“সমস্ত দশমাংশ ভান্ডারে আন”
“তোমরা ইহাতে আমার পরীক্ষা কর . . . আমি আকাশের দ্বার সকল মুক্ত . . . করি কি না।”—মালাখি ৩:১০.
১. (ক) সা.শ.পূ পঞ্চম শতাব্দীতে যিহোবা তাঁর লোকদের কি আহ্বান জানান? (খ) সা.শ. প্রথম শতাব্দীতে যিহোবা মন্দিরে বিচার করতে এলে কি ফলাফল হয়?
ইস্রায়েল সা.শ.পূ. পঞ্চম শতাব্দীতে যিহোবার প্রতি অবিশ্বস্ত হয়। তারা দশমাংশ প্রদান করেনি এবং অযোগ্য পশু উৎসর্গ করতে মন্দিরে নিয়ে আসে। কিন্তু যিহোবা প্রতিজ্ঞা করেন যে যদি তারা সমস্ত দশমাংশ ভান্ডারে নিয়ে আসে তাহলে তিনি তাদের অপরিমেয় আশীর্ব্বাদ বর্ষণ করবেন। (মালাখি ৩:৮-১০) প্রায় ৫০০ বছর পরে যিহোবা তাঁর নিয়মের দূত যীশুর প্রতিনিধিত্ব দ্বারা বিচার করতে যিরূশালেমের মন্দিরে আসেন। (মালাখি ৩:১) জাতিরূপে ইস্রায়েল দোষী প্রমাণিত হয় কিন্তু যারা যিহোবার কাছে ফিরে আসে তারা প্রচুর পরিমাণে আশীর্বাদপ্রাপ্ত হয়। (মালাখি ৩:৭) যিহোবার আত্মিক পুত্র, এক নতুন সৃষ্টি, “ঈশ্বরের ইস্রায়েল” হতে তারা অভিষিক্ত হয়।—গালাতীয় ৬:১৬; রোমীয় ৩:২৫, ২৬.
২. কখন মালাখি ৩:১-১০ পদ দ্বিতীয় পরিপূর্ণতা লাভ করে, এবং এই অনুযায়ী আমাদের কী করতে আহ্বান জানানো হয়েছে?
২ এর প্রায় ১,৯০০ বছর পরে ১৯১৪ সালে, যীশু ঈশ্বরের স্বর্গীয় রাজ্যের রাজারূপে আসীন হন এবং ঐশিকরূপে অনুপ্রাণীত মালাখি ৩:১-১০ পদের বাক্যগুলি দ্বিতীয় পরিপূর্ণতায় আসার সময় হয়। এই শিহরণকারী ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে খ্রীষ্টীয়দের ভান্ডারে সমস্ত দশমাংশ আনতে আহ্বান করা হচ্ছে। যদি আমরা তা করি তাহলে আমরাও অপরিমেয় আশীর্বাদ উপভোগ করব।
৩. যিহোবার পূর্বে পথ প্রস্তুতকারী সেই দূত কে (ক) প্রথম শতাব্দীতে? (খ) প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে?
৩ মন্দিরে তাঁর আগমন সম্পর্কে যিহোবা বলেন: “দেখ, আমি আপন দূতকে প্রেরণ করিব, সে আমার অগ্রে পথ প্রস্তুত করিবে।” (মালাখি ৩:১) এটি প্রথম শতাব্দীর পরিপূর্ণতা হিসাবে, যোহন বাপ্তাইজক পাপের জন্য অনুতপ্ত হতে প্রচার করতে ইস্রায়েলে আসেন। (মার্ক ১:২, ৩) মন্দিরে যিহোবার দ্বিতীয়বার আগমনের জন্য কোন কি প্রস্তুতিপর্বের আয়োজন ছিল? হ্যাঁ। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ হওয়ার কিছু দশক পূর্বেই, বাইবেল ছাত্রগণ শুদ্ধ বাইবেল তত্ত্ব শিক্ষা দিতে এবং ত্রিত্ব ও নরকাগ্নির শিক্ষার মত ঈশ্বর-অসম্মানজনক মিথ্যা প্রকাশ করতে জগতের দৃশ্যপটে আবির্ভূত হন। জাতিগণের সময় ১৯১৪ সালে শেষ হওয়ার বিষয়েও তারা সাবধান করেন। সত্যের এই জ্যোতি বহনকারীদের অনেকেই বিশ্বাস করে।—গীতসংহিতা ৪৩:৩; মথি ৫:১৪, ১৬.
