-
মদ সম্বন্ধে বাইবেল কী জানায়?চিরকাল জীবন উপভোগ করুন!—ঈশ্বরের কাছ থেকে শিখুন
-
-
মদ সম্বন্ধে বাইবেল কী জানায়?
মদ সম্বন্ধে সারা পৃথিবীতে লোকদের মধ্যে আলাদা-আলাদা ধারণা রয়েছে। কেউ কেউ মনে করে, কখনো কখনো বন্ধুদের সঙ্গে মদ খেলে, তাতে ভুলের কিছু নেই। আবার অনেকে মদ খাওয়া তো দূরের কথা, ছুঁয়েও দেখে না। অন্যদিকে, কেউ কেউ আবার এত বেশি মদ খায় যে, মাতলামি করতে শুরু করে। কিন্তু, মদ খাওয়ার বিষয়ে বাইবেল আমাদের কী জানায়?
১. মদ খাওয়া কি ভুল?
বাইবেল বলে না যে, মদ খাওয়া ভুল। আসলে, যিহোবা মানুষের খুশির জন্য যা-কিছু দিয়েছেন, সেগুলোর মধ্যে একটা হল, দ্রাক্ষারস বা মদ। তাই বাইবেল বলে, “মর্ত্ত্যের চিত্তানন্দ-জনক দ্রাক্ষারস।” (গীতসংহিতা ১০৪:১৪, ১৫) বাইবেলে যে-সমস্ত বিশ্বস্ত পুরুষ ও নারীদের বিষয়ে বলা রয়েছে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ দ্রাক্ষারস খেতেন।—১ তীমথিয় ৫:২৩.
২. মদ খাওয়ার বিষয়ে বাইবেল কোন পরামর্শ দেয়?
বাইবেল বলে, “মদ্যপায়ীদের সঙ্গী হইও না।” (হিতোপদেশ ২৩:২০) যিহোবার দৃষ্টিতে অতিরিক্ত মদ খাওয়া এবং মাতলামি করা (মাতাল হওয়া) ভুল। (গালাতীয় ৫:২১) তাই, আমাদের এত পরিমাণে মদ খাওয়া উচিত নয়, যার ফলে আমরা ঠিকমতো চিন্তা করতে পারব না, আমাদের কথা ও কাজের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারব না এবং আমাদের স্বাস্থ্যেরও ক্ষতি হবে। এই বিষয়টা আমাদের সেইসময়ও মনে রাখা উচিত, যখন আমরা একা একা মদ খাই। আমরা যদি নিজেদের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পারি, তা হলে আমাদের জন্য মদ না খাওয়া ভালো হবে।
৩. মদ খাওয়ার বিষয়ে অন্যদের সিদ্ধান্তের প্রতি কীভাবে আমরা সম্মান দেখাতে পারি?
একজন ব্যক্তি মদ খাবেন, কি খাবেন না, সেটা তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। কেউ যদি নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রেখে মদ খায়, তা হলে আমাদের তার বিচার করা উচিত নয়। আর কেউ যদি মদ না খেতে চায়, তা হলে আমাদের তাকে জোর করা উচিত নয়। (রোমীয় ১৪:১০) আমরা মদ খাওয়ার ফলে যদি কেউ বিঘ্ন পায়, তা হলে ভালো হবে আমরা যেন তাদের চিন্তাভাবনার প্রতি সম্মান দেখিয়ে মদ না খাই। (পড়ুন, রোমীয় ১৪:২১.) যেমন বাইবেল আমাদের বলে, “প্রত্যেকে কেবল নিজের উপকারের জন্য চেষ্টা না করুক, কিন্তু অন্যের উপকারের জন্য চেষ্টা করুক।”—পড়ুন, ১ করিন্থীয় ১০:২৩, ২৪.
