন, কিন্তু সৎ ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব রয়েছে।—হিতো. ৩:৩২, NW.
হৃদয়ে সত্যি কথা বলা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা আমরা বাইবেলের একটা ঘটনা থেকে ভালোভাবে বুঝতে পারি। লক্ষ করুন, ফিলিপ যখন তার বন্ধু নথনেলকে যিশুর কাছে নিয়ে এসেছিলেন, তখন কী ঘটেছিল। নথনেলের সঙ্গে যিশুর আগে কখনো দেখা হয়নি। কিন্তু, তিনি নথনেলের বিষয়ে বলেছিলেন, “ওই দেখো, একজন প্রকৃত ইজরায়েলীয়, যার মধ্যে কোনো ছলনা নেই।” (যোহন ১:৪৭) যিশু নথনেলের মধ্যে বিশেষ কিছু লক্ষ করেছিলেন। যদিও আমাদের মতো নথনেল অসিদ্ধ ছিলেন, কিন্তু তিনি লোক-দেখানো কাজ করতেন না। তিনি বাইরে থেকে যেমন, ভিতর থেকেও তেমন ছিলেন। নথনেলের এই বিষয়টা যিশুর খুবই ভালো লেগেছিল। তাই, যিশু তার প্রশংসা করেছিলেন। যিহোবাকে খুশি করার বিষয়ে গীতসংহিতার ১৫ গীতে যা বলা রয়েছে, সেটার বেশিরভাগই হল, যিহোবার বন্ধুরা একে অন্যের সঙ্গে কীভাবে আচরণ করবে। যেমন ৩ পদে বলা রয়েছে, যিহোবার তাঁবুর অতিথিরা ‘অন্যদের বদনাম করে না, নিজেদের প্রতিবেশীর কোনো ক্ষতি করে না এবং নিজেদের বন্ধুদের সুনাম নষ্ট করে না।’ তাই, আমরা যদি ভেবে-চিন্তে কথা না বলি, তা হলে এর পরিণতি অনেক খারাপ হতে পারে আর আমরা অন্যদের আঘাত দিয়ে ফেলতে পারি।—যাকোব ১:২৬. প্রহরীদুর্গ ২৪.০৬ ১০ অনু. ৭, ৯; ১১ অনু. ১০