৪. প্রভুর দিনে কোন্ প্রশ্নের নিষ্পত্তির প্রয়োজন ছিল?
৪ বাইবেল যাকে বলে “প্রভুর দিন” তা ১৯১৪ সালে শুরু হয়। (প্রকাশিত বাক্য ১:১০) সেই দিনে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা সকল ঘটার কথা, যার সাথে জড়িত আছে “বিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান দাস”-কে শনাক্তকরণ ও তাদের “[প্রভুর] পরিজনের উপরে” নিযুক্তিকরণ। (মথি ২৪:৪৫-৪৭) গত ১৯১৪ সালে হাজার হাজার গীর্জ্জাগুলি খ্রীষ্টীয় বলে দাবি করে। কোন্ দলটি প্রভু, যীশু খ্রীষ্টের বিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান দাস রূপে তাঁর দ্বারা অনুমোদিত হবে? যিহোবা মন্দিরে এলে সেই প্রশ্নটির উত্তর পাওয়া যাবে।
আত্মিক মন্দিরে আসা
৫, ৬. (ক) বিচার করতে কোন্ মন্দিরে যিহোবা আসেন? (খ) খ্রীষ্টজগত যিহোবার কাছ থেকে কী বিচার পায়?
৫ কিন্তু কোন্ মন্দিরে তিনি আসেন? স্পষ্টতই তিনি যিরূশালেমের কোন পার্থিব মন্দিরে আসেননি। সা.শ. ৭০ সালে সেই মন্দিরগুলির সর্বশেষটি ধ্বংস হয়ে যায়। কিন্তু যিহোবার আরও একটি বৃহৎ মন্দির আছে যার প্রতিচ্ছবি ছিল যিরূশালেমের মন্দিরটি। এই বৃহৎ মন্দিরটি সম্পর্কে পৌল বলেন ও প্রকৃতপক্ষে এটি কত বৃহৎ তা প্রদর্শন করেন কারণ সেটির পবিত্র স্থান স্বর্গে অবস্থিত এবং তার অঙ্গন এই পৃথিবীতে। (ইব্রীয় ৯:১১, ১২, ২৪; ১০:১৯, ২০) এই বৃহত্তর আত্মিক মন্দিরে বিচার কার্য করতে যিহোবা আসেন।—তুলনা করুন প্রকাশিত বাক্য ১১:১; ১৫:৮.
৬ কখন সেটি ঘটে? প্রাপ্ত যথেষ্ট পরিমাণ প্রমাণ অনুযায়ী তা ১৯১৮ সালে ঘটে।a এর ফলাফল কী হয়? খ্রীষ্টজগতের ক্ষেত্রে, যিহোবা এই সংস্থাকে এমন দেখেন যার হাত রক্তে মাখা, এক দুর্নীতিপরায়ণ ধর্মীয় ব্যবস্থা যা জগতের সঙ্গে বেশ্যাক্রিয়া করেছে, যে নিজেকে ধনীদের সঙ্গে জড়িত করেছে ও দরিদ্রদের শোষণ করছে, শুদ্ধ উপাসনা করার বদলে পৌত্তলিক তত্ত্বগুলি শিক্ষা দিচ্ছে। (যাকোব ১:২৭; ৪:৪) মালাখির মাধ্যমে যিহোবা সাবধান করেছিলেন: “মায়াবী, পারদারিক, ও মিথ্যাশপথকারিগণের বিরুদ্ধে, ও যাহারা বেতনের বিষয়ে বেতনজীবীর প্রতি, এবং বিধবা ও পিতৃহীন লোকের প্রতি, অত্যাচার করে, . . . তাহাদের বিরুদ্ধে আমি সত্বর সাক্ষী হইব।” (মালাখি ৩:৫) খ্রীষ্টজগৎ এইগুলি সমস্ত এবং এর থেকেও বেশী মন্দ কাজগুলি করেছে। স্পষ্টভাবে ১৯১৯ সালের মধ্যেই দেখা গেছে যে যিহোবা ঈশ্বর তাকে জগতব্যাপী মিথ্যা ধর্মের অট্টালিকা মহতী বাবিলের বাকি অংশের সাথে ধ্বংসের জন্য দন্ডিত করেছেন। সেই সময় থেকে সহৃদয়যুক্ত ব্যক্তিদের আহ্বান করা হচ্ছে: “উহা হইতে বাহিরে আইস।”—প্রকাশিত বাক্য ১৮:১, ৪.