গভীরভাবে গবেষণা করুন
বাইবেলের কিছু নীতি নিয়ে এখন আমরা আলোচনা করব, যেগুলো আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে যে, আমরা মদ খাব, কি খাব না, আর খেলেও কতটা পরিমাণে খাব। আর সেইসঙ্গে আমরা এটাও জানব, যদি আমাদের মদ খাওয়ার নেশা থাকে, তা হলে কীভাবে আমরা তা ছাড়তে পারি।
৪. মদ খাব কি খাব না, সেই বিষয়ে কীভাবে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারি?
মদ খাওয়ার বিষয়ে যিশু কী চিন্তা করতেন? এই বিষয়টা আমরা তাঁর প্রথম অলৌকিক কাজ থেকে বুঝতে পারি। যোহন ২:১-১১ পদ পড়ুন এবং এরপর এই প্রশ্নগুলো নিয়ে আলোচনা করুন:
মদের বিষয়ে এবং যারা মদ খেত, তাদের বিষয়ে যিশু কী চিন্তা করতেন?
যিশু বলেননি যে, মদ খাওয়া ভুল। তাই, একজন খ্রিস্টানের সেই ব্যক্তির প্রতি কোন দৃষ্টিভঙ্গি রাখা উচিত, যিনি মদ খান?
একজন খ্রিস্টান চাইলে মদ খেতে পারেন, তবে এর অর্থ কি এই যে, তিনি যেকোনো পরিস্থিতিতে মদ খাবেন? হিতোপদেশ ২২:৩ পদ পড়ুন এবং চিন্তা করুন, এই পরিস্থিতিগুলোতে আপনি মদ খাবেন কি না:
আপনাকে গাড়ি কিংবা কোনো মেশিন চালাতে হবে।
আপনি একজন গর্ভবতী।
আপনাকে ডাক্তার মদ খেতে বারণ করেছেন।
আপনি একবার মদ খাওয়া শুরু করার পর খেতেই থাকেন।
আপনি যেখানে থাকেন, সেখানে মদ খাওয়া আইনত নিষিদ্ধ।
আপনার সঙ্গে এমন একজন ব্যক্তি রয়েছেন, যিনি অনেক কষ্টে মদ খাওয়ার নেশা ছেড়েছেন।
বিয়ে কিংবা অন্য কোনো অনুষ্ঠানে আপনার কি মদ খাওয়ার ব্যবস্থা করা উচিত? কোন বিষয়টা আপনাকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে? ভিডিওটা দেখুন।
রোমীয় ১৩:১৩ এবং ১ করিন্থীয় ১০:৩১, ৩২ পদ পড়ুন এবং প্রতিটা শাস্ত্রপদ পড়ার পর নীচে দেওয়া প্রশ্নটা নিয়ে আলোচনা করুন:
কীভাবে এই নীতি আপনাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতে পারে?
একজন খ্রিস্টান মদ খাবেন, কি খাবেন না, সেটা তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। কিন্তু, তিনি যদি খান, তা হলে কিছু পরিস্থিতিতে তিনি মদ না খাওয়ার সিদ্ধান্তও নিতে পারেন
৫. কতটা পরিমাণে মদ খাবেন, তা নির্ধারণ করুন
মনে রাখুন, যিহোবার দৃষ্টিতে মদ খাওয়া ভুল নয়। কিন্তু, অতিরিক্ত মাত্রায় মদ খাওয়া ভুল। কেন? হোশেয় ৪:১১, ১৮ পদ পড়ুন এবং এরপর এই প্রশ্নটা নিয়ে আলোচনা করুন:
অতিরিক্ত মাত্রায় মদ খেলে কোন বিপদ আসতে পারে?
অতিরিক্ত মাত্রায় মদ না খাওয়ার জন্য আমরা কী করতে পারি? আপনাকে সীমা নির্ধারণ করতে হবে অথবা জানতে হবে যে, আপনি কতটা খেতে পারেন। হিতোপদেশ ১১:২ পদ পড়ুন এবং এরপর এই প্রশ্নটা নিয়ে আলোচনা করুন:
কতটা মদ খাব, সেই বিষয়ে একটা সীমা নির্ধারণ করা কেন ভালো?
