-
“আমি আপনাদের কাছে আত্মপক্ষ সমর্থন করছি, শুনুন”ঈশ্বরের রাজ্য সম্বন্ধে ‘পুঙ্খানুপুঙ্খ সাক্ষ্য দেওয়া’!
-
-
৫ পৌল নিশ্চয়ই সেই প্রাচীনদের বলেছিলেন যে, তিনি ইউরোপ থেকে দান নিয়ে এসেছেন। এই বিষয়টা সেই প্রাচীনদের মন ছুঁয়ে গিয়েছিল যে, ভাই-বোনেরা অনেক দূর থেকে তাদের সাহায্য পাঠিয়েছে, যারা এমনকী তাদের চেনেও না। পৌলের কাছ থেকে এই সমস্ত কথা শুনে “তারা [প্রাচীনেরা] ঈশ্বরের গৌরব করতে লাগলেন।” (প্রেরিত ২১:২০ক) পৌল এবং জেরুসালেমের প্রাচীনদের কাছ থেকে আমরা কী শিখতে পারি? বর্তমানেও খ্রিস্টানেরা যখন কোনো দুর্যোগের শিকার হয় অথবা গুরুতর অসুস্থ হয়, তখন ভাই-বোনেরা দ্রুত তাদের সাহায্য করে। তারা সেই খ্রিস্টানদের কাছে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পৌঁছে দেয় এবং নিজেদের কথার দ্বারা তাদের উৎসাহিত করে। ভাই-বোনদের এই প্রেম দেখে সেই খ্রিস্টানেরা অনেক খুশি হয় এবং তাদের হৃদয় কৃতজ্ঞতায় ভরে যায়।
তারা এখনও “উদ্যোগের সঙ্গে ব্যবস্থা পালন করে” (প্রেরিত ২১:২০খ, ২১)
৬. পৌলের বিষয়ে কোন গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল?
৬ এখন প্রাচীনেরা পৌলকে জানান, যিহুদিয়ায় তার সম্বন্ধে গুজব শোনা যাচ্ছে। তারা তাকে বলেন: “ভাই, তুমি দেখতে পাচ্ছ, যিহুদিদের মধ্যে হাজার হাজার ব্যক্তি যিশুর অনুসারী হয়েছে আর তারা সকলে উদ্যোগের সঙ্গে ব্যবস্থা পালন করে। কিন্তু, তারা তোমার বিষয়ে এই গুজব শুনেছে যে, তুমি ন-যিহুদিদের মধ্যে বসবাসকারী সমস্ত যিহুদিকে মোশির ব্যবস্থা পরিত্যাগ করতে শিক্ষা দিচ্ছ, তাদের সন্তানদের ত্বকচ্ছেদ না করাতে অথবা পরম্পরাগত রীতিনীতি পালন না করতে বলছ।”a—প্রেরিত ২১:২০খ, ২১.
৭, ৮. (ক) অনেক যিহুদি খ্রিস্টান কী মনে করেছিল? (খ) এর মানে কি এই যে, তারা যিহোবার প্রতি বিশ্বস্ত ছিল না? ব্যাখ্যা করুন।
৭ মোশির ব্যবস্থা বাতিল হওয়ার পর, প্রায় ২০ বছর কেটে গিয়েছে। তা সত্ত্বেও, কেন বেশিরভাগ খ্রিস্টান মোশির ব্যবস্থা পালন করার ক্ষেত্রে একগুঁয়ে মনোভাব দেখিয়েছিল? (কল. ২:১৪) ৪৯ খ্রিস্টাব্দে প্রেরিত ও প্রাচীনেরা জেরুসালেমে একটা সভা রেখেছিলেন। এরপর সমস্ত মণ্ডলীকে একটা চিঠি পাঠানো হয়েছিল। সেই চিঠিতে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল, ন-যিহুদি খ্রিস্টানদের ত্বকচ্ছেদ করার এবং মোশির ব্যবস্থা পালন করার প্রয়োজন নেই। (প্রেরিত ১৫:২৩-২৯) কিন্তু, সেই চিঠিতে যিহুদি খ্রিস্টানদের জন্য কোনো কিছু লেখা ছিল না। তাই, বেশিরভাগ যিহুদি খ্রিস্টান এটা মনে করেছিল যে, তাদের এখনও মোশির ব্যবস্থা পালন করতে হবে।
৮ এই যিহুদি খ্রিস্টানদের চিন্তাভাবনা ভুল ছিল। এর মানে কি এই যে, তারা যিহোবার প্রতি বিশ্বস্ত ছিল না। বিষয়টা এইরকম নয়। তারা আগেও মিথ্যা দেবতাদের উপাসনা করত না এবং উপাসনার সঙ্গে যুক্ত রীতিনীতি পালন করত না আর তারা এখনও তা করছে না। তারা শুধুমাত্র সেই নিয়মই পালন করছিল, যেটা যিহোবা তাদের দিয়েছিলেন। সেই নিয়মে কোনো ভুল ছিল না আর এর সঙ্গে কোনো মন্দ স্বর্গদূতও জড়িত ছিল না। তবে, এই নিয়ম সেই সময় দেওয়া হয়েছিল, যখন তারা পুরোনো চুক্তির অধীনে ছিল। কিন্তু, খ্রিস্টানেরা এখন নতুন চুক্তির অধীনে রয়েছে। এর মানে হল, এখন তাদের আর মোশির নিয়ম অনুসারে উপাসনা করার প্রয়োজন নেই বরং যিহোবা উপাসনা করার যে-নতুন নিয়ম দিয়েছিলেন, সেটা মানতে হত। এই বিষয়টাই যিহুদি খ্রিস্টানেরা ভালোভাবে বুঝতে পারছিল না। তাই, তাদের নিজেদের চিন্তাভাবনা সংশোধন করতে হত।b—যির. ৩১:৩১-৩৪; লূক ২২:২০.
-
-
“আমি আপনাদের কাছে আত্মপক্ষ সমর্থন করছি, শুনুন”ঈশ্বরের রাজ্য সম্বন্ধে ‘পুঙ্খানুপুঙ্খ সাক্ষ্য দেওয়া’!
-
-
a সেই সময়ে যিহুদি খ্রিস্টানেরা সংখ্যায় অনেক বেশি ছিল। সম্ভবত এই কারণেই বেশ কিছু মণ্ডলী আলাদা আলাদাভাবে ভাই-বোনদের বাড়িতে সভার জন্য মিলিত হত।
-