৭. যীশু তাঁর বিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান দাস হিসাবে কাদের অনুমোদন করেন?
৭ তাহলে কে সেই বিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান দাস ছিল? প্রথম শতাব্দীতে এটি একটি ছোট্ট দল দিয়ে শুরু হয় যারা যোহন বাপ্তাইজক ও নিয়মের দূত, যীশুর সাক্ষ্যের কাজে সাড়া দেয়। আমাদের শতাব্দীতে ১৯১৪ সালের পূর্ববর্তী কিছু বছরে অল্প কয়েক হাজার যারা বাইবেল ছাত্রগণের প্রস্তুতিপর্বের কাজে সাড়া দেয়। এরা প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের সময় নিষ্ঠুর তাড়না সহ্য করে কিন্তু তারা প্রদর্শন করে যে তাদের হৃদয় যিহোবার সাথেই আছে।
এক পরিষ্করণের কাজ
৮, ৯. গত ১৯১৮ সালে বিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান দাসদের কিরূপে পরিষ্করণের প্রয়োজন হয়েছিল, ও এই ক্ষেত্রে যিহোবা কি প্রতিজ্ঞা করেন?
৮ যাইহোক, এমনকি এই দলটিরও পরিষ্করণের প্রয়োজন ছিল। যারা এই দলের সঙ্গে জড়িত ছিল তাদের মধ্যে কিছু জন বিশ্বাসের শত্রুতে পরিণত হয় ফলে তাদের পরিষ্কার করার প্রয়োজন হয়। (ফিলিপীয় ৩:১৮) অপরেরা যিহোবাকে সেবা করার সাথে জড়িত দায়িত্বগুলি বহন করতে অনিচ্ছুক হয় এবং ভেসে যায়। (ইব্রীয় ২:১) এছাড়া বাবিলনীয় প্রথাগুলিও ছিল যা নিঃশেষ করার প্রয়োজন হয়। সাংগঠনিকরূপেও বিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান দাসের পরিষ্করণের প্রয়োজন ছিল। এই জগতের প্রতি নিরপেক্ষতার উপযুক্ত স্থানটি শিখে তা প্রয়োগ করার প্রয়োজন ছিল। আর যতই জগৎ আরও দুর্নীতিপরায়ণ হয়ে ওঠে, ততই তাদের মণ্ডলীকে নৈতিক ও আত্মিক অশুদ্ধতা থেকে দূরে রাখতে কঠোর প্রতিরোধ করার প্রয়োজন হয়।—তুলনা করুন যিহূদা ৩, ৪.
৯ হ্যাঁ, পরিষ্কার করার প্রয়োজন ছিল, কিন্তু যিহোবা প্রেমপূর্ণরূপে সিংহাসনে আসীন যীশুর সম্পর্কে প্রতিজ্ঞা করেন: “তিনি রৌপ্য-পরিষ্কারক ও শুচিকারক হইয়া বসিবেন, তিনি লেবির সন্তানদিগকে শুচি করিবেন, এবং স্বর্ণের ও রৌপ্যের ন্যায় তাহাদিগকে বিশুদ্ধ করিবেন; তাহাতে তাহারা সদাপ্রভুর উদ্দেশে ধার্ম্মিকতায় নৈবেদ্য উৎসর্গ করিবে।” (মালাখি ৩:৩) উনিশশো আঠারো সাল থেকে শুরু করে যিহোবা এই নিয়মের দূতের মাধ্যমে তাঁর প্রতিজ্ঞা পূর্ণ করেন এবং তাঁর লোকদের পরিষ্কৃত করেন।
১০. কি প্রকৃতির নৈবেদ্য ঈশ্বরের লোকেরা নিয়ে আসে এবং যিহোবা তাদের কি আমন্ত্রণ জানান?