৬. মদ খাওয়ার নেশা কীভাবে ছাড়তে পারেন?
একজন ব্যক্তি অতিরিক্ত মাত্রায় মদ খেতেন। কীভাবে তিনি তার এই নেশা ছাড়তে পেরেছিলেন, তা লক্ষ করুন। ভিডিওটা দেখুন এবং এরপর এই প্রশ্নগুলো নিয়ে আলোচনা করুন।
মদ খাওয়ার পর দিমিত্রি কেমন আচরণ করতেন?
মদ খাওয়া ছেড়ে দেওয়া তার জন্য কি সহজ ছিল?
অবশেষে কীভাবে তিনি তার এই নেশা ছাড়তে পেরেছিলেন?
১ করিন্থীয় ৬:১০, ১১ পদ পড়ুন এবং এরপর এই প্রশ্নগুলো নিয়ে আলোচনা করুন:
যিহোবার দৃষ্টিতে মাতাল হওয়া কতটা গুরুতর বিষয়?
কোন বিষয়টা থেকে বোঝা যায় যে, যাদের মদ খাওয়ার নেশা রয়েছে, তারা তা ছাড়তে পারে?
মথি ৫:৩০ পদ পড়ুন এবং এরপর এই প্রশ্নটা নিয়ে আলোচনা করুন:
এখানে হাত কেটে ফেলার অর্থ হল, যিহোবার ইচ্ছা অনুযায়ী জীবনযাপন করার জন্য আমাদের হয়তো কিছু ত্যাগস্বীকার করতে হবে। তাই, আপনি যদি মদ খাওয়ার নেশা ছাড়তে না পারেন, তা হলে কী করতে পারেন?a
১ করিন্থীয় ১৫:৩৩ পদ পড়ুন এবং এরপর এই প্রশ্নটা নিয়ে আলোচনা করুন:
আপনি যদি এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে মেলামেশা করেন, যারা অতিরিক্ত মাত্রায় মদ খায়, তা হলে আপনার উপর কোন প্রভাব পড়তে পারে?
কেউ কেউ বলে থাকে: “মদ খাওয়া ভুল।”
উত্তরে আপনি কী বলবেন?
সারাংশ
যিহোবা মানুষের খুশির জন্য যা-কিছু দিয়েছেন, সেগুলোর মধ্যে একটা হল, মদ। কিন্তু, তাঁর দৃষ্টিতে অতিরিক্ত মাত্রায় মদ খাওয়া এবং মাতলামি করা (মাতাল হওয়া) ভুল।
পুনরালোচনা
মদ খাওয়ার বিষয়ে বাইবেল কী জানায়?
অতিরিক্ত মাত্রায় মদ খাওয়ার কোন বিপদ রয়েছে?
মদ খাওয়ার বিষয়ে অন্যদের সিদ্ধান্তের প্রতি কীভাবে আমরা সম্মান দেখাতে পারি?
আরও জানুন
কীভাবে তরুণ-তরুণীরা মদ খাওয়ার বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে?
মদ খাওয়ার নেশা ছাড়ার জন্য আপনি কোন পদক্ষেপগুলো নিতে পারেন? আসুন তা জানি।
“আমি মদ খাওয়ার বিষয়ে মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছি না তো?” (প্রহরীদুর্গ, জানুয়ারি ১ ২০১০, ইংরেজি)
কখন এবং কীভাবে বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের সঙ্গে মদের বিষয়টা নিয়ে কথা বলতে পারেন?