১০ যিহোবা শুচিকারক ও রৌপ্য-পরিষ্কারক রূপে কাজ করাতে, খ্রীষ্টের অভিষিক্ত ভাইরা ও যিহোবার সেবায় পরবর্তীকালে যারা যোগ দেয় সেই বিরাট জনতা, এরা সকলেই উপকৃত হয়। (প্রকাশিত বাক্য ৭:৯, ১৪, ১৫) সংগঠনরূপে তারা আসে, এবং এখনও আসছে, ধার্মিকতায় উপহার অর্পণ করছে। তাদের নৈবেদ্য “সদাপ্রভুর তুষ্টিজনক হইবে, যেমন পূর্ব্বকালে, আদিকালের বৎসর-সমূহে হইয়াছিল।” (মালাখি ৩:৪) এদেরই যিহোবা ভাববাণীমূলকরূপে আমন্ত্রণ জানান: “তোমরা সমস্ত দশমাংশ ভান্ডারে আন, যেন আমার গৃহে খাদ্য থাকে; আর তোমরা ইহাতে আমার পরীক্ষা কর, ইহা বাহিনীগণের সদাপ্রভু কহেন, আমি আকাশের দ্বার সকল মুক্ত করিয়া তোমাদের প্রতি অপরিমেয় আশীর্ব্বাদ বর্ষণ করি কি না।”—মালাখি ৩:১০.
নৈবেদ্য ও দশমাংশ
১১. মোশির নিয়মানুসারে উৎসর্গ করার আর প্রয়োজন নেই কেন?
১১ মালাখির দিনে ঈশ্বরের লোকেরা বাস্তবিকরূপে নৈবেদ্য ও দশমাংশ আনত, যেমন শস্য, ফল ও পশুসমূহ। এমনকি যীশুর দিনেও বিশ্বস্ত ইস্রায়েলীয়গণ মন্দিরে বাস্তবিকই উৎসর্গ করত। কিন্তু যীশুর মৃত্যুর পরে সমস্ত কিছুর পরিবর্তন হয়। নিয়ম লুপ্ত হয়, তার সাথে নৈবেদ্য ও দশমাংশ প্রদান করাও লুপ্ত হয়। (ইফিষীয় ২:১৫) নিয়মের অধীনে ভাববাণীমূলক উৎসর্গকে যীশু পরিপূর্ণ করেন। (ইফিষীয় ৫:২; ইব্রীয় ১০:১, ২, ১০) তাহলে কিরূপে খ্রীষ্টীয়গণ নৈবেদ্য ও দশমাংশ আনবে?
১২. খ্রীষ্টীয়রা কিরূপ আত্মিক নৈবেদ্য ও উৎসর্গ করে থাকে?
১২ তাদের ক্ষেত্রে, চমকপ্রদরূপে নৈবেদ্যটি আত্মিক প্রকৃতির। (তুলনা করুন ফিলিপীয় ২:১৭; ২ তীমথিয় ৪:৬.) উদাহরণস্বরূপ, পৌল প্রচার কার্যকে নৈবেদ্য রূপে উল্লেখ করেন যখন তিনি বলেন: “আইস, আমরা তাঁহারই দ্বারা ঈশ্বরের উদ্দেশে নিয়ত স্তব-বলি, অর্থাৎ তাঁহার নাম স্বীকারকারী ওষ্ঠাধরের ফল, উৎসর্গ করি।” তিনি আর একটি আত্মিক উৎসর্গের প্রতি দৃষ্টিপাত করান যখন তিনি আবেদন করেন: “উপকার ও সহভাগিতার কার্য্য ভুলিও না, কেননা সেই প্রকার যজ্ঞে ঈশ্বর প্রীত হন।” (ইব্রীয় ১৩:১৫, ১৬) যখন পিতামাতারা ছেলেমেয়েদের অগ্রগামীর পরিচর্য্যায় যেতে উৎসাহ প্রদান করে তখন বলা যেতে পারে যে তারা সন্তানদের যিহোবাকে অর্পণ করছে, যেমন যিপ্তহ তার কন্যাকে “হোমবলি” রূপে ঈশ্বরকে অর্পণ করেছিলেন, যিনি তাকে জয়ী করান।—বিচারকর্ত্তৃগণ ১১:৩০, ৩১, ৩৯.
১৩. খ্রীষ্টীয়দের আয়ের আক্ষরিকরূপে দশমাংশ দেওয়ার দরকার নেই কেন?
১৩ দশমাংশ সম্বন্ধে বা কি? যিহোবার সংগঠনে দেওয়ার জন্য খ্রীষ্টীয়দের কি তাদের পার্থিব আয়ের দশমাংশ আলাদা করে রাখা কর্তব্য, যেমন খ্রীষ্টজগতের কিছু গীর্জাগুলিতে করা হয়? না, তার কোন প্রয়োজন নেই। খ্রীষ্টীয়দের জন্য সেই প্রকৃতির কোন নিয়ম আছে বলে কোন শাস্ত্র বলে না। যিহূদার দরিদ্রদের জন্য যখন পৌল দান সংগ্রহ করছিলেন তখন তিনি দেওয়ার জন্য এক বিশেষ শতাংশের উল্লেখ করেননি। বরং তিনি বলেন: “প্রত্যেক ব্যক্তি আপন আপন হৃদয়ে যেরূপ সঙ্কল্প করিয়াছে, তদনুসারে দান করুক, মনোদুঃখপূর্ব্বক কিম্বা আবশ্যক বলিয়া না দিউক; কেননা ঈশ্বর হৃষ্টচিত্ত দাতাকে ভাল বাসেন।” (২ করিন্থীয় ৯:৭) সেই সব বিশেষ পরিচর্য্যাকারীদের সম্বন্ধে বলতে গিয়ে পৌল প্রদর্শন করেন যে যদিও বা কিছু জন যথার্থভাবেই স্বেচ্ছাকারী দানের সাহায্য নিতেন, কিন্তু তিনি কাজ করতে ও আত্মনির্ভর থাকতে প্রস্তুত ছিলেন। (প্রেরিত ১৮:৩, ৪; ১ করিন্থীয় ৯:১৩-১৫) এই ক্ষেত্রে কোন দশমাংশ দেওয়ার নিয়ম ছিল না।
১৪. (ক) দশমাংশ দেওয়াটি যিহোবাকে আমাদের সমস্ত কিছু দেওয়া প্রতিনিধিত্ব করে না কেন? (খ) দশমাংশ কোন বিষয়কে প্রতিনিধিত্ব করে?
১৪ স্পষ্টতই দশমাংশ খ্রীষ্টানদের জন্য কিছু চিহ্নিত অথবা প্রতিনিধিত্ব করে। যেহেতু এটি হল দশমাংশ ও বাইবেলে বেশীরভাগ সময় এই দশ নম্বরটি পার্থিব সম্পূর্ণতাকে চিহ্নিত করে, তাই দশমাংশ কি যিহোবাকে আমাদের সমস্ত কিছু প্রদান করাকে চিহ্নিত করবে? না। কারণ যখন আমরা যিহোবার কাছে নিজেদের উৎসর্গ করি এবং জলে বাপ্তিস্ম গ্রহণ করে তা প্রদর্শন করি তখনই আমরা আমাদের সমস্ত কিছু যিহোবাকে দিয়ে থাকি। আমাদের উৎসর্গীকরণের সময় থেকেই আমাদের কাছে এমন কিছু জিনিষ থাকে না যা যিহোবার নয়। কিন্তু যিহোবা প্রত্যেককে তাদের অর্জিত সম্পদ প্রদান করতে অনুমতি দেন। তাই দশমাংশ চিহ্নিত করে, আমাদের অংশকে যা আমরা যিহোবাকে অর্পণ করি বা যিহোবার সেবায় ব্যবহার করি, তাঁর প্রতি আমাদের প্রেম ও আমরা যে তাঁরই সেই উপলব্ধিকে ব্যক্ত করতে এক প্রতীক হিসাবে। আধুনিককালের টাইদ্ যে ঠিক দশমাংশ হতেই হবে তার কোন প্রয়োজন নেই। কোন কোন ক্ষেত্রে তা কমও হতে পারে। আবার অপরক্ষেত্রে তা বেশীও হতে পারে। প্রত্যেক ব্যক্তি যা আনে তা তার হৃদয় থেকে আনে এবং তার পরিস্থিতি তাকে যতটা আনতে সমর্থ করে ততটা আনে।
১৫, ১৬. আমাদের আত্মিক দশমাংশে কী জড়িত আছে?