“আমি বোতলের পর বোতল মদ খেতাম,” এটা এমন একজন ব্যক্তির কাহিনী, যিনি অতিরিক্ত মাত্রায় মদ খেতেন। কীভাবে তিনি মদ খাওয়ার নেশা ছাড়তে পেরেছিলেন? আসুন তা জানি।
“বাইবেল জীবনকে পরিবর্তন করে” (প্রহরীদুর্গ, মে ১ ২০১২, ইংরেজি)
a মদ খাওয়ার নেশা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের হয়তো এই নেশা ছাড়ার জন্য ডাক্তারের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। বেশিরভাগ ডাক্তার বলে থাকে, যারা একবার মদ খাওয়ার নেশা কাটিয়ে উঠেছে, তাদের আর কখনো মদ খাওয়া উচিত নয়।
-
-
পোশাক-আশাক ও সাজগোজের বিষয়ে চিন্তা করা কেন গুরুত্বপূর্ণ?চিরকাল জীবন উপভোগ করুন!—ঈশ্বরের কাছ থেকে শিখুন
-
-
পাঠ ৫২
পোশাক-আশাক ও সাজগোজের বিষয়ে চিন্তা করা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
আমাদের প্রত্যেকের আলাদা আলাদা পছন্দ রয়েছে, যেমন কোন ধরনের পোশাক পরব, কীভাবে চুলের স্টাইল করব আর কীভাবে সাজগোজ করব। বাইবেলেও এই বিষয়ে কিছু নীতি দেওয়া রয়েছে। আমরা যদি এই নীতিগুলো মেনে চলি, তা হলে আমরা নিজেদের পছন্দের পোশাক পরতে পারব এবং সাজগোজ করতে পারব আর যিহোবার হৃদয়কেও খুশি করতে পারব। আসুন, কয়েকটা নীতি লক্ষ করি।
১. পোশাক-আশাক ও সাজগোজের বিষয়ে আমাদের কোন নীতিগুলো মনে রাখতে হবে?
আমাদের ‘মার্জিতভাবে এবং উত্তম বিচারবুদ্ধি সহকারে উপযুক্ত পোশাক-আশাক পরা’ এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা উচিত, যাতে লোকেরা বুঝতে পারে, “আমাদের ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি রয়েছে।” (১ তীমথিয় ২:৯, ১০) আসুন এই চারটে নীতি নিয়ে বিবেচনা করি: (১) আমাদের “উপযুক্ত পোশাক-আশাক পরা” উচিত। মণ্ডলীতে আপনি লক্ষ করেছেন যে, ভাই-বোনেরা ভিন্ন ভিন্ন পোশাক পরে এবং ভিন্ন ভিন্ন চুলের স্টাইল করে। কিন্তু, তাদের পোশাক-আশাক ও সাজগোজ এটা প্রকাশ করে যে, তারা যিহোবাকে সম্মান করে। (২) আমরা যেন “মার্জিতভাবে” পোশাক পরি এবং সাজগোজ করি। এর অর্থ হল, আমরা এমন পোশাক-আশাক পরব না, যার ফলে লোকদের মনে নোংরা বা খারাপ চিন্তাভাবনা আসে অথবা আমাদের এমন পোশাক-আশাক পরা উচিত নয়, যাতে লোকেরা আমাদের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে থাকে। (৩) আমাদের “উত্তম বিচারবুদ্ধি” দেখানো উচিত। আজকাল নিত্যনতুন ফ্যাশন দেখতে পাওয়া যায়। তবে, এর অর্থ এই নয় যে, আমরা অন্ধের মতো যেকোনো ধরনের ফ্যাশন অথবা স্টাইল গ্রহণ করব। (৪) আমরা যে-ধরনের পোশাক-আশাক পরি এবং সাজগোজ করি, সেটার মাধ্যমে যেন সবসময় এটা প্রকাশ পায় যে, “আমাদের ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি রয়েছে” এবং আমরা সত্য ঈশ্বরের উপাসনা করি।—১ করিন্থীয় ১০:৩১.
২. পোশাক-আশাক ও সাজগোজের বিষয়টা বাছাই করার সময় কেন আমাদের ভাই-বোনদের কথা মাথায় রাখা উচিত?