১৫ এই আত্মিক দশমাংশ অর্পণে কী জড়িত আছে? একটি বিষয় যে আমরা যিহোবাকে আমাদের সময় ও শক্তি দিয়ে থাকি। সভাতে, অধিবেশন ও সম্মেলনে যোগ দিতে, ক্ষেত্রের পরিচর্য্যায় যে সময় ব্যয় করি এই সকলই যিহোবাকে দেওয়া হয়—যা আমাদের দশমাংশের অংশ। অসুস্থদের দেখতে যেতে ও অন্যদের সাহায্য করতে আমরা যে সময় ও শক্তি ব্যবহার করি—আবার সেটিও আমাদের দশমাংশের অংশ। কিংডম হল নির্মাণে সাহায্য করা এবং হলের দেখাশোনা ও পরিষ্কার করা হল একইভাবে এরই অংশ।
১৬ আমাদের টাইদের সঙ্গে জড়িত রয়েছে আমাদের আর্থিক দান। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে যিহোবার সংগঠনে অদ্ভুত রকমের বৃদ্ধি পাওয়াতে আর্থিক প্রয়োজনীয়তাও বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন কিংডম হলের প্রয়োজন, তার সাথে নতুন শাখার সুযোগসুবিধাগুলি ও নতুন অধিবেশন হল এবং যেগুলি নির্মিত হয়ে গেছে তার দেখাশোনারও প্রয়োজন হয়েছে। যারা নিজেদের বিশেষ পরিচর্য্যায় প্রাপ্তিসাধ্য করেছে—অনেক সময় তা করতে প্রচুর ব্যক্তিগত আত্মত্যাগ করতে হয়েছে—তাদের খরচাপত্র প্রদান করাও এক দুর্দান্ত চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। শুধুমাত্র মিশনারী, ভ্রমণ অধ্যক্ষ এবং বিশেষ অগ্রগামীদের দেখাশোনা করতে ১৯৯১ সালে খরচা হয় চার কোটি ডলারেরও বেশী আর যা স্বেচ্ছাকারী দানের মাধ্যমেই এসেছে।
১৭. আত্মিক দশমাংশরূপে আমাদের কী দেওয়া উচিৎ?
১৭ তাই আত্মিক দশমাংশ হিসাবে আমরা কি দিতে পারি? যিহোবা কোন শতাংশ ঠিক করে দেননি। যাইহোক, উৎসর্গীকরণের উপলব্ধি, যিহোবা ও ভাইদের প্রতি আন্তরিক প্রেম, এর সঙ্গে জীবন বাঁচানোর জরুরী অবস্থার উপলব্ধিই আমাদের সমস্ত আত্মিক দশমাংশ অর্পণ করতে উৎসাহিত করে। যতটা সবে সম্পূর্ণরূপে যিহোবাকে সেবা করতে আমরা অনুপ্রাণিত হই। নিজেদের অথবা আমাদের বস্তুসম্পদ আমরা যদি কার্পণ্যসহকারে বা অসন্তোষভরে দিই তাহলে তা ঈশ্বরকে ঠকানোর স্বরূপ হবে।—তুলনা করুন লূক ২১:১-৪.