আমাদের প্রত্যেকের নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী পোশাক-আশাক পরার এবং সাজগোজ করার স্বাধীনতা রয়েছে। কিন্তু, আমাদের এটা চিন্তা করা উচিত যে, সেগুলো দেখে ভাই-বোনদের কেমন লাগবে। তাদের কি খারাপ লাগবে? তারা কি বিরক্ত হবে? আমরা চাই না, কেউ যেন আমাদের কারণে বিরক্ত হোক। এর পরিবর্তে, আমাদের বাইবেলের এই পরামর্শ কাজে লাগানো উচিত, যেখানে বলে, ‘প্রতিবেশীদের গেঁথে তোলার জন্য তাদের প্রতি ভালো কাজ করে তাদের সন্তুষ্ট করো।’—পড়ুন, রোমীয় ১৫:১, ২.
৩. আমাদের ভালো পোশাক-আশাক ও সাজগোজ কীভাবে অন্যদের সত্যের প্রতি আকৃষ্ট করতে পারে?
আমরা বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন ধরনের পোশাক পরি এবং সাজগোজ করি। কিন্তু, আমরা যখন সভাতে ও প্রচারে যাই, তখন আমরা বিশেষ করে এই বিষয়টা খেয়াল রাখি যে, আমরা কোন ধরনের পোশাক-আশাক পরেছি এবং আমাদের দেখতে কেমন লাগছে। আমরা কখনোই চাই না যে, লোকদের মনোযোগ আমাদের বার্তার উপর থেকে সরে গিয়ে আমাদের উপরে আসুক। এর পরিবর্তে, আমরা চাই আমাদের পোশাক-আশাক যেন লোকদের সত্যের প্রতি আকৃষ্ট করে এবং “আমাদের ত্রাণকর্তা ঈশ্বরের শিক্ষার সৌন্দর্যকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।”—তীত ২:১০.
গভীরভাবে গবেষণা করুন
আমাদের এই বিষয়টা মনে রাখা উচিত যে, আমরা যে-ধরনের পোশাক-আশাক পরি এবং সাজগোজ করি, তা যেন একজন খ্রিস্টানের জন্য উপযুক্ত হয়। কীভাবে আমরা তা করতে পারি? আসুন তা জানি।
আমাদের পোশাক-আশাক ও সাজগোজ থেকে বোঝা যায় যে, আমরা আধিকারিকদের সম্মান করি কি না। এটা ঠিক যে, যিহোবা আমাদের হৃদয় দেখেন, কিন্তু আমাদের পোশাক-আশাক ও সাজগোজের মাধ্যমেও এটা প্রকাশ পাওয়া উচিত যে, আমরা তাঁকে সম্মান করি
৪. আমাদের পোশাক-আশাক ও সাজগোজ যেন যিহোবার সম্মান নিয়ে আসে
আমাদের পোশাক-আশাক ও সাজগোজ নিয়ে চিন্তা করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণটা কী? আসুন তা জানি। গীতসংহিতা ৪৭:২ পদ পড়ুন এবং এরপর এই প্রশ্নগুলো নিয়ে আলোচনা করুন:
আমাদের সঙ্গে যিহোবার নাম জড়িত রয়েছে। তাই, এই বিষয়টা মাথায় রেখে আমাদের কোন ধরনের পোশাক-আশাক পরা উচিত?
আপনার কি মনে হয় যে, সভাতে ও প্রচারে যাওয়ার সময় আপনার পোশাক-আশাক ও সাজগোজ নিয়ে চিন্তা করা উচিত? কেন আপনি তা মনে করেন?
৫. কীভাবে আমি নির্ধারণ করতে পারি যে, কী পরব আর আমাকে দেখতে কেমন লাগবে?
আমাদের পোশাক-আশাক দামি হোক কিংবা কম দামি, সেটা বড়ো বিষয় নয়। কিন্তু, তা যেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয় এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী উপযুক্ত হয়। ১ করিন্থীয় ১০:২৪ এবং ১ তীমথিয় ২:৯, ১০ পদ পড়ুন এবং এরপর আলোচনা করুন যে, কেন আমাদের এই ধরনের পোশাক-আশাক পরা উচিত নয়, যেগুলো . . .