অপরিমেয় আশীর্বাদপ্রাপ্ত
১৮, ১৯. সমস্ত দশমাংশ আনার জন্য যিহোবার লোকেরা কিরূপে আশীর্বাদপ্রাপ্ত হয়?
১৮ প্রচার কাজে প্রয়োজনের জন্য যিহোবার লোকেরা ১৯১৯ সাল থেকে তাদের সময়, শক্তি ও আর্থিক সংস্থান নিয়ে উদারভাবে সাড়া দিয়েছে। তারা প্রকৃতই সমস্ত দশমাংশ ভান্ডারে আনে। ফলে যিহোবা তাঁর প্রতিজ্ঞা পূর্ণ করেন এবং অপরিমেয় আশীর্বাদ বর্ষণ করেন। যা দেখা গেছে নাটকীয়ভাবে এদের সংখ্যায় বৃদ্ধিতে। যিহোবা ১৯১৮ সালে যখন মন্দিরে আসেন তখন মাত্র কয়েক হাজার অভিষিক্ত জন যিহোবাকে সেবা করছিলেন, তারা এখন অভিষিক্ত ও তাদের সহযোগী, অপর মেষ সহ ২১১টি বিভিন্ন দেশে ৪০ লক্ষেরও বেশী সংখ্যায় বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়েছে। (যিশাইয় ৬০:২২) এরা সত্যের জ্ঞানের ক্রমাগত বৃদ্ধির মাধ্যমেও আশীর্বাদপ্রাপ্ত হয়েছে। ভাববাণীমূলক বাক্যগুলি সম্বন্ধে তারা আরও নিশ্চিত হয়েছে। যিহোবার উদ্দেশ্যর পরিপূর্ণতা সম্বন্ধে তাদের আস্থা দৃঢ় হয়েছে। (২ পিতর ১:১৯) তারা প্রকৃতই “সদাপ্রভুর কাছে শিক্ষাপ্রাপ্ত” লোক।—যিশাইয় ৫৪:১৩.
১৯ মালাখির মাধ্যমে যিহোবা আরও আশীর্বাদ সম্বন্ধে বলেন: “তখন যাহারা যিহোবাকে ভয় করিত, তাহারা পরস্পর আলাপ করিল, এবং যিহোবা কর্ণপাত করিয়া শুনিলেন; আর যাহারা যিহোবাকে ভয় করিত, ও তাঁহার নাম ধ্যান করিত, তাহাদের জন্য তাঁহার সম্মুখে একখানি স্মরণার্থক পুস্তক লেখা হইল।” (মালাখি ৩:১৬, NW) যে সমস্ত সংগঠন খ্রীষ্টীয় বলে দাবি করে তাদের মধ্যে একমাত্র যিহোবার সাক্ষীরা তাঁর নাম সম্বন্ধে ধ্যান করে ও জাতিদের মাঝে তা মহিমান্বিত করে। (গীতসংহিতা ৩৪:৩) যিহোবা তাদের বিশ্বস্ততা স্মরণে রাখেন তা নিশ্চিত হয়ে তারা কতই না আনন্দিত!
২০, ২১. (ক) সত্য খ্রীষ্টীয়গণ কী আশীর্বাদপূর্ণ সম্বন্ধ উপভোগ করে? (খ) খ্রীষ্টতত্ত্ব সম্বন্ধে কোন্ প্রভেদটি আরও স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে?
২০ অভিষিক্ত অবশিষ্টাংশগণ যিহোবার বিশেষ লোক এবং বিরাট জনতা যারা তাদের সঙ্গে মেলামেশা করার জন্য একত্রিত হচ্ছে তারাও এদের সাথে শুদ্ধ উপাসনার আশীর্বাদ পাচ্ছে। (সখরিয় ৮:২৩) মালাখির দ্বারা যিহোবা প্রতিজ্ঞা করেন: “তাহারা আমারই হইবে, ইহা বাহিনীগণের সদাপ্রভু কহেন; আমার কার্য্য করিবার দিনে তাহারা আমার নিজস্ব হইবে; এবং কোন মনুষ্য যেমন আপন সেবাকারী পুত্ত্রের প্রতি মমতা করে আমি তাহাদের প্রতি তেমনি মমতা করিব।” (মালাখি ৩:১৭) তাদের প্রতি যিহোবার এই প্রকৃতির মমতা থাকা কতই না আশীর্বাদ!
২১ প্রকৃতই, সত্য ও মিথ্যা খ্রীষ্টীয়দের মধ্যে পার্থক্য ক্রমাগত অধিকভাবে প্রকাশ হচ্ছে। যখন যিহোবার লোকেরা তাঁর মানগুলি রাখার প্রচেষ্টা করছে, খ্রীষ্টজগত জগতের অশুদ্ধতার জলাভূমিতে আরও নিমজ্জিত হচ্ছে। সত্যই যিহোবার বাক্য সত্য প্রমাণিত হচ্ছে: “ধার্ম্মিক ও দুষ্টের মধ্যে, যে ঈশ্বরের সেবা করে, ও যে তাঁহার সেবা না করে, উভয়ের মধ্যে প্রভেদ দেখিবে।”—মালাখি ৩:১৮.
২২. যদি আমরা সমস্ত দশমাংশ ক্রমাগত অর্পণ করি তাহলে আমরা কোন্ আশীর্বাদ উপভোগের সম্বন্ধে নিশ্চিত থাকব?
২২ মিথ্যা খ্রীষ্টীয়দের জন্য খুব শীঘ্রই বিচার দিন আসছে। “দেখ, সেই দিন আসিতেছে, তাহা হাপরের ন্যায় জ্বলিবে, এবং দর্পী ও দুষ্টাচারীরা সকলে খড়ের ন্যায় হইবে; আর সেই যে দিন আসিতেছে, তাহা তাহাদিগকে পোড়াইয়া দিবে, ইহা বাহিনীগণের সদাপ্রভু কহেন।” (মালাখি ৪:১) যিহোবার লোকেরা জানে যে সেই সময় তিনি তাদের রক্ষা করবেন ঠিক যেমন অতীতে সা.শ. ৭০ সালে তাঁর আত্মিক জাতিকে রক্ষা করেছিলেন। (মালাখি ৪:২) এই আশ্বাস পেয়ে তারা কতই না আনন্দিত! তাই, সেই সময় আসা পর্যন্ত যিহোবার প্রতি প্রেম ও উপলব্ধি প্রদর্শন করতে আমরা প্রত্যেকে যেন সমস্ত দশমাংশ ভান্ডারে আনি। তখনই আমরা নিশ্চিত হতে পারি যে তিনি আমাদের ক্রমাগত অপরিমেয় আশীর্বাদ করবেন। (w92 12⁄1)
[পাদটীকাগুলো]
a অতিরিক্ত তথ্যাদির জন্য জুন ১৫, ১৯৮৭, ওয়াচটাওয়ার, পৃষ্ঠা ১৪-২০ দেখুন।
আপনি কি ব্যাখ্যা করতে পারেন?
▫ আধুনিক কালে কখন যিহোবা তাঁর নিয়মের দূত নিয়ে মন্দিরে আসেন?
▫ কে বিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান দাস, ও ১৯১৮ সালে তাদের কোন্ পরিষ্করণের প্রয়োজন হয়?
▫ কি প্রকৃতির আত্মিক উৎসর্গ সত্য খ্রীষ্টীয়গণ যিহোবার কাছে আনে?
▫ কি সেই দশমাংশ যা খ্রীষ্টীয়দের ভান্ডারে আনতে আমন্ত্রিত করা হয়েছে?
▫ আত্মিক দশমাংশ অর্পণ করে ঈশ্বরের লোকেরা কি আশীর্বাদ উপভোগ করে?
[Pictures on page 16]
আমাদের আত্মিক দশমাংশের মধ্যে সংযুক্ত রয়েছে কিংডম হলগুলি নির্মাণ করতে শক্তি ও বস্তুসম্পদ অর্পণ করা
[Pictures on page 17]
তাঁর লোকদের প্রতি যিহোবার আশীর্বাদের জন্য, কিংডম হল ও অধিবেশন হলসহ প্রচুর নির্মাণ কাজের প্রয়োজন হয়েছে