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন নয় এবং অতিরিক্ত ঢিলেঢালা অথবা খোলামেলা।
টাইট কিংবা ছোটো অথবা যেগুলো দেখে লোকদের মনে খারাপ কিংবা নোংরা চিন্তাভাবনা আসতে পারে।
আমরা যদিও মোশির ব্যবস্থার অধীনে নই, কিন্তু আমরা সেখান থেকে যিহোবার চিন্তাভাবনা সম্বন্ধে জানতে পারি। দ্বিতীয় বিবরণ ২২:৫ পদ পড়ুন এবং এরপর এই প্রশ্নটা নিয়ে আলোচনা করুন:
কেন আমাদের এমন পোশাক-আশাক পরা এবং চুলের স্টাইল করা উচিত নয়, যাতে একজন ছেলেকে মেয়ের মতো আর একজন মেয়েকে ছেলের মতো দেখায়?
১ করিন্থীয় ১০:৩২, ৩৩ এবং ১ যোহন ২:১৫, ১৬ পদ পড়ুন এবং এরপর এই প্রশ্নগুলো নিয়ে আলোচনা করুন:
আমাদের পোশাক-আশাক ও সাজগোজ দেখে আমাদের আশেপাশের লোকেরা এবং মণ্ডলীর ভাই-বোনেরা যেন খারাপ না ভাবে, সেই বিষয়ে কেন আমাদের খেয়াল রাখা উচিত?
আপনি যেখানে থাকেন, সেখানকার লোকেরা সাধারণত কোন ধরনের পোশাক পরে এবং সাজগোজ করে?
আপনার কি মনে হয়, সেগুলো একজন খ্রিস্টানের জন্য উপযুক্ত না-ও হতে পারে? কেন আপনি তা মনে করেন?
আমরা এমন পোশাক-আশাক বাছাই করতে পারি, যা আমাদের পছন্দ এবং যিহোবাকেও খুশি করবে
কেউ কেউ বলে থাকে: “আমার ইচ্ছা আমি যা খুশি পরব।”
আপনিও কি তা-ই মনে করেন? কেন আপনি তা মনে করেন?
সারাংশ
আমরা যখন চিন্তাভাবনা করে পোশাক-আশাক পরি এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকি আর আমাদের দেখতে ভালো লাগে, তখন আমরা যিহোবার ও অন্যদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে থাকি।
পুনরালোচনা
যিহোবার কাছে কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ যে, আমরা উপযুক্ত পোশাক-আশাক পরি এবং সাজগোজ করি?
পোশাক-আশাক ও সাজগোজের বিষয়ে আমাদের কোন নীতিগুলো মনে রাখতে হবে?
আমাদের পোশাক-আশাক ও সাজগোজ দেখে লোকেরা যিহোবা এবং তাঁর মানগুলোকে কীভাবে দেখতে পারে?
আরও জানুন
আপনার পোশাক-আশাক আপনার সম্বন্ধে কী জানায়? আসুন তা জানি।
ট্যাটু করার আগে কেন সেটা নিয়ে চিন্তা করা ভালো? আসুন তা জানি।
বাইবেলের নীতি বাহ্যিক সৌন্দর্যের বিষয়ে এক ভারসাম্য মনোভাব রাখতে কীভাবে আমাদের সাহায্য করতে পারে? আসুন তা জানি।
একজন মহিলার জন্য এটা বোঝা কঠিন ছিল যে, পোশাক-আশাকের বিষয়ে প্রত্যেকের আলাদা আলাদা পছন্দ থাকতে পারে। সত্য জানার পর কীভাবে তিনি এই বিষয়ে সঠিক চিন্তাভাবনা গড়ে তুলতে পেরেছিলেন? আসুন তা জানি।
“তাদের পোশাক-আশাক ও সাজগোজ আমার জন্য বাধাস্বরূপ ছিল” (সচেতন থাক!, ডিসেম্বর ২২, ২০০৩, ইংরেজি)
-